Home অন্যান্য শিশু যৌন নিপীড়নের দায়ে জার্মানীতে দেড় সহস্রাধিক পাদ্রী অভিযুক্ত

শিশু যৌন নিপীড়নের দায়ে জার্মানীতে দেড় সহস্রাধিক পাদ্রী অভিযুক্ত

0
– প্রতীকি ছবি।

উম্মাহ অনলাইন: গত ৬ দশক ধরে বিভিন্ন নথিপত্রের ভিত্তিতে তৈরি গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্য ওঠে এসেছে যে, জার্মানিতে ক্যাথলিক চার্চের যাজকদের দ্বারা লাখো শিশু যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। জার্মান বিশপস কনফারেন্সের সহযোগিতায় এই গবেষণা করা হয়েছে। ৩ হাজার ৬৭৭টি ঘটনা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তৈরি করা হয়েছে প্রতিবেদনটি৷ গত বুধবার জার্মান পত্রিকা ‘ডেয়ার স্পিগেল’-এ প্রতিবেদনটি ছাপা হয়।

গিসেন, হাইডেলবার্গ এবং মানহাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৪৬ সাল থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ১ হাজার ৬৭০ জন যাজককে চিহ্নিত করেছেন গবেষকরা, যাদের দ্বারা শিশুরা যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিল। যৌন হয়রানির শিকার শিশুদের বয়স ১৩ বছরের কম এবং তাদের বেশিরভাগই ছেলে।

বিশ্বব্যাপী ক্যাথলিক চার্চগুলোতে যৌন নিপীড়নের ঘটনা নিয়ে যখন নিন্দার ঝড় উঠেছে, ঠিক সে সময়ই প্রকাশতি হলো প্রতিবেদনটি। পোপ ফ্রান্সিস এ নিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন এবং নিপীড়িতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। কিন্তু নিপীড়কদের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় সমালোচনাও হয়েছে তাঁর।

জার্মানিতে নিপীড়নের শিকার শিশুদের প্রতি ৬ জনের মধ্যে একজন ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এক তৃতীয়াংশ ঘটনায় চার্চের মাধ্যমে নিপীড়কের সঙ্গে শিশুটির যোগাযোগ হয়েছে।

বিশপ’স কনফারেন্সের পক্ষ থেকে বিশপ স্টেফান আকেরমান এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে লজ্জাজনক উল্লেখ করে বলেছেন, এই ঘটনাগুলো তাদের বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে। তিনি জানিয়েছেন, ‘এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল চার্চের অন্ধকার দিকটা তুলে ধরা এবং নিজেদের মধ্যে যে দোষগুলো রয়েছে, সেদিকে আলোকপাত করা, যাতে এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়’।

জার্মান পত্রিকা ‘ডি সাইট’ তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তথ্য সংগ্রহের সময় গবেষকদের চার্চের নথিপত্র দেখার অনুমতি দেয়া হয়নি। তাঁরা বিভিন্ন চার্চের বিশপদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছেন।

নির্যাতিতদের অধিকার রক্ষায় কাজ করে এমন একটি গ্রুপ ‘একিগের টিশ’-এর প্রধান মাটিয়ান কাটশ জানালেন, এই গবেষণাটি বাস্তবতার ক্ষুদ্র একটি অংশ, কেননা, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নির্যাতিতরা কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি। ঘটনার নথিপত্র নষ্ট করে ফেলা হয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঘটনা নথিবদ্ধ করা হয়নি। তাই রাজনীতিবিদ এবং সুশীল সমাজের প্রতি স্বতন্ত্র তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

জার্মান রাজনীতিবিদরা এরইমধ্যে এসব ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করে বলেছেন, জার্মান বিচারব্যবস্থার উপর এর তদন্তভার দেয়া উচিত, কেননা, বেশিরভাগ চার্চ অভ্যন্তরীণভাবে এসব ঘটনার মীমাংসা করে৷ এক্ষেত্রে নির্যাতিতরা ঘটনার কথা জানালেও নিপীড়ককে খুব সামান্য শাস্তি দেয়া হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সতর্ক করে দেয়া ছাড়া আর কিছুই করা হয় না।

জার্মানির শহর ফুলদায় আগামী ২৫ শে সেপ্টেম্বর এই গবেষণার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.