Home জাতীয় সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল করে পরিপত্র জারি

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল করে পরিপত্র জারি

0

গত ৩ অক্টোবর বুধবার মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোটা পদ্ধতি সংশোধন করে পরিপত্র জারি করেছে সরকার। গতকাল (বৃহস্পতিবার) জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহম্মদ সই করা এই পরিপত্র জারি করা হয়। কোটা বাতিলে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের অবরোধ ও বিক্ষোভ চলার মধ্যেই এই পরিপত্র জারি করা হলো।

পরিপত্রে বলা হয়, “নবম গ্রেড (আগের প্রথম শ্রেণি) এবং দশম থেকে ১৩তম গ্রেডের (আগের দ্বিতীয় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হবে। বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হলো।”

পরিপত্রে আরও বলা হয়, সকল সরকারি দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন করপোরেশনের চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১৯৯৭ সালের ১৭ মার্চ জারি করা কোটা পদ্ধতি সংশোধন করা হলো।

গত ৩ অক্টোবর (বুধবার) মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন “আগামী দুই বা তিন দিনের মধ্যে এই প্রজ্ঞাপন জারি হবে এবং পরিপত্র জারির দিন থেকেই সেটা কার্যকর হবে। তবে সরকার যদি ভবিষ্যতে মনে করে কোনও অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য কোটার দরকার আছে, তবে তার পথও খোলা আছে। তখন সরকার আবারও কমিটি করে ব্যবস্থা নেবে। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সব ধরনের কোটা বহাল থাকবে। অর্থাৎ এই চাকরিতে তারা কোটা পাবেন।”

এতদিন সরকারি চাকরিতে নিয়োগে ৫৬ শতাংশ পদ বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষিত ছিল। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩০ শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, জেলা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ৫ শতাংশ, প্রতিবন্ধী ১ শতাংশ।

সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোটার পরিমাণ ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবিতে কয়েক মাস আগে জোরালো আন্দোলন গড়ে তোলে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। পর তা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলন চলাকালে দুই দফায় পুলিশ শিক্ষার্থীদের মারধর করে। এক পর্যায়ে ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন। কিন্তু প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা আবারও আন্দোলনে নামেন। পরে ছাত্রলীগও আন্দোলনকারীদের মারধর করে। এরপর গত ২ জুলাই সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটাপদ্ধতি পর্যালোচনা, সংস্কার বা বাতিলের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের নেতৃত্বে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সচিবদের নিয়ে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে সরকার। গত ১৭ সেপ্টেম্বর কমিটি তাদের প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জমা দেয়।

সরকারের এই কমিটি তাদের প্রতিবেদনে কোটা বাতিলের বিষয়ে বিভিন্ন যুক্তি-প্রমাণ তুলে ধরে। এই কমিটির সুপারিশ অনুমোদন করে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রিসভা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.