Home জাতীয় মিয়ানমারের মন্ত্রীর কক্সবাজার শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের প্রতিবাদে হেফাজতের মানববন্ধন

মিয়ানমারের মন্ত্রীর কক্সবাজার শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের প্রতিবাদে হেফাজতের মানববন্ধন

0

মিয়ানমার সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী উইন মিয়াট আয়ে’কে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে নিয়ে যাওয়াকে নিপীড়িত দেশহারা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাথে নির্মম তামাশা উল্লেখ করে এর প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে মানব বন্ধন করেছে ঈমান-আক্বীদা বিষয়ক অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

মানব বন্ধনে হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর ও ঢাকা মহানগর সভাপতি আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, মিয়ানমার সরকার এখনো রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ ও উচ্ছেদাভিযান বন্ধ করেনি। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদেরকে ফেরত নিতে প্রটোকল চুক্তি এবং ফেরত নিতে বার বার প্রতিশ্রুতি দিয়েও কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়নি। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পাশাপাশি বাংলাদেশের বার বার আহ্বান ও চাপ উপেক্ষা করে উচ্ছেদকৃত লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গাকে ফেরত নেয়া এবং হত্যা ও উচ্ছেদাভিযান বন্ধ না করে মানবিকতাবোধের ন্যূনতম পর্যায়কেও তারা অপমান করে চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা মন্ত্রীকে কক্সবাজারের ক্যাম্প পরিদর্শন করতে নিয়ে যাওয়াটা নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের সাথে নির্মম তামাশা ছাড়া আর কিছু নয়।

তিনি বলেন, আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বর্মী মন্ত্রীর কক্সবাজার যাওয়া এবং কক্সবাজারের পর্যটন এলাকার হোটেলে এক রাত অবকাশ যাপনের সফরসূচীতে প্রমাণিত হয় যে, কার্যতঃ রোহিঙ্গা নির্যাতন ও উচ্ছেদাভিযানকে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় তারা এখন পর্যটনের উপলক্ষে পরিণত করেছে।

আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী আরো বলেন, মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে গণহত্যা ও পাইকারী উচ্ছেদাভিযান চালিয়ে শুধুই যে জঘন্য মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, তা নয়। বরং তারা শান্তিপ্রিয় বাংলাদেশে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে জোর করে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গাকে ঠেলে দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালানোর মতো  জঘন্য অপরাধ করেছে। তারা বাংলাদেশের উপর তাদের বিশাল নাগরিকের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে আমাদের শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল নাগরিক পরিবেশকেও চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে আমি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জোর দাবী জানাচ্ছি যে, রোহিঙ্গাদেরকে পূর্ণ নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়ে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার তত্ত্বাবধানে মিয়ানমারকে ফেরত নিতে বাধ্য করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ইতিবাচক মনোভাবকে উত্তম উপায়ে কাজে লাগাতে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালায়। পাশাপাশি মিয়ানমার সরকার অতিরিক্ত গড়িমসি এবং মানবতাবিরোধী অপরাধসহ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতাবিরোধী আগ্রাসন অব্যাহত রাখলে সেটাকে কঠোরভাবে মোকাবেলা করার জন্য সামরিক প্রস্তুতিও নিয়ে রাখে।

তিনি বলেন, মিয়ানমারের খুনি সরকার ও সেনাবাহিনীকে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে বাংলাদেশ সরকারকে গণহত্যার মামলা করারও উদ্যোগ নিতে হবে। মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পাইকারী গণহত্যা ও জাতিগত উচ্ছেদের যে নির্মমতা চালিয়েছে, তার পরিণতি হিসেবে অবশ্যই মিয়ানমারের কঠোর বিচার হতে হবে।

হেফাজতে ইসলামের মানববন্ধন কর্মসূচীতে আরো বক্তব্য রাখেন, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা শেখ গোলাম আজগর, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন, মাওলানা মুহাম্মদ ফায়সাল আহমদ, মাওলানা সুলতান মুহিউদ্দীন, মাওলানা মুহাম্মদ আমীর আলী, মাওলানা মুনির আহমদ প্রমুখ।

মানবন্ধন কর্মসূচী সকাল ১১টায় শুরু হয়ে বেলা ১টায় মুনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here