Home ইতিহাস-ঐতিহ্য ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে আত্মসচেতন হতে হবে

ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে আত্মসচেতন হতে হবে

0

।। মুফতী মুনির হোসাইন কাসেমী ।।

মানুষের জীবনে বর্তমানের মত অতীতও ছিল; ভবিষ্যতও আছে। আমরা প্রায় সবাই বর্তমান নিয়ে ব্যস্ত থাকি। অতীতের দিকে ফিরে তাকাই না। আর ভবিষ্যত নিয়ে ভাবনার অবকাশ অনেকেরই থাকে না। আসলে বর্তমান এবং ভবিষ্যত কিন্তু অতীতের ভিত্তিভূমিতে দাঁড়িয়ে আছে। তাই বর্তমানের এবং ভবিষ্যতের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যে সফলতা পেতে হলে অতীতকে উপেক্ষা করা সমীচীন নয়। সুতরাং অতীতকে জানতেই হবে। কবি বলেছেন- ‘হে অতীত, কথা কও’। অতীত একটা সময় মাত্র। তা কোন ব্যক্তি নয়। কেমন করে কথা বলা তার পক্ষে সম্ভব হবে? তাহলে কি এটা কবির প্রলাপ? অবশ্যই নয়। অতীতের কথা শুনতে হলে আমাদেরকে ইতিহাসের আশ্রয় নিতে হবে। ইতিহাসই অতীতের কথা বলে।

বলা হয়ে থাকে, আমাদেরকে ইতিহাস থেকে শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে। ইতিহাসের শিক্ষা কি? ইতিহাসে মানব জাতির বিগত দিনের যেসব বিষয়াদি লিপিবদ্ধ আছে, তা আমরা জানতে পারি ইতিহাস পাঠ করলে। সেই ইতিহাসে মানব জাতির রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক উত্থান-পতনের কথা লেখা রয়েছে। অতীতের সংঘাত-সংগ্রাম, জয়-পরাজয়, কার্যকারণের বিশদ ব্যাখ্যা ইতিহাসে পাওয়া যায়। সেগুলো অভিনিবেশ সহকারে পাঠ করে তা কাজে লাগালে আমাদের যে শিক্ষা লাভ হয়, তার ফলশ্রুতিতে আমাদের বর্তমান এবং ভবিষ্যতের মঙ্গল আসতে পারে। আমরা ঠকে জিতে ভুক্তভোগী হতে পারি। আবার অতীতকালের ইতিহাস ঘেঁটেও ভুক্তভোগী হওয়া সম্ভব। ভুক্তভোগীরাই জীবনে ভুল করে কম। অতএব, আমাদেরকে অবশ্যই ইতিহাস সচেতন হতে হবে।

আমরা ইতিহাস থেকে শিক্ষাগ্রহণ করি না বলেই আমাদের দুর্গতি দৈনন্দিন বেড়েই চলেছে। আমরা বলি, “অবস্থার শিকার”। কিন্তু কেন আমরা অবস্থার শিকার হই? কেন আমরা পিছন ফিরে তাকাই না? কেন আমরা চোখ কান মন মননকে কাজে লাগাই না? আজ বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা অত্যাচারিত, দুর্দশাগ্রস্ত। এর কারণ কি? আল্লাহ্ কি মুসলমানদেরকে সর্ববিষয়ে অভাবগ্রস্ত রেখেছেন? তা তো নয়। মুসলমানদের জনসংখ্যা বৃদ্ধি হচ্ছে। মুসলমানদের মেধা মননে ঘাটতি নেই। মুসলিম দেশে তেল গ্যাস সোনার অভাব নেই। আল্লাহ্ তাদেরকে সব দিয়েছেন। তাদের মধ্যে যা নেই, তা হল পারস্পরিক ঐক্য। আর তারা অতীত দিনের গৌরবময় ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে না। তারা আল্লাহ্ এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রদর্শিত পথ পুরোপুরি অনুসরণ করছে না। তারা এখন মার্কস্বাদী, ডারউইনবাদী, সংস্কারবাদী সেজেও মার খাওয়ার কবল থেকে অব্যাহতি পাচ্ছে না।

