Home শীর্ষ সংবাদ নাগরিকত্ব বিল ইস্যুতে উত্তাল ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল

নাগরিকত্ব বিল ইস্যুতে উত্তাল ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল

0

উম্মাহ অনলাইন: নাগরিকত্ব (সংশোধন) বিলের বিরোধিতায় গোটা উত্তরপূর্বাঞ্চলেই বিক্ষোভ-হরতাল-প্রতিবাদ চলছে। এই ইস্যুতে সম্প্রতি রাস্তায় ফেলে পেটানো হয়েছে আসামের এক বিজেপি নেতাকে। সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। গত কয়েকদিনের মধ্যে নাগরিকত্ব বিলকে কেন্দ্র করে এ নিয়ে অসমীয়া জাতীয়তাবাদী শক্তিগুলির সঙ্গে বিজেপির এটি দ্বিতীয় সরাসরি সংঘাতের ঘটনা। এদিকে, বিলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থন প্রত্যাশা করছে অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (আসু)। এ জন্য তারা তৃণমূল কংগ্রেসের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছে, যাতে আসামে কোণঠাসা করে ফেলা যায় ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি বিজেপিকে।

গত বুধবার তিনসুকিয়া জেলার বিজেপি সভাপতি লখেশ্বর মোরান যখন নাগরিকত্ব বিল কেন প্রয়োজনীয় – সেটা বোঝাতে এক সভায় হাজির হয়েছিলেন, তখনই বিলের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন হাজার তিনেক মানুষ। কালো পতাকাও দেখানো হয়। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে, হঠাৎ একদল বিক্ষোভকারী রীতিমতো ধাওয়া করা হয় ওই বিজেপি নেতাকে। কিল চড় চলতে থাকে। কেউ তার চুল টেনে দেয়, অন্য কেউ ধাক্কা দিতে থাকে। এক পর্যায়ে তিনি মাটিতে পরে যান। তারপরে ঢিলও মারা হয়। প্রথমবার উঠে সরে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে আবারও পড়ে যান তিনি। রক্তাক্ত অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার থেকে আসু’র মশাল মিছিল আসাম ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে কথিত অবৈধ বাংলাদেশীদের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়েছে। রাতে মশাল মিছিল করেছে অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (আসু)। তা থেকে বলা হয়েছে, অবৈধ বাংলাদেশীদের ‘ডাম্পিং গ্রাউন্ড’ হতে পারে না আসাম।

এ ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থন প্রত্যাশা করে আসু। অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়নের প্রধান উপদেষ্টা সমুজ¦ল ভট্টাচার্য বলেছেন, তার সংগঠন সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ডেরেন ও’ব্রায়েন ও সৌগত রায়ের সঙ্গে সাক্ষাত করেছে। তাতে নিশ্চিত করা হয়েছে এই ইউনিয়ন বাঙালিদের নয়, অবৈধ বাংলাদেশীদের বিরুদ্ধে।

প্রস্তাবিত এ আইনের বিরুদ্ধে গুয়াহাটিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে আসু। অন্য রাজ্যগুলোতেও এ বিক্ষোভ হওয়ার কথা। মণিপুরে একটি গ্রুপ ২৪ ঘন্টার ধর্মঘট ডেকেছে। রাজ্যে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে ত্রিপুরা কংগ্রেস ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট প্রদ্যোত মানিক্য দেব বর্মনের নেতৃত্বের প্রতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে বেশ কিছু উপজাতি রাজনৈতিক দল।

গত কয়েকদিনের মধ্যে অসমীয়া জাতীয়তাবাদী শক্তিগুলির সঙ্গে বিজেপি নেতা কর্মীদের সরাসরি সংঘাত নিয়ে চিন্তিত অনেকেই। আসামের বাংলা দৈনিক যুগশঙ্খ কাগজের সম্পাদক অরিজিত আদিত্য বলেন, ‘এতদিন নাগরিকত্ব বিল নিয়ে বিরোধিতাটা যে গণতান্ত্রিক ভাবে হচ্ছিল, এখন সংঘাতটা বাড়ছে। ধৈর্যের বাঁধ সম্ভবত ভাঙ্গছে অসমীয়া জাতীয়তাবাদী সংগঠনগুলির।’

নাগরিকত্ব বিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদটা যে আর কথিত গণতান্ত্রিক পন্থায় থাকছে না, সেটা আসামের এই দুটি ঘটনায় যেমন স্পষ্ট হচ্ছে। এর আগে গত বুধবারই মনিপুরী ছাত্ররা দিল্লিতে সংসদের গেটের সামনে বিলের কপি পুড়িয়েছে। কিছুদিন আগে সম্পূর্ণ উলঙ্গ হয়ে বিলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে দিল্লি প্রাণকেন্দ্র যন্তর-মন্তরে। উত্তরপূর্বের সব রাজ্যেই ক্ষোভটা ক্রমশ বাড়ছে। আসামের বরাক ভ্যালি অঞ্চলকে বাদ দিলে পুরো উত্তরপূর্বাঞ্চল জুড়েই এই বিলের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে উঠেছে। প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে এনজিও কোঅর্ডিনেশান কমিটি মিজোরামের রাজধানী আইজলে যে বিক্ষোভের আয়োজন করে, সেখানে বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘হ্যালো চায়না, বাই বাই ইন্ডিয়া।’

উল্লেখ্য, ভারতের ১৯৫৫ সালে প্রণীত নাগরিকত্ব বিষয়ক আইন সংশোধন করে তার নাম দিয়েছে সিটিজেনশিপ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল। তা পাস করানোর চেষ্টা চলছে। এ আইনের অধীনে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে নির্যাতনের শিকার হওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান, যারা ভারতে বসবাস করছেন ৬ বছর ধরে তাদেরকে নাগরিকত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আইনের এই সংশোধন নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওদিকে সম্প্রতি বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ বলেছেন, সব বাঙালি অভিবাসীকে নাগরিকত্ব দেয়া হবে এই বিলটি রাজ্যসভায় পাস হওয়ার পর। সূত্র- বিবিসি, স্ক্রোল অনলাইন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.