Home অর্থনীতি সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতি ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে: আমদানি-রফতানিতে চলতি বছরের ঘাটতি গত...

সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতি ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে: আমদানি-রফতানিতে চলতি বছরের ঘাটতি গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ

0
আমদানি-রফতানিতে চলতি বছরের ঘাটতি গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। প্রতিকী ছবি।

অর্থনৈতিক ডেস্ক: রেকর্ড পরিমাণ আমদানি ব্যয় বাড়লেও রফতানি আয় একেবারেই বাড়ছে না। আর এতে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েই চলছে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছর শেষে সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতি ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ সময় বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় এক হাজার ৮২৬ কোটি ডলার, যা এর আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছর শেষে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি তার আগের ২০১৬-১৭ অর্থবছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এ সময় পণ্য ও সেবা উভয় বাণিজ্যেই ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮২৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় এক লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছর শেষে যার পরিমাণ ছিল ৯৪৭ কোটি ২০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ বেড়েছে ৯২ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

অর্থনীতি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবকাঠামো উন্নয়নে বড় বড় প্রকল্পগুলোর জন্য মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি করা হচ্ছে। ফলে ব্যাপক হারে বাড়ছে আমদানি ব্যয়। কিন্তু সে তুলনায় রফতানি আয় বাড়ছে না। তাই বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, উৎপাদনশীল খাতে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি করা হয়। যা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। কিন্তু দেখতে হবে আমদানির আড়ালে অর্থ পাচার হচ্ছে কিনা। কারণ ভবিষ্যতে অর্থপাচরের ফলাফল হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।

অর্থনীতি সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, বর্তমান অবস্থা অব্যাহত থাকলে চাপের মুখে পড়বে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। কারণ আমদানি বাড়লে ডলারের দাম বাড়ে। যার প্রভাব পড়ে আমদানি ও শিল্পপণ্যের দামে।

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, দেশে অবকাঠামোর উন্নয়ন হচ্ছে। মেগা প্রকল্পগুলোর জন্য মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি করা হচ্ছে। এ কারণে আমদানি ব্যয় বাড়ছে। কিন্তু সে তুলনায় রফতানি আয় বাড়ছে না। তাই ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। তাই এখন রফতানি আয় বাড়াতেই হবে। এর বিকল্প নেই।

তিনি আমদানির আড়ালে অর্থ পাচার হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়ে বলেন, যদি মূলধনী যন্ত্রপাতি বা পণ্য উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানি হয়ে থাকে তাহলে ভালো। কিন্তু আমদানির এই প্রভাব বিনিয়োগ খাতে দেখা যাচ্ছে না। তাই আমদানির নামে অর্থপাচার হচ্ছে কি না তা সংশ্লিষ্টদের খতিয়ে দেখতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৭-১৮ অর্থবছর শেষে ইপিজেডসহ রফতানি খাতে বাংলাদেশ আয় করেছে ৩ হাজার ৬২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এর বিপরীতে আমদানি বাবদ ব্যয় করেছে ৫ হাজার ৪৪৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এ হিসাবে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮২৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার বা এক লাখ ৫৩ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকার বেশি। এই সময়ে, আমদানি বেড়েছে ২৫ দশমিক ২৩ শতাংশ। এর বিপরীতে রফতানি বেড়েছে মাত্র ৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ। অন্যদিকে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ফলে চলতি হিসাবে ঘাটতি বেড়েছে।

আলোচিত সময়ে সেবা খাতে বেতনভাতা বাবদ বিদেশিদের পরিশোধ করা হয়েছে ৯১১ কোটি ডলার। বিপরীতে বাংলাদেশ এ খাতে আয় করেছে মাত্র ৪৫৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার। ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪৫৭ কোটি ডলার। যা গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩২৮ কোটি ডলার।

বৈদেশিক ঋণ ও ধার-দেনার পরিমাণও বেড়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে বিদেশি ঋণ গ্রহণ বেড়েছে। আলোচ্য সময়ে আর্থিক হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এ ধরনের ঋণ এসেছে ৫৭৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা আগের একই সময়ের তুলনায় ৭৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেশি। বিদেশি ঋণ বাড়লেও বিদেশি বিনিয়োগ কমে এসেছে। এ সময় সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে ২৭৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের চেয়ে ৭ দশমিক ৯০ শতাংশ কম। অন্যদিকে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগও কমেছে। অর্থবছর শেষে শেয়ারবাজারে ৩৬ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে। যা তার আগের অর্থবছরে ছিল ৪৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.