Home সোশ্যাল মিডিয়া শিবিরের সাবেক সভাপতির চোখে জামায়াতের যত ভুল!

শিবিরের সাবেক সভাপতির চোখে জামায়াতের যত ভুল!

0

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র নানা ভুল নিয়ে খোলামেলা মতামত দিয়েছেন ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু। এ নিয়ে গত ১৪ ফেব্রুয়ারী সকাল ১০:১৯ মিনিটে ফেসবুকে “দীর্ঘ ফোনালাপ ফাঁস” শিরোনামে দীর্ঘ এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। সেই স্ট্যাটাসটি হুবহু পত্রস্থ করা হলো-

“আমার খুব ঘনিষ্ঠ প্রিয় একজন মানুষ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফোন করলেন। কুশলাদি জানার পর সরাসরি প্রশ্ন করলেন- শুনলাম আপনি নাকি জামায়াত থেকে বের হয়ে গিয়ে নতুন দল খুলতে যাচ্ছেন?

আমি তাঁর কাছ থেকে এরকম আচমকা প্রশ্ন শুনে কিছুক্ষণ হাসলাম। কী উত্তর পেলে ভদ্রলোক খুশী হবেন তা নিয়ে সামান্য ভাবলাম।
– হ্যাঁ আপনি ঠিকই শুনেছেন।
– ঠিক্! সত্যি সত্যি আপনি…. (তিনি চমকে উঠলে তাঁকে থামিয়ে দিয়ে বললাম)
– আপনি যা শুনেছেন সেটা আমিও শুনেছি।
– মানে?

– মানে হলো, এরকম কথা বেশ কিছুদিন যাবত ফেসবুকের কিছু আইডি থেকে প্রচার হয়ে আসছে। সেই সূত্রে বিভিন্ন জায়গায় এরকম আলোচনা হচ্ছে। কোন অফিস, আদালত সামাজিক অনুষ্ঠানে গেলে অনেকে মজা করে আমাকে বলে ভাই নতুন দলের খবর কী? আমার জন্য একটা পোস্ট রাইখেন। এগুলো শুনতে শুনতে আমি ধ্বাতস্থ হয়ে গেছি। নতুন দলের উদ্যোক্তা! হিসেবে এরকম কদর দেখে মাঝে মাঝে একটু-আধটু ভাবও নিই।

– ও আচ্ছা! তাহলে কী কথাটা সত্য নয়, শুধুই অপ-প্রচার!
– আসলে আমার যদি যোগ্যতা থাকত, আমি যদি শারীরীক ও অর্থনৈতিকভাবে সামর্থ্যবান হতাম তাহলে বহু আগেই এরকম একটা উদ্যোগ নিতাম। আমি চাই এরকম একটা উদ্যোগ বড়রা কেউ নিক। আমি তাদের নিবিড় সহযোগী হবো।
– আপনি তো ভয়ানক কথা বলছেন। জামায়াতের মত একটা সুশৃঙ্খল, নিয়মতান্ত্রিক দলে ভাঙ্গন ধরানোর কথা বলছেন।
– না না আমি জামায়াতের কথা বলছিনা। আমি বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দলের কথা বলছি। আমি মনেকরি বাংলাদেশে এই মুহূর্তে একটি রাজনৈতিক দলও নেই যারা বাংলাদেশে সুশাসন উপহার দিতে পারে। যারা সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার- এর ভিত্তিতে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে পারে।
– জামায়াত তো এ উদ্দেশ্যেই কাজ করছে এবং সৎ ও যোগ্য লোক তৈরীর মাধ্যমে তারা ধীরে ধীরে একটি সুন্দর দেশ উপহার দেয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে।

