Home রাজনীতি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন ছাড়া দেশে শান্তি ফিরে আসবে না: মুফতী...

সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন ছাড়া দেশে শান্তি ফিরে আসবে না: মুফতী মুনির হোসাইন কাসেমী

0

উম্মাহ রিপোর্ট: জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতী মুফতী মুনির হোসাইন কাসেমী বলেছেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সরকারকে অবশ্যই নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবী মেনে নিয়ে তফসিল ঘোষণার আগেই বর্তমান সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে। ২০ দলীয় জোটনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে ব্যর্থ বর্তমান পক্ষপাতদুষ্টু নির্বাচন কমিশনকে ভেঙ্গে দিয়ে সকল রাজনৈতিক দলের সাথে পরামর্শের ভিত্তিতে নতুনভাবে নির্বাচন কমিশন গঠন এবং ইভিএমে ভোট গ্রহণের উদ্যোগ বাতিল করতে হবে। এছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন কোনভাবেই সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সম্প্রতি আনুষ্ঠিত ৪ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মতো পরিকল্পিত ও সাজানো নির্বাচন জনগণ কখনোই মেনে নেবে না।

গতকাল (৪ অক্টোবর) বৃহস্পতিবার বিকেলে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ-এর সহযোগী সংগঠন ‘যুব জমিয়ত বাংলাদেশ’-এর কাউন্সিল সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় মুফতী মুনির হোসাইন কাসেমী আরো বলেন, রাজনীতিবিদ ও দেশের জনগণকে আগে নির্ণয় করতে হবে যে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যাটা কী? যদি কেউ এ পর্যায়ে বলেন, সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অবক্ষয়, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও ভারতীয় আগ্রাসনই সবচেয়ে বড় সমস্যা, তবে এমন বক্তব্যের সাথে দ্বিমত পোষণ করে বলব, এর চেয়েও আরো ভয়াবহ সমস্যা হচ্ছে বাংলাদেশের বর্তমান ফ্যাসিবাদি চরিত্রের শাসন ব্যবস্থা। বিদেশী আগ্রাসন ও জুলুম-অত্যচার থেকে মুক্ত করে দেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হবে সবার আগে বর্তমান ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে ন্যায়-নীতি ও ইনসাফকামী আমাদের সকল রাজনীতিবিদ ও জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আর এই ফাসিস্ট শাসন থেকে মুক্তির সহজ পথ হচ্ছে, সকল দলের অংশগ্রহণে একটা বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন। আর সেই বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন এই সরকারের ও নির্বাচন কমিশেরন অধীনে কখনো হবে না।

তিনি বলেন, দেশে যদি জনগণের সরকার ক্ষমতায় আসে এবং জাতি যদি ন্যায়-নীতি ও ইনসাফের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকে, তবে অন্যায়, অবিচার, দুর্নীতি ও বিদেশী আগ্রাসনের মোকাবেলা মোটেও কঠিন কিছু নয়।

কাউন্সিল অধিবেশনে যুব জমিয়তের বিগত সেশনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন জেলা ও মহানগর প্রতিনিধিগণ বক্তব্য রাখেন।
নেতৃবৃন্দের বক্তব্য শেষে কাউন্সিল অধিবেশে ৩ বছর মেয়াদী আগামি ২০১৮-২১ সেশনের জন্য মাওলানা তামহীমুল হককে সভাপতি, মাওলানা ইসহাক কামালকে সাধারণ সম্পাদক, মাওলানা গিয়াস উদ্দিনকে সাংগঠনিক সম্পাদক ও মাওলানা রেজাউল কারীমকে প্রচার সম্পাদক করে ৯১ সদস্য বিশিষ্ট যুব জমিয়ত বাংলাদেশ’র কেন্দ্রীয় কমিটির প্যানেল প্রস্তাব উপস্থাপন করেন জমিয়তের কেন্দ্রীয় যুগ্মমহাসচিব ও যুববিষয়ক উপকমিটির আহবায়ক মুফতি মুনির হোসাইন কাসেমী৷

সংগঠনের বিদায়ী সভাপতি মাওলানা শরফুদ্দিন ইয়াহইয়া কাসেমীর সভাপতিত্বে কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান অথিতির বক্তব্য রাখেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’র সংগ্রামী মহাসচিব শায়খুল হাদীস আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী। বিশেষ অথিতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- মূল দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’র কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসূফী, মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব, প্রচার সম্পাদক মাওলানা জয়নুল আবেদীন প্রমুখ।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.