আদি মানব হযরত আদম (আ.)কে পয়দা করে আল্লাহ্ তাকে সিজদা করার জন্য ফেরেশ্তাদেরকে হুকুম করলেন। ফেরেশ্তাদের সর্দার ইবলিস আল্লাহ্র হুকুম অমান্য করে অভিশাপগ্রস্ত হয়ে আদম (আ.)এর দুশমনে পরিণত হয়। তখন থেকেই ইবলিস মনুষ্যজাতির দুশমন। আল্লাহ্ কুরআনে ইবলিসের দাগাবাজি থেকে অব্যাহতির জন্য মানুষকে সাবধান করে দিয়েছেন। তথাপি আদম (আ.)এর স্ত্রী বিবি হাওয়া (আ.) এবং তার প্ররোচণায় স্বয়ং আদম (আ.) ইবলিসের ধোঁকায় পড়ে নিষিদ্ধ গন্ধম ভক্ষণ করে বেহেশ্ত থেকে দুনিয়ায় প্রেরিত হন। অবশ্য আল্লাহ্ তাঁদেরকে মাফ করে দেন।

অতঃপর হযরত আদম (আ.) এবং হযরত নূহ্ (আ.)এর পুত্রদ্বয় যথাক্রমে কাবিল এবং কিনান শয়তানের ধোঁকায় পতিত হয়। নমরূদ ফিরাউন ইবলিসের ধোঁকায় পড়ে আল্লাহ্কে অস্বীকার করে। হযরত মূসা (আ.)এর যামানায় বহু লোক তার প্রদর্শিত পথে চলেনি। হযরত ঈসা (আ.) ইহুদীদেরকে সৎপথ প্রদর্শনে অক্লান্ত পরিশ্রম করলেও তারা হিদায়াতের পথে আসেনি। তার অনুসারীরা কালক্রমে নিজেদেরকে খ্রীস্টান বলে দাবী করে এবং ঈসা (আ.)কে তারা আল্লাহর পুত্র বলে পরিচয় দেয়। এমতাবস্থায় আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ এবং শেষনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দুনিয়ায় পাঠালেন। আরবের পৌত্তলিকেরা তার উপর চালিয়েছে নির্মম নির্যাতন।

লক্ষণীয়, ইবলিস মানব জাতির দুশমন। আর ইহুদী-খ্রীস্টান-মুশরিকরা ইবলিসের সাগরেদ। তারা বরাবরই মুসলমানের দুশমন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ ইরশাদ করেন- “তোমরা পরিপূর্ণরূপে দ্বীন ইসলামে প্রবেশ কর এবং শয়তানের অনুসরণ করো না, নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু”। (সূরা বাক্বারাহ- ২০৮)।

অন্যত্র বলেন- “তোমরা ইহুদী এবং খ্রীস্টানদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না”। (সূরা মায়েদাহ- ৫১)।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ ইবলিস এবং ইহুদী-নাসারা-মুশরিকদের বিষয়ে মুসলমানদেরকে বহুবার সাবধান করেছেন। মুসলমানদের কর্তব্য হচ্ছে, কুরআন-হাদীস থেকে শিক্ষাগ্রহণ করা। অতঃপর ইতিহাসের শিক্ষাগ্রহণ। বর্তমানে মুসলমান কুরআন-হাদীস থেকে শিক্ষাগ্রহণ করছে না। ইতিহাসও তাদেরকে প্রভাবিত করছে না। তা যদি হত, তাহলে মুসলিম দেশের মুসলমানরা কেন ইসলাম বিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত হবে? মুসলমান কেন মুসলমানের পাশে এসে দাঁড়ায় না? কেন মুসলিম দেশের বিপদাপদে মুসলিম দেশের লোকদের কোন মাথাব্যথা নেই? মুসলমান কেন মুসলিম নিধনযজ্ঞে ইহুদী-নাসারা-মুশরিকদের সহযোগী হয়?

