Home শীর্ষ সংবাদ সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সেনা মোতায়েন করে নির্বাচন দিতে হবে:...

সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সেনা মোতায়েন করে নির্বাচন দিতে হবে: জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম

0
গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত জমিয়তের সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন দলের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী। ছবি- উম্মাহ।

উম্মাহ রিপোর্ট: দেশকে রাজনৈতিক সংঘাত ও বিশৃঙ্খলার হাত থেকে রক্ষা এবং একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীন সংসদ নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। একই সাথে দলটি নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙ্গে দেওয়া এবং নির্বাচনে সেনা মোতায়েনেরও দাবি জানিয়েছে।

গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী এসব দাবির কথা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেছেন, ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারীর জাতীয় নির্বাচনটি ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাবিহীন একটি পাতানো নির্বাচন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভাষায় উক্ত বিতর্কিত নির্বাচনটি ছিল নিয়ম রক্ষার নির্বাচন। সময়মত গ্রহণযোগ্য আরেকটি নির্বাচনের প্রতিশ্রুতিও তিনি তখন দিয়েছিলেন কিন্তু দুর্ভাগ্য যে, তিনি তাঁর সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি। ফলশ্রুতিতে পরিণতি যা হওয়ার তাই হয়েছে। আইন, বিচার ও প্রশাসনসহ দেশের কোন প্রতিষ্ঠানে আজ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নেই। গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ হেন অপকর্ম নেই যা বর্তমান সরকার করেনি। সর্বত্র দূর্নীতি আর দূর্নীতি। ব্যাংক লুট, রিজার্ভে থাকা স্বর্ণ লুট, কয়লা লুট, পাথর লুটসহ সব অপকর্মই হয়েছে। এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না।

জমিয়ত মহাসচিব বলেন, এক তরফাভাবে গায়ের জোরে বহু আন্দোলন ও সংগ্রামের ফসল “তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা” সরকার বাতিল করে দিয়েছে। ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করার মানসিকতা আজ দেশের মধ্যে গভীর সংকট সৃষ্টি করেছে। এই মানসিকতা পরিহার করা না হলে দেশে গৃহযুদ্ধ অবধারিত। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হয়ে পড়বে অনিরাপদ। তাই কোন প্রকার তালবাহানা না করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা সরকারকে করতে হবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া জনমত প্রতিফলিত হয় না। তাই প্রত্যেক ভোটার যেন নির্ভয়ে ও স্বাধীন ভাবে কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট নিজে দিতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনী প্রচারণায় সকল রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগ দিতে হবে। এ দাবীগুলো এখন আর কোন এক নির্দিষ্ট দলের দাবী নয়। এগুলো জাতীয় দাবীতে পরিণত হয়েছে।

সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন দলের সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব, মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, যুগ্ম মহাসবিচ মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মুফতী মুনীর হোসাইন কাসেমী, অর্থ সম্পাদক মাওলানা জাকির হোছাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতী নাসিরুদ্দীন খান, দফতর সম্পাদক মাওলানা আব্দুল গাফ্ফার ছয়ঘরি, যুব জমিয়ত বাংলাদেশের সভাপতি শরফুদ্দীন ইয়াহইয়া কাসেমী, মাওলানা বশীরুল হাসান খাদিমানী, মাওলানা মাহবুবুর রহমান, মাওলানা নূর মোহাম্মাদ ও মাওলানা ওমর আলী প্রমুখ।

আল্লামা কাসেমী তাঁর লিখিত বক্তব্যে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবী জানিয়ে বলেন, নির্বাচনের দিনসহ নির্বাচনের আগে-পরে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী নিয়োগ করতে হবে। তিনি নর্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্বে বর্তমান সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানান। তিনি বলেন এর জন্য প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধনসহ যে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জমিয়ত মহাসচিব দেশনেত্রী বেগম খালেজা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি দাবী করেন এবং তাঁর পছন্দমত হাসপাতালে সু-চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.