Home আন্তর্জাতিক রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘে প্রস্তাব পাস, মিয়ানমারের বিপক্ষে ১৩৫ পক্ষে মাত্র ১০ ভোট

রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘে প্রস্তাব পাস, মিয়ানমারের বিপক্ষে ১৩৫ পক্ষে মাত্র ১০ ভোট

1

জাতিসংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ভোটাভুটির মাধ্যমে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধের প্রস্তাব পাস করেছে সদস্য রাষ্ট্রগুলো। প্রস্তাবটির পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, কানাডাসহ ১৩৫টি দেশ ভোট দিয়েছে। বিপক্ষে ভোট দিয়েছে চীন, রাশিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম ও লাওসসহ ১০টি দেশ। তবে ভোট দানে বিরত থেকেছে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী দেশ ভারত, নেপাল, শ্রীলংকাসহ ২৬টি দেশ। গতকাল (১৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার) জাতিসংঘে ৫৭টি মুসলিম দেশের সংগঠন ওআইসির আহবানে এ ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। রাখাইনে গণহত্যার শুরু থেকে ভারত সরকার এ ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে আছে দাবি করা হলেও এ ভোটাভুটিতে ভারত অংশ নেওয়ায় বিরত থাকে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যা ও নির্যাতন থেকে বাঁচতে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বাংলাদেশে ঢুকছে। -ফাইল ছবি।

পাস হওয়া প্রস্তাবটিতে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর সামরিক অভিযান বন্ধে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে আহবান জানানো হয়। সেই সাথে মিয়ানমার থেকে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার এবং তাদের পূর্ণ নাগরিকত্ব দিয়ে অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

রোহিঙ্গা সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে দফায় দফায় জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্র ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো মিয়ানমারের প্রতি রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধন বন্ধের আহবান জানালেও মিয়ানমার তাতে সাড়া দেয়নি। সেইসাথে জাতিগত নিধন ও  গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে চলেছে দেশটি।

এ অভিযান শুরু হওয়ার প্রথম দিকেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মিয়ানমার সফর করেন। সেখানে দেশটির স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির সাথে একান্তে বৈঠকে মিয়ানমারের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন তিনি। এটি ছিল ক্ষমতায় আসার পর মোদির প্রথম মিয়ানমার সফর।

এদিকে প্রতিবেশী মিত্র দেশে ভারতের অবস্থান নিয়ে শুরুতেই বাংলাদেশ দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। কারণ এ সংকটে আন্তর্জাতিক সমর্থন পেতে ভারতকে সবার আগে কাছে পাওয়ার আশা করছিল বাংলাদেশ। তখন মোদির মিয়ানমার সফরের এক সপ্তাহ পরে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে দিল্লী থেকে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ এক ফোনালাপে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।

গত ২২ অক্টোবর তিনদিনের সফরে সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশে এলে তখনও তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করার অঙ্গীকারের পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসনের পক্ষে তার সরকারের ইতিবাচক অবস্থান তুলে ধরেন। এ ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর নীতিগত অবস্থানের কথা জানান তিনি।

এ ছাড়াও আরো বিভিন্ন সরকারী বিবৃতিতে ভারত ও বাংলাদেশের কর্মকর্তারা রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত বাংলাদেশের পাশে থাকবে; এমন আশ্বাস শোনা গিয়েছিল। কিন্তু রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘে গতকালকের ভোটাভুটিতে বিরত থাকার কারণে ভারতের বাংলাদেশে থাকার আশ্বাস নিয়ে আবারও বড়সড় সন্দেহ তৈরি হল। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ের চরম সংকটকালীন মুহূর্তে প্রতিবেশী বন্ধু রাষ্ট্র ভারতের ভূমিকা আসলে কতটা ইতিবাচক, সেই প্রশ্নটি আবারও সামনে এসে গেছে।

উল্লেখ্য গত আগস্ট মাসের শেষের দিকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কর্তৃক শুরু হওয়া রোহিঙ্গা বিরোধী অভিযানে হত্যা, গণধর্ষণ, নির্যাতন থেকে বাঁচতে এখন পর্যন্ত ছয় লাখেরও অধিক রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। সাম্প্রতিক কালের বর্বরোচিত এ জাতিগত নিধনে দেশটির সামরিক বাহিনীর সাথে যোগ দেয় স্থানীয় উগ্রবাদী বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীও। আক্রান্ত রোহিঙ্গা মুসলিমদের বাঁচাতে ও আশ্রয় দিতে বাংলাদেশ সরকার সীমান্ত খুলে দেয় এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে। #

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.