ইসলামী খিলাফতের যুগে সেনাপতি খালিদ-ওয়ালিদ-মূসা-তারিকের শৌর্য-বীর্যে অর্ধ্বজগতে ইসলামী খিলাফত তথা মুসলিম শাসন বিস্তৃতি লাভ করে। মুসলমানদের ইনসাফ এবং সুশাসনের কথা ইতিহাসে লিপিবদ্ধ আছে। তবু খ্রীস্টান জগত মুসলিম শাসন সহ্য করতে পারেনি। মুসলিম শাসনামলে স্পেন একটি উন্নত দেশ বলে পরিগণিত ছিল। তবু খ্রীস্টান রাজারা দীর্ঘ মেয়াদী ক্রুসেড চালিয়ে সেখান থেকে মুসলমানদেরকে উৎখাত করেছিল।

কর্ডোভার পতন প্রাক্কালে খ্রীস্টান রাজা ফার্ডিনান্ডের লোকেরা লক্ষ লক্ষ বেসামরিক মুসলমান নর-নারীকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। তাদের একটাই অপরাধ যে, তারা মুসলমান ছিল।
বিন কাসিম সিন্ধু বিজয়ের পর সেখানে সুশাসন কায়েম করেও রেহাই পাননি। পৌত্তলিকদের ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হয়েছিল তাঁকেও। ভারতে মুসলিম শাসনে সাম্প্রদায়িকতা ছিল না। ভারতীয় হিন্দুরা তখন মুসলিম সাম্রাজ্যের বড় বড় রাজপদে সমাসীন ছিলেন। তথাপি ভারতীয় হিন্দুরা মুসলমানদেরকে কখনও সুনজরে দেখেনি। সম্রাট বাবরকে ভারত থেকে তাড়াবার জন্য রানা সংগ্রাম সিংহ ছিলেন সদা তৎপর।

চিতোরের রানা প্রতাপ সিংহও উদার মোঘল সম্রাট আকবরকে সহ্য করতে পারতেন না। সম্রাট আলমগীর; যাঁকে বলা হত যিন্দাপীর, তার বিরুদ্ধেও মহারাষ্ট্রের শিবাজী বরাবর নাশকতায় লিপ্ত থেকেছে। এমনিভাবে বাংলার নবাব সিরাজুদ্দৌলা, মহিশূরের টিপু সুলতান, অযোধ্যার নবাব; কারো প্রতিই হিন্দুরা খুশী ছিল না। তারা ব্রিটিশ বেনিয়া কোম্পানীর সংগে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে ভারতে মুসলিম শাসনের অবসান ঘটায়। অতঃপর ব্রিটিশ রাজত্বে হিন্দুরা ক্ষমতাশালী হয়ে ভারতীয় মুসলমানদের উপর নির্যাতন চালায়। এ সবই ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ রয়েছে।

যখন ভারত থেকে ইংরেজ খেদানোর আন্দোলন শুরু হয়, তখন হিন্দু মুসলিম সকলেই এ আন্দোলনে শামিল ছিলেন। কিন্তু তার পূর্বে মুসলমানরা যখন ইংরেজ কোম্পানীর বিরুদ্ধে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই করছিল, তখন হিন্দুরা সহযোগী হয়নি, বরং ইংরেজকেই মদদ যুগিয়েছে। মুসলমান নেতারা যখন উপলব্ধি করলেন যে, হিন্দুদের সংগে আন্দোলন করে ভারত থেকে ইংরেজ তাড়াতে সমর্থ হলেও মুসলমানরা লাভবান হবে না। তখনই গঠিত হয় মুসলমানদের পৃথক রাজনৈতিক দল মুসলিম লীগ। মুসলিম লীগ গঠিত হয়েছিল বলেই ভারত বিভক্ত হয়ে মুসলমানদের আবাসভূমি পাকিস্তানের জন্ম হয়েছিল। আজকের বাংলাদেশ তখন পাকিস্তানের ভাগে পড়েছিল বলেই পাকিস্তানীদের সংগে সংগ্রাম করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যূদয় সম্ভবপর হয়েছিল। না হয় আমাদের এই স্বাধীন দেশটাকেও হয়তো এতদিন কাশ্মীর, হায়দারাবাদের মাতো ভারতের করদ রাজ্য হয়ে যাঁতাকলে নিষ্পেষিত হতে হতো।