– অবশ্যই জামায়াত চেষ্টা করছে। শুধু জামায়াত নয় আরও অনেকেই চেষ্টা করছে। বাংলাদেশে এখনও যতটুকু আশা বেঁচে আছে তা সেসব প্রচেষ্টারই ফল। কিন্তু শুধু চেষ্টা করলেই তো হবেনা। চেষ্টার সাথে কর্মকৌশল, কর্মনীতি, যথা সময়ে প্রয়োজনীয় চিন্তা ও সিদ্ধান্তের সমন্বয় না ঘটলে সে চেষ্টা একসময় পথ হারিয়ে ফেলে। কখনও কখনও অনিশ্চয়তায় নিপতিত হয়। বহু নবীরা বিজয় অর্জন করতে পারেন নি। চেষ্টা করতে করতে আল্লাহর সন্তষ্টির পথে তাঁরা জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু সর্বশেষ নবী এবং রসূল (স.) বিজয় অর্জন করেছিলেন। আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠিত করে প্রমাণ করেছিলেন ইসলাম কীভাবে সমতা, শান্তি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারে। জামায়াতের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য রাসূল (স.) এর অনুরূপ। জামায়াত যে চেষ্টা করছে তাতে উদ্দেশ্য পূরণ হবে হয়তো কিন্তু লক্ষ্য যদি অর্জিত না হয় তাহলে সমাজ ও ইতিহাস আমাদের ব্যর্থই ভাববে।

– তাহলে আপনি মনেকরেন বাংলাদেশে আপনারা জামায়াতের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হতে চলেছেন?
– হ্যাঁ মনেকরি। তবে এই ব্যর্থতার একটা বড় দায়ভার জামায়াতের বিরোধীদের। জামায়াত কে সর্বক্ষেত্রে, সর্বদিক দিয়ে নির্মূল করার যে চেষ্টা সে চেষ্টায় তারা ব্যাপক সফলতা পেয়েছে। আমরা সে ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার মোকাবিলা করতে পারিনি বরং দুটি মেজর মিসটেক নিয়ে আমরা দীর্ঘ সংগ্রামী পথ পাড়ি দিয়েছি। একটি আদর্শগত তাত্ত্বিক ভুল অন্যটি রাজনৈতিক ভুল।

– আদর্শগত ভুলটা কী?
– আমার দৃষ্টিতে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষনা এবং বাস্ততবায়নে আমরা যে তত্ত্বগত, দার্শনিক ও বাস্তবায়নগত কর্মপন্থা নিয়েছি তা আদর্শগত ভুল। ফলে জামায়াত ইসলামী কী একটি ইসলামী আন্দোলন? না রাজনৈতিক দল? তা নিয়ে দোটানায় থাকতে হয়। ইসলামী আন্দোলন হিসেবে আমাদের কে মানতে পারেন না বৃহৎ অংশের আলেম ওলামারা। আবার সুশীল-মধ্যবিত্ত আর পাশ্চাত্যপন্থীদের সমলোচনা হল জামায়াত গোঁড়া-মৌলবাদী। প্রচলিত ভোট এবং জোটের রাজনীতির সাথে তাল মিলাতে গিয়ে আমাদের কে প্রতিনিয়ত জায়েজ-নাজায়েজ, হালাল-হারাম ইত্যাদি বিতর্কে নাকাল হতে হয়। একটি রাজনৈতিক দল নিয়ে প্রকাশ্য আলোচনা হবে, সমলোচনা হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু জামায়াতে এটার সুযোগ কম। যেমন এই যে আমি এখন আপনার সাথে জামায়াত নিয়ে আলোচনা করছি এটা যদি কেউ টেপ করে দায়িত্বশীলদের শোনায় তাহলে আমার সদস্যপদ থাকবে না।

– তাই নাকি! কেন?
– আমাদের গঠনতন্ত্রে সদস্যদের প্রকাশ্য মত প্রকাশের ক্ষেত্রে বেরিয়ার আছে। ফোরাম ছাড়া অন্য কোথাও ভিন্নমত নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ নেই। যদি এরকম তৎপরতা পরিলক্ষিত হয় তাহলে সেটা শৃংখলা ভঙ্গ, গ্রুপিং হিসেবে চিহ্নিত হয়। যেমন এখন আপনি আমাকে বললেন আমি দলে ভাঙ্গন ধরানোর চেষ্টা করছি। নতুন দল গড়তে যাচ্ছি- সেরকম। ভিন্নমত, ভিন্ন আলোচনা মানেই আপনি বিদ্রোহী।

