Home শীর্ষ সংবাদ কাদিয়ানীদেরকে অমুসলিম ঘোষণা ও মেননের বক্তব্যের প্রতিবাদে হেফাজতের বিক্ষোভে উত্তাল ঢাকা

কাদিয়ানীদেরকে অমুসলিম ঘোষণা ও মেননের বক্তব্যের প্রতিবাদে হেফাজতের বিক্ষোভে উত্তাল ঢাকা

0

উম্মাহ রিপোর্ট: গত ৩ মার্চ জাতীয় সংসদে রাদেশ খান মেননের ইসলাম, মাদরাসা শিক্ষা ও উলামাবিদ্বেষী বক্তব্যের জন্য দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবিতে হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগর কমিটির উদ্যোগে বাইতুল মুকাররামের উত্তর গেইট বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানী ঢাকার রাজপথ গতকাল হেফাজতের বিশাল বিক্ষোভ মিছিলের মুহুর্মুহু স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠেছিল।

গতকাল (শুক্রবার) জুমার পর এই প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও ঢাকা মহানগর সভাপতি শায়খুল হাদীস আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন হেফাজতের ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব শায়খুল হাদীস আল্লামা হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরী।

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, কাদীয়ানীরা কাফের, তাদের যারা কাফের মনে করে না তারাও কাফের। রাশেদ খান মেনন তাদের পক্ষ নিয়ে কওমি মাদরাসা, হেফাজতে ইসলাম ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে ধৃষ্টতাপূর্ণ কথা বলেছে, তারাও তাদের দলের অন্তর্ভূক্ত।

তিনি বলেন, এ দেশে কওমি মাদরাসা সাধারণ মুসলমানদের মাঝে দীনি শিক্ষার প্রচার-প্রসারে বিশাল অবদান রেখে যাচ্ছে। দেশকে সঠিক পথে পরিচালতিক করতে এবং ইনসাফপূর্ণ দেশ গড়তে ব্যাপক অবদান রাখছে আলেমগণ। তাদের নিয়ে দৃষ্টতা দেখানোর সাহস মেননরা কীভাবে পায়? আমরা আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে তার বক্তব্য ফিরিয়ে নেয়ার অনুরোধ করছি। না হলে এ দেশের তাওহীদি জনতা তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।

তিনি বলেন, মেননের মতো আরও যারা নাস্তিক আছে, শাহরিয়ার কবিরসহ কাউকে ছাড়া হবে না। মেননকে সংসদ থেকে বের করা না হলে উলামায়ে কেরাম ও ইসলামী জনতা কঠোর অবস্থানে যাবে।

হেফাজত মহাসচিব আরও বলেন, রাশেদ খান মেনন মারা গেলে তার জানাযা ও মুসলমানের কবরস্থানে দাফন করা যাবে না। মেনন-ইনুদেরকে এদেশের মাটি গ্রহণ করবে না।

কাদীয়ানীদের ব্যাপারে তিনি বলেন, তারা ইসলামের পরিভাষা ব্যবহার করতে পারবে না। তারা তাদের এবাদত খানাকে মসজিদ বলতে পারবে না। এ দেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টানও নিরাপদে আছেন তাদের ধর্ম নিয়ে। কাদিয়ানিরাও আলাদা ধর্ম হিসেবে থাকবে। কিন্তু মুসলিম হিসেবে থাকতে পারবে না। আকিদায়ে খতমে নবুওয়াত রক্ষা করতে বুকের তাজা রক্ত দিতে হলেও আমরা দেব।

অনুষ্ঠানে বক্তারা রাদেশ খান মেননের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চান। এছাড়াও ইসলাম ও উলামা বিদ্বেষী এবং উগ্রতাকে উসকে দেয়া মেনন ও ইনুদের মন্ত্রীপরিষদ থেকে বের করে দেয়ায় সরকারকে স্বাগত জানান। সমাবেশ শেষে এক মিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। এতে হাজার হাজার তাওহিদী জনতা অংশ গ্রহণ করেন।

প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, রাশেদ খান মেনন ইসলাম, আলেম-উলামা, ইসলামী শিক্ষা ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে গভীর বিদ্বেষ ও ষড়যন্ত্র থেকেই এমন বক্তব্য দিয়েছেন এবং অমুসলিম কাদিয়ানীদের প্রতারণার পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করছেন। তার এই ঘৃণাব্যঞ্জক বক্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করতে হবে এবং তাকে অনতিবিলম্বে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

