Home ওপেনিয়ন ভারতের নাগরিকত্ব আইনের সংশোধন যেভাবে মুসলিম লিগের ১৯৪৭-এর অবস্থানকে ন্যায্যতা দিচ্ছে!

ভারতের নাগরিকত্ব আইনের সংশোধন যেভাবে মুসলিম লিগের ১৯৪৭-এর অবস্থানকে ন্যায্যতা দিচ্ছে!

0

।। আলতাফ পারভেজ ।।

ভারতজুড়ে ‘নাগরিকত্ব আইন’-এর সংশোধন নিয়ে বিতর্ক চলছে এখন। এই সংশোধনের লক্ষ্যণীয় দিক হলো- নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র নেই – এমন অবৈধ বাসিন্দাদের মধ্যে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নাগরিকত্ব দেয়া যাবে, মুসলমানদের নয়। এমনকি খ্রিস্টান বা শিখরাও এক্ষেত্রে আবেদনের জন্য বিবেচিত হতে পারবেন, কিন্তু কোনভাবেই মুসলমানরা নয়।

ভারতের একজন রাজনতৈকি ভাষ্যকার যোগেন্দ্র যাদব এ বিষয়ে গতকাল একটা গুরুত্বর্পূণ ভাষ্য লিখেছেন। নাগরকিত্ব আইনরে সংশোধন প্রস্তাবের বিশ্লেষণ শেষে তিনি লিখেছেন, ভারত স্পষ্টত: নাগরিকত্বের ধারণার ভিত্তি হিসেবে খোলামেলাভাবেই ধর্মকে স্থাপন করলো এবং ভারত ভূখণ্ডে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার বিষয়কে ‘স্বাভাবিক অধিকার’ হিসেবে বিবেচনায় নিল।

আবার একই সঙ্গে তাদের নাগরিকত্ব আইনের নতুন সংশোধন প্রস্তাবের অপর সারমর্ম হলো, ‘NO MUSLIMS PLEASE, THIS IS INDIA.’

লক্ষ্য করার দিক হলো- এতে আসলে মুসলিম লীগের ১৯৪৭-এর অবস্থানকেই ন্যায্যতা দেয়া হলো মাত্র। বিশেষত: যখন এই উপলব্ধি তৈরি হয়েছিল যে, ভারত হিন্দুদের ‘স্বাভাবিক আবাসভূমি’ হলে মুসলমানদের জন্য পৃথক আবাসভূমি নয় কেন?

আরও লক্ষ্যণীয় দিক হলো, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে আজও নাগরিকত্ব আইন এভাবে ধর্মীয় আবরণে সাজানো নয়। মুসলমানদের জন্য এই দুই দেশে ‘স্বাভাবিক নাগরিকত্ব’-এর কোন সুযোগ নেই।

তবে নাগরিকত্ব আইনের এইরূপ বৈশিষ্ট্য সত্ত্বেও উপমহাদেশজুড়ে মূলধারার বুদ্ধিজীবীদের কাছে ভারতই বহুত্ববাদী-ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে চলেছে। যা বেশ বিস্ময় উদ্রেক করে বৈকি!

আলতাফ পারভেজ, ইতিহাস গবেষক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.