Home ওপেনিয়ন নাস্তিক নিহত, রাসূলের নামে কটূক্তি: দায় কার?

নাস্তিক নিহত, রাসূলের নামে কটূক্তি: দায় কার?

।। ত্বরিকুল ইসলাম ।।

শাহজাহান বাচ্চু- একজন তথাকথিত মুক্তচিন্তাবাদী। বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি তথা সিপিবি’র একজন নেতৃস্থানীয় সদস্য। কয়েকদিন আগে আততায়ীরা গুলি করে খুন করে তাকে। এ ধরণের হত্যাকাণ্ড অবশ্যই দু:খজনক এবং অপ্রত্যাশিত। কিন্তু কেন এই খুন- সঠিক কারণ জানা যায়নি। তবে, মুক্তচিন্তাবাদীরা অভিযোগ করে বলছেন, মৌলবাদীরাই করেছে এই খুন।

আচ্ছা, তাদের অভিযোগ অনুসারে ধরে নিলাম মৌলবাদীরাই করেছে। কিন্তু এই সুযোগ মৌলবাদীরা কীভাবে পেলো?

দেখা যাচ্ছে, শাহজাহান বাচ্চু নাস্তিকতার নামে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়িয়েছেন। রাসূল (স.)-কে নিয়ে কটূক্তি করে অন্যের ধর্মীয় অনুভূতিতে বুঝেশুনে আঘাত করেছেন। এটাই কি তার তথাকথিত মুক্তচিন্তা?

স্ক্রীনশটটি নিহত শাহজাহান বাচ্চুর আইডি থেকে নেওয়া হয়েছে। মানুষকে ফ্যাক্ট জানানোর উদ্দেশ্যে পোস্টের সাথে এটাচ করা হলো। রাসূল (স.)-কে নিয়ে তার জঘন্য কটূক্তি! নাউযুবিল্লাহ!

দেশের আলেম-উলামাগণ কখনোই কোন রকম বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সমর্থন করেন না। আর এমনটা চান না বলেই তাঁরা সব সময় ইসলামবিদ্বেষীদের জন্য কঠোর আইন পাশ করে বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করে থাকেন।

রাষ্ট্র যদি যথাসময়ে ধর্মানুভূতিতে আঘাতের দায়ে প্রচলিত ফৌজদারি দণ্ডবিধির আওতায় তার বিচার করতো, এ ধরণের ধর্মীয় বিদ্বেষ ও ঘৃণা ছড়ানো কঠোর হস্তে দমন করতো, তাহলে সংক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর ক্ষোভ নিশ্চয়ই প্রশমিত হতো এবং এমন পরিস্থিতিও রোধ করা যেতো। কিন্তু এমনটা হতে দেখা যায় না। ফলে এ ধরনের খুন হলে খুনের পক্ষেও সমর্থক দাঁড়িয়ে যেতে দেখা যায়। যেটা একটা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য কখনো কাম্য হতে পারে না।

আসলে বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে বিচারহীন খুন কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা ও সুযোগ তৈরি হয়। থাবা বাবা থেকে শুরু করে বাচ্চু পর্যন্ত প্রতিটি ঘটনায় সেটাই হয়েছে।

নাস্তিকরা শোনো, তোমাদের নাস্তিকতা তোমরা করো। কিন্তু গায়ে পড়ে অন্যের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিতে আইসো না। মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি হলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এই জায়গায় আঘাত দেওয়া মানে জাতিসংঘের রেজুল্যুশন অনুযায়ী এটা মারাত্মক মানবাধিকার লঙ্ঘন। এটা মাথায় রাইখো!

মানুষ যত বড় অপরাধই করুন, আমরা কখনোই বিচারহীন শাস্তি, অতর্কিত হামলা এবং হত্যাকাণ্ডের পক্ষে নই। কেউ আইনকে নিজের হাতে তুলে নিক, আমরা সেটারও ঘোরতর বিরোধী। বিচারহীন হত্যাকাণ্ডের সংস্কৃতি সুস্থ সমাজ ও শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্রের জন্য অবশ্যই হুমকিজনক। আমরা চাই, এ ধরণের অপ্রত্যাশিত হত্যাকাণ্ড রোধে উলামা-মাশায়েখ ও তৌহিদী জনতার দাবী মেনে নিয়ে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে কঠোর আইন পাশ করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হোক।

আর হ্যাঁ, সিপিবি কি তাহলে এই ধরনের ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিক তৈরির কারখানা? ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে চলমান আন্তর্জাতিক ওয়ার অন টেররের এদেশীয় বরকন্দাজের ভূমিকা পালন করছে সিপিবি? তাদের রাজনীতি কি এমনটাই হওয়ার কথা ছিল?

-ত্বরিকুল ইসলাম, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং জাতীয় ইংরেজি পত্রপত্রিকার কলামিস্ট

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.