Home অর্থনীতি বাড়ছে আমদানি: ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে অর্থ অর্থ পাচারের আশংকা

বাড়ছে আমদানি: ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে অর্থ অর্থ পাচারের আশংকা

0

দেশের আমদানি বাড়ছে। আমদানি বাড়ার এ প্রবণতা বেশ আগেই শুরু হয়েছে। এখনো অব্যহতভাবে বাড়ছে আমদানি। আমদানি ব্যয় মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় বড় আকারে বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের (২০১৭-১৮) প্রথম আট মাসে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। অপরদিকে বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যেও বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এ সময়ে চলতি হিসাবে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬৩১ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

অর্থনীতির গতিধারাতে সাধারণত আমদানি ব্যয় বাড়লে রপ্তানি আয়ও বাড়ে। কারণ, বিদেশ থেকে যেসব কাঁচামাল আমদানি করা হয় তার একটি অংশ প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে রপ্তানি হয়। অতীতে এমন হয়ে আসলেও এখন যেমনটা ঘটছে না। আর আমদানির নামে ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার হয়ে যাচ্ছে বলে আশঙ্কার আভাস দিচ্ছে আমদানি ও রপ্তানি আয়ের চিত্র। যেখানে আমদানি যদি প্রকৃত অর্থে বাড়ে সেক্ষেত্রে দেশের অর্থনীতির জন্য তা ভালো কিন্তু ওভার ইনভয়েসিং হলে তা দেশের অর্থনীতির জন্য নেতিবাচক প্রভাব পড়ার যথেষ্ট আশঙ্কা আছে।

হিসাবে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই- ফেব্রুয়ারি এ আট মাসে দেশে তিন হাজার ৫৮২ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে। অপরদিকে এ সময়ে পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে দুই হাজার ৪০৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সে হিসাবে পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে হয়েছে এক হাজার ১৭৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। যেখানে গত অর্থবছরে ছিল ৬০৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার। শুধু পণ্য বাণিজ্য ঘাটতিই নয় এ সময়ে বেড়েছে সেবা বাণিজ্য ঘাটতিও। অর্থবছরের এ আট মাস শেষে মোট সেবা বাণিজ্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ২১১ কোটি ৭০ লাখ ডলার ছিল।

এদিকে লেনদেন ভারসাম্যের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের মাসিক প্রতিবেদনের তথ্য মতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে পণ্যবাণিজ্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬৩১ কোটি ৮০ লাখ ডলার। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় সাত গুণ। আর এটি পুরো অর্থবছরের চেয়ে সাড়ে চার গুণেরও বেশি। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে চলতি হিসাবের ঘাটতি ছিল ১৪৮ কোটি ডলার। তার আগের অর্থবছরে লেনদেন ভারসাম্য ৪২৬ কোটি ২০ লাখ ডলার উদ্বৃত্ত ছিল।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস রেমিট্যান্স। কিন্তু গত অর্থবছর জুড়েই দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ নিম্নমুখী ধারায় ছিল। সম্প্রতি রেমিট্যান্স ইতিবাচক ধারায় ফিরলেও তা এখনো আশাব্যঞ্জক পর্যায়ে যায়নি। আবার আমদানিজনিত চাপে দেশের ভেতরে বেড়েছে ডলারের চাহিদা। ফলে চাহিদার তুলনায় ডলারের যোগান কমে গেছে। এ কারণে ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন ঘটছে।

রপ্তানি ও আমদানির ধারা বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এ দুটির মধ্যে অনেক ক্ষেত্রেই সামঞ্জস্য হচ্ছে না। এ অসামঞ্জস্য দূর করতে রপ্তানির ক্ষেত্রে আন্ডার ইনভয়েসিং এবং আমদানির ক্ষেত্রে যেন ওভার ইনভয়েসিং না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর বিকল্প নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.