– ইয়া আল্লাহ! এতো দেখি মধ্যযুগের পোপ আর চার্চ বিষয়ক ফ্যাক্ট।
– জ্বি অনেকটা সেরকম। এটা রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্য নয়। রাজনৈতিক দলে যৌক্তিক আলোচনা-সমলোচনা হবে। একটা অর্গানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে কর্মীরা গড়ে উঠবে। একটু সমলোচনা হলেই সব গেল গেল, কর্মীরা বুঝি নিরুৎসাহিত হয়ে যাচ্ছে! ভীতি সঞ্চারিত হবেনা। কোথাও দু চারটা মিটিং হলেই হায় হায় দল বুঝি ভেঙ্গে গেল! বলে রব উঠবেনা। বরং পাবলিক তর্ক বিতর্ক দলকে সুসংহত করে মজবুত আস্থায় স্থাপিত করে। পবিত্র কুরআনে মুসলিম বাহিনীর শুধু সৌকর্যের কথা বলা নেই। পাশাপাশি ওহুদ যুদ্ধে তাদের বিপর্যয় ও আনুগত্য লংঘনের কথাও বলা আছে। হজরত আয়েশার (রা:) ইফকের মত সেনসিটিভ ঘটনাও কুরআনে আল্লাহ তায়ালা তুলে ধরেছেন। হাদীসে তো এমন কোন জটিল বিষয় নেই যা বাদ গেছে। এ সকল কিছুই সবার জন্য উম্মুক্ত। যারা এসব দ্বান্দ্বিক জ্ঞানের বেড়াজাল পেরিয়ে ইসলাম গ্রহণ করবে তাঁরাই হবে মজবুত মুসলিম। অর্থাৎ ইসলামের যে পূর্ণাঙ্গ আদর্শিক ও রাজনৈতিক রূপ সেই অর্থে জামায়াতে অপূর্ণতা রয়েছে।

– কিন্তু এটাতো মানবেন যে আপনারা মানে জামায়াত-খুব সুশৃংখল ও সুসংগঠিত দল।
– হ্যাঁ। সেটা বলতে পারেন। তবে সেটা এপারেন্টলি। কার্যত: জামায়াত পরিবার, জামায়াত অধ্যুষিত অফিস গুলো এবং জামায়াত সার্কেলের বন্ধু বান্ধবেরা সারাক্ষণই জামায়াত নিয়ে ব্যাপক কাঁটা ছেড়া করেন। এমন কোন সমলোচনা নেই যা এসকল আড্ডায় হয়না। দায়িত্বশীলদের ঘর, বাড়ী, অফিসে এসবের মাত্রা আরও বেশী। কিন্তু ফোরামের পরিবেশ খুব বিশুদ্ধ, উখুয়াতে পরিপূর্ণ। আবেগ আর কান্নার রোলে সেখানে শুধুই পবিত্র বন্ধনের ধ্বনি-প্রতিধ্ধনি।

– হুম্ (দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে) বুঝতে পারলাম। কিন্তু এবার বলেন আপনাদের রাজনৈতিক মেজর মিসটেক বা ভুলটা কী?
– রাজনৈতিক বড় ভুল হল বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে আমাদের অসচ্ছ- বিভ্রান্তিকর অবস্থান।
– সেটা কী রকম?

– ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াত অংশ নেয়নি বরং বিরোধিতা করেছে। এই বিরোধীতা করে জামায়াত কী সঠিক করেছে? না ভুল করেছে? দলীয়ভাবে এ বিষয়টি তারা এখনো সুরাহা করতে পারেনি। ভুল শুদ্ধের শুরাহা না করেই জামায়াত বিভিন্ন সময়ে বক্তৃতায় বিভিন্ন কথা বলেছে। মরহুম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ‘জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান’ হিসেবে স্বীকার করে নিয়েছে। অথচ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তাদের বিবেচনায় শেখ মুজিব ছিলেন ‘ষড়যন্ত্রকারী’ ‘দেশদ্রোহী’ এবং মুক্তিযাদ্ধারা ছিলেন ‘ভারতের দালাল’। একই নেতৃবৃন্দের কাছে আমরা কখনো শুনি “মুক্তিযুদ্ধকালীন আমাদের ভূমিকা ছিল আবেগ নির্ভর ও বাস্তবতা বিবর্জিত” আবার কখনো তাঁরা বলেন- “৭১ এ আমরা যে ভূমিকা নিয়েছিলাম তা যে সঠিক ছিল তা এখন জাতি বুঝতে পারছে”!

মহান মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে আমাদের মুরুব্বীদের মুখ থেকে দুই ধরনের পাঠ পাওয়াটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। এতে বোঝা যায় তাঁরা পরিস্থিতি বুঝে একবার একরকম বলছেন। দলের সুস্পষ্ট কোন স্ট্যান্ড নেই। ফলে সাধারণ কর্মীদের মধ্যে এ প্রশ্ন জাগাটা খুবই স্বাভাবিক যে, মুক্তিযুদ্ধ কে সমর্থন না করাটা যদি সঠিক হয় তাহলে বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস পালন কীভাবে সঠিক হয়? হ্যাঁ জামায়াত যদি ৭১ সালের ভূমিকার জন্য দূ:খ প্রকাশ করতো, ক্ষমা চাইতো এবং সবার আগে আমাদের কে অর্থাৎ দলীয় কর্মীদের কে সে বিষয়ে দীক্ষা দিত তাহলে কোন সমস্যা ছিলনা। আমরা জেনেছি শেখ মুজিব স্বাধীনতা চায়নি। তিনি স্বেচ্ছায় পাকিস্তানীদের হাতে ধরা দিয়েছিলেন। কিন্তু আবার বলা হচ্ছে শেখ মুজিব স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা!

ফলে আমাদের সকল রাজনৈতিক অর্জন এই এক ক্ষেত্রে এসে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। ১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধ প্রসঙ্গ এলে রাজাকার, আলবদর, যুদ্ধাপরাধী এমন কোন গালি নেই যা আমাদের দেয়া হয়না। রাজনৈতিক প্রজ্ঞার অভাবে এবং নেতৃত্বের দোদুল্যমানতায় অযথা আমরা সমাজের ২য় শ্রেণীর নাগরিক হয়ে আছি।

– আপনি কী মনেকরেন মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে ক্ষমা চাইলে জামায়াতের রাজনীতি সবাই গ্রহণ করে ফেলবে?
– না আমি ক্ষমা চাওয়া আর ক্ষমা চাওয়ার সাথে সবার রাজনীতি গ্রহণ করার কথা বলছি না। জামায়াত ভুল করেছে না শুদ্ধ করেছে সেটা আগে সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করার কথা বলছি। আপনি যদি ভুল করে থাকেন আর সেটা স্বীকার না করে নানা ধানাই পানাই করে যুক্তি দেন তাহলে সেটা কখনোই আপনি প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন না। এটা ইসলামিক পদ্ধতিও নয়। বরং এতে আপনার বিরুদ্ধ প্রচারণাটাই প্রতিষ্ঠা পাবে। আর যদি আপনার ভূমিকা হায় সঠিক, ন্যায়ানুগ এবং যুক্তিপূর্ণ কিন্তু আপনি পরিস্থিতির কারণে সুবিধা পাওয়ার জন্য বলেন না আমি ঠিক করিনি, আবেগ নির্ভর ছিল বা ভুল ছিল- সেটা আরো মারাত্মক। এই অস্পষ্টতা, দ্বৈতাচরণ আপনাকে আদর্শিকভাবে শূন্য বানিয়ে ফেলবে।