তিনি বলেন, কওমি মাদ্রাসাসমূহ সরাসরি দেশের জনগণের সাহায্য-সহযোগিতায় পরিচালিত হয়। কওমি মাদ্রাসায় পবিত্র কুরআন-হাদীসের সঠিক ব্যাখ্যা ও পূর্ণ ইসলামী শিক্ষাদানের পাশাপাশি সৎ জীবন যাপন, সামাজিক সহাবস্থান এবং আদর্শ দেশ ও জাতি গঠনের শিক্ষা দেওয়া হয়। সৎ, যোগ্য ও ধর্মপ্রাণ নাগরিক তৈরির কওমী শিক্ষা ব্যবস্থাকে রাশেদ খান মেনন ‘বিষবৃক্ষ’ বলে আলেম-উলামা, ছাত্র সমাজ ও কোটি কোটি মানুষের মনে আঘাত দিয়েছেন। মূলতঃ তিনি এমন উস্কানীমূলক ঘৃণাব্যঞ্জক বক্তব্য দিয়ে দেশবিরোধী কোন চক্রের হয়ে গোলযোগ তৈরির ষড়যন্ত্র করছেন।

আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী খতমে নবুওয়াত অস্বীকার করে নিজেকে মিথ্যা নবীর দাবি করে। তাই তার অনুসারীদের পক্ষে নিজেদেরকে মুসলিম দাবি করার কোনই সুযোগ নেই। কারণ, খতমে নবুওয়াতের উপর দৃঢ় বিশ্বাসস্থাপন করা মুসলিম হিসেবে পরিচিত হওয়ার জন্য অবশ্যক কর্তব্য। হযরত মুহাম্মদ (সা.)কে ‘শেষ নবী’ হিসেবে বিশ্বাস করা তথা খতমে নবুওয়াতের উপর ঈমান আনয়ন মুসলিম হওয়ার জন্য ‘ট্রেড মার্ক’ স্বরূপ।

তিনি আরো বলেন, কাদিয়ানীরা অমুসলিম পরিচিতি নিয়ে অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মতো নাগরিক অধিকার ভোগ করায় আমাদের কোন আপত্তি নেই। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টানদের মতো তারাও অমুসলিম ঘোষিত হয়ে সকল নাগরিক অধিকার ভোগ করুক। কিন্তু তারা অমুসলিম হওয়া সত্ত্বেও মুসলিম পরিচিতি ও ইসলামী পরিভাষা ব্যবহার করে স্বল্পশিক্ষিত ও সরলমনা সাধারণ মুসলমানদেরকে ধোঁকা দিয়ে ঈমানহারা করে যাবে, এটা মেনে নেওয়ার সুযোগ নেই। অথচ রাশেদ খান মেনন প্রকাশ্যে কাদিয়ানীদের মিথ্যাদাবির পক্ষে ওকালতিতে মাঠে নেমেছেন।

আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, হেফাজতে ইসলাম একটি বৃহৎ অরাজনৈতিক সংগঠন। দেশের শীর্ষ আলেম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে এই সংগঠনটি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ঈমান-আক্বীদা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে আসছে। এই সংগঠনের ব্যানারে দেশের আলেম সমাজ ও কোটি কোটি তৌহিদী জনতা ঐক্যবদ্ধ। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নেও এই সংগঠনটির সরব ভূমিকা সর্বমহলে অত্যন্ত প্রশংসিত। অথচ রাশেদ খান মেনন সংসদে দাঁড়িয়ে জনপ্রিয় এই বৃহৎ সংগঠন এবং এর আমীর সর্বজনমান্য প্রবীণ আলেম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর বিরুদ্ধেও জঘন্য কটূক্তি করেছেন। তিনি আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অবমাননা করেছেন। তিনি সাধারণ শিক্ষায় নাস্তিক্যবাদি পাঠ চালুর পক্ষে ওকালতি করে গণমানুষের আদর্শিক চিন্তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। রাশেদ খান মেননদের এসব আস্ফালনের বিরুদ্ধে দেশের তৌহিদী জনতা রুখে দাঁড়াবে।

আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, কাদিয়ানী ইস্যুতে রাষ্ট্রের জন্য বিবাদ মীমাংসার সহজ এবং গঠনমূলক উপায় হলো, অবিলম্বে কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘অমুসলিম সম্প্রদায়’ ঘোষণা দিয়ে তাদের ধোঁকা ও প্রতারণার পথ বন্ধ করে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা। সাথে সাথে কাদিয়ানীদের জন্য যে কোন ইসলামী পরিভাষা ব্যবহারও নিষিদ্ধ করতে হবে। কারণ, কাদিয়ানীরা মিথ্যাভাবে নিজেদেরকে মুসলিম দাবি ও ইসলামি পরিভাষা ব্যবহার করে একদিকে সাধারণ মুসলমানদেরকে ঈমানহারা করার মিশন পরিচালনা করছে, অন্যদিকে দেশের বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে দেশকে অশান্তির মুখে ঠেলে দিতে ষড়যন্ত্র করছে।

এছাড়াও প্রতিবাদ সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, শাহ আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী, মধুপুরের পীর মাওলানা আবদুল হামিদ, মাওলানা নুরুল ইসলাম, ড. আহমদ আবদুল কাদের, মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব, মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা এনামুল হক মুসা, মাওলানা ফজলুল করিম কাসেমী, মাওলানা ফয়সাল আহমদ প্রমুখ।

পুরান ঢাকায় কোনও রাসায়নিক দাহ্য পদার্থের গুদাম থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.