আমাদের দেশের একদল বুদ্ধিজীবি, লেখক, রাজনীতিবিদ এখনও মাঝে মাঝে ভারত বিভক্তির জন্য আফসোস করেন। এ আফসোস হিন্দুদের পক্ষে মানায়। কেননা, তাদের ইচ্ছা ছিল অখ- ভারতে রামরাজত্ব প্রতিষ্ঠার। মুসলমানদের সেই রামরাজত্বে কী ফায়দা হত? বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন তো অভিমত ব্যক্ত করেছেন তার লেখায়- ‘ভারত বিভক্তির সীমারেখা রাবার দিয়ে ঘঁষে তুলে ফেলতে ইচ্ছে করে’। এরা হুজুগে বাঙালি। অতীত ইতিহাস দূরে থাক, বর্তমান থেকেও তারা শিক্ষাগ্রহণ করছে না।

ভারত বিভক্তির সংগে সংগে ভারতীয় হিন্দুরা বিহারী মুসলমানদেরকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। মুসলিম অধ্যুষিত দেশীয় রাজ্য কাশ্মীর, হায়দারাবাদ দখল করে নিয়েছে। সেই ’৪৭ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত কাশ্মীরী মুসলমানরা নির্যাতন ভোগ করছে। অযোধ্যার বাবরী মসজিদ ভেংগে সেখানে রামমন্দির বানাবার লক্ষ্যে মুসলমানদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করে চলেছে। বানোয়াট অজুহাত খাড়া করে গুজরাট রাজ্যেও আহমদাবাদে হাজার হাজার মুসলমানকে হত্যা করেছে। এই হত্যাকান্ড চালাতে তারা হিংস্র জানোয়ারকেও হার মানিয়েছে। গুজরাটের মুসলমানদের সেখানে বসবাস অসম্ভব করে তুলেছে।

যদি ভারত অখন্ড থাকত, সেই ভারতে বসবাসকারী মুসলমানদের অবস্থাটা কি হত, তা বুঝার জন্য খুব বেশী অতীত ইতিহাস পর্যালোচনার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। ভারতে বসবাসরত মুসলমানদের দুর্দশা দেখে তা সহজেই অনুমান করা যায়। ত্রিশূলধারী কাপালিক হিন্দুরা কোন কালেই মুসলমানদের সহ্য করতে পারেনি। এখনও তাই। তারা ক্ষমতাশালী হলে তাদের পাশে মুসলমানদের বসবাসের সুযোগ নেই। থাকলেও অস্তিত্ব (ধর্মীয় এবং সামাজিক) বজায় রাখা অসম্ভব।

ভারতে গো হত্যার উপরে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। মাইকে আযান দেওয়াও অনেক রাজ্যে নিষিদ্ধ। বাংলাদেশে শূকর হত্যা, কাঁসার ঘণ্টা বাজানো নিষিদ্ধ নয়। কেননা, বাংলাদেশ মুসলমানদের দেশ। আর মুসলমানদের ধর্মে অন্য ধর্মাবলম্বীর ধর্মানুষ্ঠান, সামাজিক কর্মকান্ড এবং খাদ্যাভ্যাসের উপর হস্তক্ষেপ করতে বলে না। মুসলমানদের ধর্মে পরধর্মের প্রতি সহিষ্ণুতার তাগিদ রয়েছে। অন্য ধর্মাবলম্বীর প্রতি অহেতুক অত্যাচার করা মুসলমানের কর্ম নয়।

