Home ইসলাম দ্বীন ও সুন্নাহ্ পালনের মাধ্যমেই জীবনভর রাসূল (সা.)কে ভালবাসবো

দ্বীন ও সুন্নাহ্ পালনের মাধ্যমেই জীবনভর রাসূল (সা.)কে ভালবাসবো

0
SHARE

।। জয়নব আক্তার সোহেল ।।

হযরত জাবের (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, সমস্ত নবীগণ নিজ নিজ সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষভাবে প্রেরিত হয়েছিলেন। কিন্তু আমি সর্বসাধারণের (বিশ্বের)জন্য প্রেরিত হয়েছি।(বুখারী, মুসলিম)।

আল-কুরআনে নবীদের দেখতে পাই, বিভিন্ন জাতির সংশোধনের জন্য তাঁরা কাজ করেছেন। যেমন মুসা (আ.) বনী ইসরাঈল জাতির নবী। প্রত্যেক নবীই যার যার জাতির জন্য আবির্ভূত হয়েছেন। কিন্তু শুধু নবী মুহাম্মাদুর রাসূল (সা.) এসেছেন বিশ্ববাসীর জন্য। তাঁর কাছে সাদা-কাল, ধনী-গরীব, বাদশাহ-ফকির, আর্য-অনার্য, আরব-অনারব কোন ভেদাভেদ ছিল না। তারঁ জীবনী পড়লে স্বল্প শিক্ষিত বালক পর্যন্ত বুঝতে পারবে যে, তিনি জাতি, বর্ণ ও শ্রেণী গন্ডির মধ্যে আবদ্ধ ছিলেন না। তাঁর উদার আহবান বিশ্বের প্রতিটি মানুষের জন্য। প্রতিটি ইতর প্রাণীর স্বার্থ রক্ষার প্রতিও তাঁর ছিল তীক্ষ্ণ দৃষ্টি।

হযরত আনাস (রাযি.) বলেন, আমি দশ বছর রাসূল (সা.)এর খেদমত করেছি। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে কখনো তিনি আমাকে ‘উফ্’ শব্দটি পর্যন্ত উচ্চারণ করেননি। কখনো এমনি বলেননি যে, অমুক কাজটি কেন করেছ বা অমুক কাজটি কেন করনি। (বুখারী, মুসলিম)।

এমনই ছিল আমাদের প্রিয় নবী (সাঃ)। একবার ওমর (রাযি.) রাসুল (সা.)কে বললেন, নিঃসন্দেহে আপনি আমার কাছে আমার জান ব্যতীত বাকি সব কিছু থেকে অধিক প্রিয়। হযরত রাসূল (সা.) বললেন, সে সত্তার কসম যাঁর কুদরতের হাতে আমার জীবন, হে ওমর! তুমি ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ মু’মিন হবে না, যতক্ষন পর্যন্ত আমি তোমার কাছে তোমার জান থেকেও বেশী প্রিয় না হব। অতঃপর ওমর (রাযি.) বললেন, আল্লাহর কসম! এখন আপনি আমার কাছে আমার জান অপেক্ষা অধিক প্রিয়। রাসূল (সা.)বললেন, হে ওমর!এখন তোমার ঈমান পূর্ণ হল, এখন তুমি পূর্ণ মু’মিন হলে।(বুখারী- ২:৯৮১, ফয়জুল বারী- ৮৩ পৃষ্ঠা)।

উপরোক্ত হাদীস থেকে পরিষ্কার বুঝা যায়, রাসুল (সা.)কে কীভাবে ভালোবাসতে হবে। রাসূল (সা.)কে ভালোবাসার মাধ্যম হল তাঁর সুন্নাত পালন করা, তাঁর আমলকে অনুসরন করা, তাঁর আনিত দ্বীনকে কায়েম করা। সুন্নাত পালনের মধ্যেই রয়েছে রাসুল (সা.)এর প্রতি ভালোবাসা। রাসুল (সা.)কে এগার মাস ভুলে থেকে শুধু রবিউল আউয়াল মাসে গলা ফেটে চিৎকার করে ওয়াজ করে, কিছু নাতে রাসুল পড়েই, জশনে জুলুস করে, মিলাদুন্নবী নামে বেদআতী কিছু শিরকী কাজ করলে, তাতে রাসূল (সা.)এর ভালোবাসা হয় না, হয় ভন্ডামী। রাসুল (সা.)কে প্রকৃত ভালোবাসলে তা কখনো একমাসে সীমাবদ্ধ থাকে না।

প্রকৃত ভালোবাসা প্রতিটি মুহূর্তে, প্রতিটি ক্ষণের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে।আমরা আমাদের প্রতিটি কর্ম সুন্নাত মোতাবেক পালন করে রাসূল (সা.)কে ভালোবাসবো। নবীর সুন্নাত অনুসরণ বিহীন তাঁর প্রতি ভালোবাসা অর্থহীন।

বড়ই দুঃখের সাথে বলতে হয়, আজকে এক শ্রেণীর লোক ঈদে মিলাদুন্নবীর নামে তৃতীয় এক ঈদের আবিস্কার করেছে। মুখে তারা খুব নবী প্রেমিক বলে দাবী করলেও বাস্তবে নবীর আদর্শ বলতে কিছুই নেই। মিলাদুন্নবীর নামে জন্মদিন পালন করা যদি জায়েয হত, তাহলে তো সাহাবায়ে কেরাম (রাযি.)গণ করতেন। কারণ, এ জমিনের বুকে রাসূল (সা.)কে তাঁরাই বেশী ভালোবেসেছেন।মহান চার খলিফা, সাহাবী, তাবেঈন, তাবে তাবেঈন, পরবর্তীতে বড় বড় ইমাম (যেমন- ইমাম আবু হানিফা, ইমাম শাফেয়ী, ইমাম হাম্বল ও ইমাম মালেক রাযি.) অতঃপর বড় বড় মুহাদ্দিস এর আমলে এই মীলাদ-মাহফিলের কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না।

মিলাদুন্নবী নামের প্রচলিত কার্যক্রম নবীপ্রেমের আলামতও নয়। রাসূলের প্রতি ভালোবাসা শুধুমাত্র রবিউল আউয়াল মাসে প্রদর্শন সর্বস্ব শ্লোগান দেয়ার নাম নয়, বরং প্রকৃত ভালোবাসা হচ্ছে রাসুলের আদর্শের বাস্তব অনুসরনের নাম। তেইশ বছরের জিন্দেগীর প্রতিটি কাজ উম্মতের জন্য স্বরনীয় ও করনীয়। রাসূল (সা.)এর জীবনী আলোচনা করা বরকতময় ও সওয়াবের কাজ।

তাই আসুন, আমরা আজ থেকেই রবিউল আউয়াল মাসে ঈদে মিলাদুন্নবীর নামে প্রচলিত বিদআত কার্যক্রম বন্ধ করি।আমরা বিদআত বর্জন করি এবং অঙ্গিকার করি জীবনের প্রতিটি কাজে নবীর সুন্নাতকে আকঁড়ে ধরে রাসূল (সা.)কে জনম ভরে ভালোবাসবো।

লেখকঃবসবাস’, কলেজ রোড়, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here