– তাহলে জামায়াত এখন কী করবে? আপনাদের যাদের ভিন্নমত তাঁরাই বা কী করবেন?
– দেখুন আমি রাজনীতি থেকে এখন অনেক দূরে। আমি আমার দলের একটি ক্ষুদ্র ইউনিটেরও দায়িত্বশীল নই। এই দলের ভাঙ্গন তো দূরের কথা আমার কথায় দলের সামান্য সূতাও নড়বেনা। আমি আমার ওজন ও সামর্থ বুঝি। বিভিন্ন পেশা ও মতের মানুষদের নিয়ে কিছু ইনটেলেকচুয়াল গ্রুপ আছে যেখানে সমাজ রাজনীতি নিয়ে ডিস্কাশ্সন হয়। আমি সেরকম কয়েকটির সদস্য। একটির মডারেটর আমি নিজে। সেখানে রাজনীতির রুপান্তর, কার কী ভবিষ্যত, জাতীয় মুক্তি আন্দোলন কীভাবে সম্ভব এসব নিয়ে আলোচনা হয়।

আমার কাজ আলাপ-আলোচনা, ফেসবুকিং, আড্ডা এগুলোতেই সীমাবদ্ধ। যারা আমার সাথে কথা বলতে চায় তাদের সাথে কথা বলি। পেশাগত কাজে এদিক সেদিক যাই। কোন দাওয়াতে গেলে ছোট খাট মিটিং হয়ে যায়। স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করার অধিকার আল্লাহ তায়ালার প্রদত্ত অধিকার। আত্মসমলোচনা, বৈরী পরিবেশেও হক কথা বলা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা এসব অনুপ্রেরণা আমি সংগঠন থেকে শিখেছি। আমি বিশ্বাস করি সংস্কার একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। এর পথ বড্ড প্রতিকূল। পথভ্রষ্ট, দালাল, মুনাফেক, সংস্কারবাদী, সুবিধাবাদী, ভীরু, দলে ভাঙ্গন সৃষ্টিকারী, ষড়যন্ত্রকারী, গ্রুপিং সৃষ্টিকারী, শৃংখলা বিরোধী ও বিনষ্ট কারী…… এরকম বহুমাত্রিক গালি-অপবাদ তাদের পাথেয়। দলে তাদের ঠাঁই হয়না। শৃংখলা রক্ষা, দলের ঐক্য অটুট রাখার স্বার্থে তাদের দল থেকে বের করে দেয়া হয়। তাদের দল ছাড়তে বাধ্য করা হয়। কিন্তু এরপরও কী দল অটুট থাকে? সংস্কারের দাবী তিরোহিত হয়? হয় না। দমননীতি আর অপবাদ দিয়ে সংস্কার আর পরিবর্তনের পথ রোধ করা যায়না। সংস্কার কে যুক্তি এবং একোমোডেশন দিয়ে আত্মস্থ করতে হয়। তাহলে দল টিকে এবং সফল হয়।

– আপনি কী মনে করেন জামায়াত টিকবে?
– উফ্… আপনি তো দেখি আমাকে কঠিন ইন্টারেগেশনে ফেললেন। আমি আর কথা বলতে আগ্রহ বোধ করছি না।
– না না এটা বলেন। এটা বলেই শেষ করেন।

– শোনেন জামায়াত অবশ্যই টিকবে। যুগ যুগ শতাব্দীকাল ধরে টিকবো আমরা। কিন্তু সফল হবো কিনা সেটাই প্রশ্ন? আর এই শতাব্দীকালের পরিক্রমায় আমাদের লক্ষ্য হয়তো সরে যাবে। উদ্দেশ্য সাধনে যুক্ত হবে শের্ক, বেদায়াত, মানুষের ভয়। গঠনতন্ত্রের চাবুক আমাদের নমনীয়, অনুগত এবং তাকওয়াবান বানিয়ে রাখবে। এটাই বা কম সফলতা কিসের।

আপনার জবাব কী পেয়েছেন?

– হুমম্.. পেয়েছি। তবে দেশে আসলে আপনার সাথে সাক্ষাতে আরও অনেক আলাপ করবো।

– ওকে। ভাল থাকবেন, দোয়া করবেন।
-আল্লাহ হাফেজ।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.