Home শীর্ষ সংবাদ খাশোগি কনস্যুলেট ছেড়েছেন তার প্রমাণ দিন: সৌদি কর্মকর্তাদের প্রতি এরদোগান

খাশোগি কনস্যুলেট ছেড়েছেন তার প্রমাণ দিন: সৌদি কর্মকর্তাদের প্রতি এরদোগান

0

উম্মাহ ডেস্ক: নিখোঁজ সাংবাদিক জামাল খাশোগি সৌদি কনস্যুলেট ত্যাগ করেছেন বলে যে দাবি সৌদি আরব করছে, তার প্রমাণ হাজির করতে দেশটির কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তইয়্যেপ এরদোগান।

এদিকে তার নিখোঁজ হওয়া নিয়ে একটি তদন্তে সৌদি আরবকে সহায়তা করার অনুরোধ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সৌদি আরবের সাবেক পত্রিকা সম্পাদক, দেশটির সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টের প্রদায়ক জামাল খাশোগি গত মঙ্গলবার ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেটে ঢোকার পর নিখোঁজ হন। এতে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছানির্বাসনে যান সাংবাদিক জামাল খাশোগি। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসন ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর ধরপাকাড়ের কড়া সমালোচনা করেন এ সাংবাদিক। সৌদি কর্তৃপক্ষ বলেন, কনস্যুলেটে ঢোকার কিছুক্ষণ পরেই তিনি চলে যান। কিন্তু বাইরে অপেক্ষারত তার বাগদত্তা বলেন, কনস্যুলেটে ঢোকার পর তাকে আর দেখা যায়নি।

এরদোগান বলেন, আমরা খাশোগির নিখোঁজ নিয়ে তদন্তের যথাসম্ভব দ্রুত ফল দেখতে চাই। খাশোগি কনস্যুলেট থেকে বেরিয়ে গেছে বলে সৌদি কর্মকর্তারা পার পাবেন না। তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এ মামলা পর্যবেক্ষণ করছেন। কিন্তু এ সংক্রান্ত কোনো তথ্যপ্রমাণ তুরস্ক সরকারের হাতে নেই।

খাশোগির মৃত্যুতে আমেরিকার ওপর চাপ

সাংবাদিক জামাল খাশোগির মৃত্যুর জন্য সৌদি সরকারের কাছে জবাব চাইতে আমেরিকার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট। পত্রিকার সম্পাদকীয়তে আজ এ নিয়ে জোরালো দাবি তোলা হয়েছে। জামাল খাশোগি এ পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন।

ওয়াশিংটন পোস্ট বলেছে, যদি সৌদি সরকার মৃত্যুর কারণ না জানালে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া উচিত। পত্রিকাটি আরো বলেছে, সৌদি কতৃপক্ষ যদি খাশোগির বিষয়ে তথ্য দিতে না চায় তাহলে আমেরিকার উচিত হবে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সমস্ত সামরিক সম্পর্ক ছিন্ন করা।

মঙ্গলবার বিকেলে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেট পরিদর্শনের পর নিখোঁজ হন জামাল খাশোগগি। তিনি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টে কন্ট্রিবিউটর হিসেবে কাজ করতেন। নিজ দেশের নীতিমালার কঠোর সমালোচক ছিলেন তিনি। বিশেষ করে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সংস্কার পরিকল্পনার বিরোধী তিনি। এক সময় সংবাদপত্র আল ওয়াতানের সম্পাদক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন তিনি। কাজ করেছেন একটি সৌদি টেলিভিশন চ্যানেলেও।

ওয়াশিংটন পোস্ট ছাড়াও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক অনুষ্ঠানগুলোতে কন্ট্রিবিউটর হিসেবে কাজ করেন তিনি। সৌদি রাজপরিবারের উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন খাশোগগি।

প্রসঙ্গত, সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার জন্য সৌদি আরব থেকে ১৫ জনের একটি বিশেষ দল পাঠানো হয়েছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.