সীমান্তে বিএসএফ-এর লোকেরা মাঝে মাঝেই বাংলাদেশের নিরীহ মুসলমানদেরকে বিনা কারণে গুলি করে মারছে। পত্রপত্রিকায় এসব খবর প্রায়ই আসে। কিন্তু বিডিআর-এর জোয়ানরা তো ভারতীয় হিন্দুদেরকে এভাবে মারছে না। শুধু ভারতই নয়, পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই ইহুদী-খ্রীস্টান-মুশরিকরা যেখানে ক্ষমতাসীন, সেখানে মুসলমানদের জান-মাল-ইজ্জত নিরাপদ নয়। ভারতের উত্তর প্রদেশে যোগী আদিত্য নাথের বর্তমান সরকারের কার্মকান্ডে এর জাজ্বল্যমান প্রমাণ। অতএব, এটাই স্বতঃসিদ্ধ যে, ইহুদী-খ্রীস্টান-মুশরিকরা কোন কালেই মুসলমানদের মিত্র হতে পারে না।

তাই বলতে চাই, মুসলমানদেরকে শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে অতীত ইতিহাস থেকে। শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি দেখে। যদি তারা শিক্ষাগ্রহণ না করে, তাহলে তাদের গোল্লায় যাওয়া ঠেকানো যাবে না। বর্তমান সময়ে মার্কিনী খ্রীস্টানরা বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের নিশ্চিহ্ন করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ব্রিটেনের খ্রীস্টানরাও মার্কিনীদের সংগে আছে। থাকবে জার্মান-রাশিয়া-ফ্রান্স প্রভৃতি দেশের খ্রীস্টানরাও। এমন কি, চীন-জাপান-ভারত-ফিলিপাইনের সমর্থনও তাদের সংগে থাকবে। ইসরাইলী ইহুদীরা এই ফাঁকে আরও শক্তি সঞ্চয় করতে সক্ষম হবে, তাতেও সন্দেহ নেই।

সুতরাং ফিলিস্তিনী মুসলমানরা বরাবরই মার খেয়ে যাবে। আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়ার মুসলমানদের উপর বর্বর মার্কিনী বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা কারো অজানা নেই। এসব দেশ কবে মার্কিনীদের খপ্পর থেকে মুক্ত হতে সক্ষম হবে, তা বলা যায় না। ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া’র উপর রয়েছে চরম মার্কিন হুমকী। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারত যুদ্ধ চাপিয়ে দেবার তালে আছে। সৌদিআরবও এখন পশ্চিমা ষড়যন্ত্রে হুমকীর মুখে। বসনিয়া-চেচনিয়া-হার্জেগোভিনা-কসোভো-আরাকান-কাশ্মীর-জিনজিয়াং এর মুসলমান মার খেয়েই যাচ্ছে। ঠেকাবে কে? দুনিয়ার কোন দেশের মুসলমানই আত্মসচেতন হচ্ছে না। মুসলিম দেশগুলো ঐক্যবদ্ধ হতে পারছে না। এর পরিণাম মুসলমানদের পক্ষে হবে অতিশয় ভয়াবহ। তাই বলব, ইতিহাস থেকে শিক্ষাগ্রহণ করুন এবং আত্মসচেতন হোন। #

লেখকঃ ফাযেলে দারুল উলূম দেওবন্দ, সিনিয়র মুহাদ্দিস- জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা, উপদেষ্টা সম্পাদক- উম্মাহ ২৪ডটকম এবং কেন্দ্রীয় যুগ্মমহাসচিব- জামিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.