Home ওপেনিয়ন প্লিজ! আমার প্রিয় মাতৃভূমিকে ক্ষতবিক্ষত ও রক্তাক্ত করা বন্ধ করুন

প্লিজ! আমার প্রিয় মাতৃভূমিকে ক্ষতবিক্ষত ও রক্তাক্ত করা বন্ধ করুন

0
- কাজী হারুন।

।। কাজী হারুন ।।

এক বিদেশি ভদ্রলোক বাংলাদেশে বেড়াতে এসেছেন। সকালে হোটেল থেকে বেরিয়ে হাঁটছিলেন তিনি। হাঁটতে হাঁটতে ভদ্রলোক অদ্ভুত একটা দৃশ্য দেখলেন রাস্তার ধারে- এক লোক মাটিতে গর্ত খুঁড়ছে এবং গর্তের মাটি উঠিয়ে পাশে রেখে দিচ্ছে। আরেকজন সেই মাটি আবার গর্তে ফেলে ভরাট করছে। এভাবে চলছে খনন আর ভরাট কর্ম ! ভদ্রলোক হাঁটাহাঁটি বাদ দিয়ে এমন দৃশ্য দেখছিলেন অনেকক্ষণ!

এই অদ্ভুতুড়ে কাজের আগাগোড়া না বুঝে বিদেশি ভদ্রলোক এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো- ভাই আপনারা এই সব কি করছেন? একজন খনন করছেন, আবার আরেকজন ভরাট করছেন! কিন্তূ কেন? এখানে কাজের কাজ কিছুই তো দেখছি না ! একটু বুঝিয়ে বলবেন?

একজন উত্তর দিলো- স্যার আমরা সিটি কর্পোরেশনের বৃক্ষ রোপন ইউনিটের কর্মচারী। রাস্তার পাশে গাছ লাগাই। আমাদের ৩ জনের টিম। আমি গর্ত খুঁড়ি, আরেকজন আছে সে গর্তে গাছ লাগায়, আর ওই যে দেখছেন, তিনি মাটি ভরাট করেন। সমস্যা হলো, গাছ যে লাগায় সে আজ আসে নাই। তাই বলে আমরা তো আর বসে থাকতে পারি না! কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই আমরা এভাবে কাজ করছি। বেতন নিতে হবে তো; বুঝলেন স্যার!

বিদেশী ভদ্রলোক ভ্যাবাছ্যাকা খেয়ে গেলেন! বললেন – অদ্ভুত তোমাদের উন্নয়ন ও কাজের ধরন ! বেতন নেয়ার কি ভূতুড়ে কৌশল! এভাবে গোজামিল দিয়ে কাজ করতে তোমরা বড়ই পটু মনে হচ্ছে!

ও তাইতো ! মাত্র কদিন আগেই তোমাদের নির্বাচন হয়ে গেলো। যতটুকু পর্যবেক্ষণ করেছি সেটাও এরকমই ছিলো ! আচ্ছা আজকের BBC বাংলার প্রতিবেদনটি তোমরা দেখেছো ? তোমাদের এমন অদ্ভুত উন্নয়নের জন্য আরো দুই ধাপ এগিয়ে বিশ্ব রাজনীতির ধারাকে অতিক্রম করেছো তোমরা! সাবাশ! এগিয়ে চলো- নেই কাজ তো খই ভাজ!

আমরা জানি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই এই নির্বাচন। কিন্তু আমাদের সামনে দিয়ে এমন একটি সুন্দর সময় অতিক্রম করেছে, যে সময় আমরা বাংলাদেশকে একটি সুস্থ এবং সুন্দর নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত সময় মনে করেছিলাম। সরকার একটি সুন্দর এবং শতভাগ গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জাতিকে সুন্দর এবং গোছালো আগামী উপহার দিতে পারতো, যেতে পারতো জনপ্রিয়তার আকাশচুম্বী আসনে।

আমি বাংলাদেশের সরকার এবং বিরোধী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, নেতাকর্মী, মন্ত্রী-এমপি, তথা সর্বস্তরের সকলের প্রতি করজোড়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি- দয়াকরে আর কোনো ভেদাভেদ করবেন না, আর ক্ষতবিক্ষত এবং রক্তাক্ত করবেন না আমার প্রিয় মাতৃভূমিকে। শুধুমাত্র সুন্দর এবং সুস্থ বাংলাদেশ বিনির্মাণে এগিয়ে যান, সকল প্রকার দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিকে না বলুন। সকল অন্যায়কে না বলুন। নিজেরা অন্যায় হতে বিরত থাকুন এবং অন্যকে বিরত রাখুন। ক্ষমতার জন্য অন্যায় করবেন না, অন্যায়কে প্রশ্রয় দিবেন না। মনে রাখবেন, ক্ষমতা স্বল্পস্থায়ী কিন্তু আমার প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ দীর্ঘস্থায়ী। আমাদের আগামী প্রজন্ম আমাদের অন্যায়কে কখনোই ক্ষমা করবে না।

আমি এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই, যেখানে মানুষে মানুষে কোন ভেদাভেদ থাকবে না। স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছর পরে এসেও আমরা আর আমাদের জাতিকে বিভক্ত করব না। আমরা সবাই একে অপরের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমাদের দেশকে গড়ার কাজে নিয়োজিত হব। একে অপরকে সাহায্য করব, একে অপরের কাজে লাগবো, একে অন্যের সুখ দুঃখ বুঝবো, একে অন্যকে সুন্দর করে গড়ে তোলার কাজে সাহায্য করব। আর ভাগাভাগির সময় নেই। সকল কিছু ভুলে দেশটাকেই আমরা ভালোবাসবো, দেশকে আমরা সমৃদ্ধির স্বর্ণশিখরে এগিয়ে নিয়ে যাব- এই হোক আমাদের সকলের ব্রত।

মাটি কাটা আর ভরাটের মতো অদ্ভুত দৃশ্য দেখেই অভ্যস্ত আমরা ! দোহাই লাগে, আমাদের আগামী প্রজন্মকেও যেন এমন দৃশ্য দেখতে না হয়। বাংলাদেশ আমার, আপনার প্রিয় বাংলাদেশ। আসুন আমরা আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে মায়ের মতোই ভালবাসতে চেষ্টা করি , চর্বনযুক্ত রাজনীতিকে নয়। [৮ জানুয়ারী, ২০১৯ইং ]

নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট থেকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.