Home আন্তর্জাতিক আসামের নাগরিকত্ব মামলায় জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের ঐতিহাসিক জয়

আসামের নাগরিকত্ব মামলায় জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের ঐতিহাসিক জয়

0
SHARE

ভারতের আসাম রাজ্যের নাগরিত্ব মামলায় মুসলমানদের পক্ষে রায় দিয়েছে ভারতীয় আদালত৷ এতে বিজেপির হিন্দুত্ববাদি রাজনীতির শিকার হয়ে নাগরিকত্ব থাকা না থাকা প্রশ্নে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়া আসামের ৪০ লাখ নারীর নাগরিকত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে।

আসাম নাগরিকত্ব মামলায় ২টি বিষয়ের সুরাহাকে আমলে নিয়েছিল৷ প্রথমটি ছিল আসাম সরকার বলে আসছিলো যে, নাগরিকত্বের জন্য পঞ্চায়েত সার্টিফিকেট যথেষ্ট নয়৷ আদালত এটাকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখান করেছে৷

দ্বিতীয় বিষয় ছিলো, আসামের মুসলমানগরা দ্বিতীয় স্তরের নাগরিক হিসেবে গন্য হবে৷ এটাও আদালতে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে৷ আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেছে, ভারতে ‘দ্বিতীয় স্তরের নাগরিক’ বলতে কোনো পরিভাষা নেই৷

উল্লেখ্য, আসামের ক্ষমতায় থাকা বিজেপি সরকার নাগরিকত্ব নিয়ে এমন একটি বিতর্কিত আইন পাশ করে, যাতে মুসলমানদের নাগরিকত্ব নিয়ে চরম আশঙ্কা দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে আসাম মুসলমানদের ন্যায্য অধিকারের পক্ষে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ(এম) শুরু থেকেই আইনিভাবে লড়াই শুরু করে৷ পরবর্তীতে মাওলানা সাইয়্যিদ আরশাদ মাদানীর নেতৃত্বাধীন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দও আদালতে আপিল করে জমিয়তের দুই অংশই আসামের মুসলমানদের স্বার্থে একযোগে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই শুরু করে।

মামলা চলা কালেই দিল্লীতে মাওলানা সাইয়্যিদ আরশাদ মাদানী আসামের মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার জন্য কাজ করছে- এমন একটি সংগঠনের আয়োজিত এক সেমিনারে আসামের মুসলিম নাগরিকদের পক্ষে জোরালো বক্তব্য দিয়ে হুংকার দিয়ে বলেছিলেন, “ভিটে-মাটি থেকে উচ্ছেদ করা হলে আসামের ৫০ লক্ষ মুসলমানও বসে থাকবে না। এর পরিণামে হত্যা-হিংসা, মারামারি, খুনোখুনি হবে, রক্ত ঝরবে আসামে। আর এটাকে উপলক্ষ্য করে রোহিঙ্গা ইস্যুর মতো নতুন আরেক আঞ্চলিক উত্তেজনা ছড়াতে পারে”। আল্লামা আরশাদ মাদানীর এই বক্তব্যের পর পুরো ভারত জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়ে যায়৷ এমনকি আসামসহ বিভিন্ন জায়াগায় আরশাদ মাদানির বিরুদ্ধে কয়েক ডজন ‘এফআইআর’ও দাখিল হয়৷

আসাম মুসলমানদের পক্ষে মামলার রায় প্রকাশের পর মহান আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করে গভীর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন সাইয়্যিদ আরশাদ মাদানী, সাইয়্যেদ আসজাদ মাদানী, সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানী ও আসামের পার্লামেন্ট সদস্য মাওলানা বদরুদ্দীন আজমল। তারা বলেছেন, এই মামলার রায় পক্ষে আসায় আসামের ভাগ্যাহত নারীদের ঐতিহাসিক বিজয় হয়েছে। -মিল্লাত টাইমস।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here