Home জাতীয় আফগানিস্তানে হাফেজ হত্যার প্রতিবাদে ঢাকায় হেফাজতের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

আফগানিস্তানে হাফেজ হত্যার প্রতিবাদে ঢাকায় হেফাজতের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

0

আফগানিস্তানের কুন্দুস প্রদেশের দাস্তেআর্চি জেলার পাঠান বাজার এলাকায় মাদরাসায়ে উমরিয়্যাহ-এর হাফেজ ছাত্রদের সনদ প্রদান ও দস্তারবন্দী অনুষ্ঠান চলাকালে গত ৪ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো ও ভারতের গোয়েন্দা ও সামরিক মদদপুষ্ট আফগান বিমান বাহিনীর সন্ত্রাসী বিমান হামলায় শতাধিক আফগান নিরীহ শিশু-কিশোর হাফেজে কুরআন শাহাদাত বরণ করেছেন।

এই বর্বরতম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আজ (১৩ এপ্রিল) শুক্রবার বাদ জুমা হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরী শাখার উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সামবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইটে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও ঢাকা মহানগর সভাপতি আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী।

বক্তব্য রাখেন নায়েবে আমীর মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব, ড. আহমদ আব্দুল কাদের, মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মহানগর হেফাজতের সহসভাপতি মাওলানা মুজিবুর রজমান হামিদী, ডা. মাওলানা আব্দুর করীম, মহানগর হেফাজত নেতা মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মাওলানা জয়নুল আবেদীন, মাওলানা এবিএম শরীফুল্লাহ, মাওলানা এনামুল হক মুছা প্রমুখ।

সমাবেশ পরিচালনা করেন মহানগর হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে মুনাজাত পরিচালনা করেন প্রবীণ আলেমে দ্বীন মাওলানা জহিরুল হক ভূঁইয়া।

সভাপতির বক্তব্যে আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, আফগানিস্তানে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদি শক্তির সাথে এখন ভারতও মিলিত হয়েছে। আর পেছনে ইন্ধন যোগাচ্ছে ইসরাইল। এরা মুসলমানদেরকে শত্রু বিবেচনা করে দেশে দেশে মুসলিম নির্মুল ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এরাই আফগানিস্তান, সিরিয়া, ফিলিস্তিন, ইরাক, লিবিয়া, মায়ানমার, কাশ্মীর, আরকানসহ বিশ্বব্যাপী মুসলিম নারী শিশু ও নিরাপরাধ মুসলমানদের ওপর নির্মম হত্যাকাণ্ড চালিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চায়। এরা এতটা নিষ্ঠুর যে, আফগানিস্তানের নিষ্পাপ শিশু হাফেজদের অনুষ্ঠানে বর্বরতম হত্যাকাণ্ড চালাতেও তাদের বিবেক বাঁধেনি। মুসলমান নির্মুলের লক্ষ্যে এখন পশ্চিমা শক্তির সাথে ইহুদিবাদী ইসরাইল ও হিন্দুত্ববাদি ভারতও যোগ দিয়েছে।

আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী আরো বলেন, ‘এদেশের স্বাধীনতা-সাভৌমত্ব রক্ষার জন্য তৌহিদি জনতা প্রস্তুত রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন হতে দেওয়া যাবে না। রোহিঙ্গা মুসলমানদের নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা দিয়ে নিজ বাসভূমিতে ফেরত নিতে মিয়ামনমারকে বাধ্য করতে হবে। প্রয়োজনে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

তিনি বলেন, কমিউনিষ্ট সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পরে যুক্তরাষ্ট্র একের পর এক মুসলিম রাষ্ট্রে হামলা চালাচ্ছে। আর সম্পূর্ণ অন্যায় ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে সন্ত্রাসের অপবাদ মুসলমানদের ঘাড়ে চাপাচ্ছে। তিনি বলেন, ইসলাম শান্তি ও কল্যাণের ধর্ম, ইসলাম কখনও সন্ত্রাস অনুমোদন করে না।

হেফাজতে ইসলামের যুগ্মমহাসচিব ও ঢাকা মহানগর সহ-সভাপতি আল্লামা জুনায়েদ আল-হাবীব বলেন, সাম্রাজ্যবাদিদের আগ্রাসন এখন শুধু ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তান ও ফিলিস্তিনে সীমাবদ্ধ নয়। তাদের চক্রান্ত এখন অত্র অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। বাংলাদেশের পার্বত্যাঞ্চল নিয়ে দীর্ঘদিন এরা চক্রান্ত চালিয়ে আসছে। বর্তমানে রোহিঙ্গা সংকটকেও এরা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইতে পারে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারকে অবশ্যই সজাগ থাকতে হবে। সজাগ থাকতে হবে দেশের ১৭ কোটি মানুষকে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা যদি টেকনাফে থাকে তাহলে মিয়ানমার নিরাপদ হয় না। তাদের যদি ভাসানচরে পাঠানো হয়, তাহলে মিয়ানমার নিরাপদ হয়। ষড়যন্ত্র আমরা বুঝি। ভাসানচরে তাদেরকে (রোহিঙ্গা) নিয়ে, উপজাতিদেরকে দিয়ে খ্রিস্টান রাষ্ট্র করার প্রস্তাব যারা করেছেন, পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, উপজাতিদের কেউ যদি দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের লিপ্ত থাকে থাকে, তাহলে দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার তাগিদে বাংলাদেশের নাগরিকেরা পার্বত্য চট্টগ্রামের ওপর দিয়ে হেঁটে গেলে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারী একটা উপজাতিও বাঁচতে পারবে না।

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র চলছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতিরা জাতিসংঘের কাছে আবেদন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রামকে আলাদা রাষ্ট্র করতে। আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, বাংলাদেশের এক ইঞ্চি মাটিও কাউকে দেবো না। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা বিরোধী যে কোন ষড়যন্ত্র কঠোরভাবে দমন করার জন্য এই দেশের ১৭ কোটি জনতা প্রস্তুত। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী আজ জুলুমের রাজত্ব চলছে। সাম্রাজ্যবাদি চক্রের সাথে ইহুদীবাদি ইসরাইল এবং হিন্দুত্ববাদি ভারতও একই কাতারে মুসলমানদের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালাচ্ছে। এই অপশক্তিগুলো বিশ্বব্যাপী ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। এদের অন্যায় আগ্রাসন প্রতিরোধে মুসলিম মিল্লাহকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই।

প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে আফগানিস্তানে হাফেজে কুরআন হত্যার প্রতিবাদে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে হেফাজতের নেতা-কর্মীরা এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি বায়তুল মোকাররম থেকে শুরু করে পল্টন মোড় ঘুরে দৈনিক বাংলা মোড় হয়ে বায়তুল মোকারমের সামনে এসে শেষ হয়। #

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.