Home জাতীয় আওয়ামী লীগের জন্য ৫ জানুয়ারী কলঙ্কের: মির্জা ফখরুল ইসলাম

আওয়ামী লীগের জন্য ৫ জানুয়ারী কলঙ্কের: মির্জা ফখরুল ইসলাম

0
SHARE

আওয়ামী লীগের জন্য ৫ জানুয়ারী কলঙ্কের দিন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ৫ জানুয়ারি একটি কলঙ্কিত দিন বটেই। আমরা কাছে দূঃখ লাগছে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অবদান রাখা আওয়ামী লীগের জন্য এটি একটি সবচেয়ে কলঙ্কিত দিন। তারা (আওয়ামী লীগ) কোন জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে যে, তাদেরকে আজকে পুলিশ-র‌্যাব-বন্দুক-পিস্তলের সহায়তা নিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে হচ্ছে নির্বাচন না দিয়ে। নির্বাচন দিলে পরাজয় অবশ্যসম্ভাবী হবে, ভরাডুবি হবে তাদের।

গতকাল শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের ‘শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে প্রধান অথিতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়। আলোচনা সভায় গণতন্ত্র হত্যার প্রতিবাদে আইনজীবীরা কালো পতাকা প্রদর্শন করে।

দেশে গণতন্ত্র পূনরুদ্ধারে গণজাগরণ সৃষ্টি করা হবে বলে উল্লেক করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদেরকে এখন আজ জোট বেধে জেগে উঠতে হবে। মানুষকে জাগিয়ে তুলে হবে। মানুষকে জাগিয়ে তোলার মধ্য দিয়ে একমাত্র গণজাগরণ সৃষ্টি করতে হবে। জনগনকে সঙ্গে নিয়ে আমাদেরকে গণতন্ত্র পূনরুদ্ধার করতে হবে। ২০১৮ হচ্ছে- বেগম খালেদা জিয়ার বছর, বিএনপির বছর। ২০১৮ সাল হচ্ছে জনগনের বছর, গণতন্ত্রের বছর। সেটা ইনশাল্লাহ আমরা প্রমাণ করবো আন্দোলনের মধ্য দিয়ে, বিজয়ে মধ্য দিয়ে।

বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর সরকারের নিপীড়ন-নির্যাতন, মিথ্যা মামলা এবং ৭৪৪ জন ‘গুম’ হওয়ার পরিসংখ্যানও তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে আমি যখন এই অনুষ্ঠানে আসছিলাম তখন দেখলাম যে বনানী রোড়, গুলশান রোড় পুরো ব্লক। তারা ট্রাক দিয়ে, বাস দিয়ে লোক নিয়ে আসছে, সেটা(ক্ষমতাসীন দল) জায়েয। আজকে একদলীয় শাসন চলছে ভিন্ন আঙ্গিকে। শুধু পোষাকটা আলাদা। পোষাকে গণতন্ত্র লেবাসেরর ছাপ দেয়া আছে। ভেতরে একদলীয় শাসন।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা‘র পদত্যাগের প্রসঙ্গে টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, এই সুপ্রিম কোর্টকে বলা হয়, সবচেয়ে পবিত্র জায়গা, সবচেয়ে নির্ভরশীল জায়গা। যেখানে গেলে আমি অত্যাচারিত হচ্ছি, নিপীড়িত হচ্ছে সেখানে গেলে আমি আশ্রয় পাবো। সেই জায়গার কী হাল হয়েছে? তার প্রধানকে কীভাবে চলে যেতে হয়েছে? পৃথিবীতে এই ধরণের নজির কম আছে। আজকে কোন জায়গা গেলে স্বস্তি পাওয়া যাবে? আমাদের মতো রাজনীতিবিদের কথা বাদ। সাধারণ মানুষজনের অবস্থা কেমন? একটা ফ্যাসিস্ট সোসাইটিতে ভীতি, ত্রাস গোটা সমাজকে এমন করে গিলে ফেলে যে সেখানে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না। এটাকে সিকিউরিটি স্টেট বলা হয়।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম মহাসচিব সানাউল্লাহ মিয়ার পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য বোরহান উদ্দিন, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য খোরশেদ আলম, ইকবাল হোসেন, জেড এম মূর্তজা চৌধুরী তুলা, মোহাম্মদ আলী, ওয়াহিদুজ্জামান দীপু, রফিক শিকদার, খালেদা পান্না, মিয়া প্রমূখ বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও আলোচনা সভায় বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা অংশ নেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here