Home লাইফ স্টাইল পানাহারের উত্তম পন্থা ও রীতি-নীতি

পানাহারের উত্তম পন্থা ও রীতি-নীতি

0

।। হাফেজ মাওলানা নাজমুল হাসান ।।

মানব এবং জীবজন্তু মাত্রই পানাহারের মুখাপেক্ষী। কিন্তু প্রত্যেকটি প্রাণীর পানাহারে স্বতন্ত্রতা বিদ্যমান। যেহেতু মানুষ সৃষ্টির সেরা, তাই মহান রাব্বুল আলামীন তাদের জন্যে সর্বোত্তম উৎকৃষ্ট ও সু-স্বাদু পানাহারের ব্যবস্থা করে রেখেছেন। আলহামদুলিল্লাহ্। জন্তু-জানোয়ারের পানাহারের জন্য কোন বৈধ অবৈধতা নেই। পক্ষান্তরে আল্লাহ্ তাআলা মানুষের পানাহারের উত্তম পদ্ধতি এবং বৈধ অবৈধতা পবিত্র কালাম পাকে ঘোষণা করে দিয়েছেন। আর এ সব ঘোষণা সমূহ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবনে অনুসরণ তথা প্রতিষ্ঠিত করে উম্মতের জন্য সবক দিয়ে গেছেন। যা সর্বকালে সর্বযুগে উম্মতের অবশ্য পালনীয় হিসেবে সর্বজন স্বীকৃত।

মহান রাব্বুল আলামীন পবিত্র কালাম পাকে পানাহার প্রসংগে আয়াত নাযিল করেছেন। সূরা আল আরাফের দু’টি আয়াতের সরল অর্থ নিম্নে পেশ করা হলো। কালাম পাকের অন্যত্রও পানাহার সম্পর্কে একাধিক আয়াত রয়েছে।

আল্লাহ্ তাআলার বাণী, “হে বনী আদম! তোমরা প্রত্যেক নামাযের সময় সাজসজ্জা পরিধান করে নাও-খাও ও পান কর এবং অপব্যায় করো না। তিনি অপব্যয়ীদেরকে পছন্দ করেন না। আপনি বলুন- আল্লাহর সাজ-সজ্জাকে- যা তিনি বান্দাদের জন্যে সৃষ্টি করেছেন এবং পবিত্র খাদ্য বস্তুসমূহকে কে হারাম করেছে? আপনি বলুন- এসব নিয়ামত আসলে পার্থিব জীবনে মুমিনদের জন্যে এবং কিয়ামতের দিন খাঁটিভাবে তাদেরই জন্যে। এমনিভাবে আমি আয়াত সমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করি তাদের জন্যে, যারা বুঝে। (সূরা আল আরাফ-৩১-৩২ আয়াত)।

উপরোক্ত আয়াতে সাজ-সজ্জা, খাওয়া ও পান করা সম্মন্ধে আলোচনা এসেছে। কিন্তু এখানে শুধুমাত্র পানাহার সম্মন্ধে আলোচনা পেশ করছি।

শরীয়তের দিক দিয়ে পানাহার করা মানুষের জন্য ফরয ও জরুরী। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ পানাহার বর্জন করে, ফলে মৃত্যুমুখে পতিত হয়ে কিংবা এমন দুর্বল হয়ে পড়ে যে, ফরয কর্মও সম্পাদন করতে অক্ষম হয়, তবে সে আল্লাহর কাছে অপরাধী ও পাপী হবে।

আহকামুল কুরআন গ্রন্থে জাস্সাসের বর্ণনা মতে বর্ণিত আয়াত থেকে একটি মাসআলা এরূপ বোঝা যায় যে, জগতে পানাহারের যত বস্তু রয়েছে, মৌলিকভাবে সেগুলোর সব হালাল ও বৈধ। যতক্ষণ পর্যন্ত কোন বিশেষ বস্তুর অবৈধতা ও নিষিদ্ধতা শরীয়তের কোন প্রমাণ দ্বারা প্রমাণিত না হয়, ততক্ষণ প্রত্যেক বস্তুকে হালাল ও বৈধ মনে করা হবে। কিন্তু কী কী পানাহার করবে, তার উল্লেখ না থাকায় আয়াতের বর্ণনা ভঙ্গির আলোকে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, প্রত্যেক বস্তু পানাহার করা বৈধ, শুধুমাত্র ঐ সব দ্রব্য সামগ্রী বাদে, যেগুলো স্পষ্টভাবে হারাম করা হয়েছে।

বর্ণিত আয়াতে পানাহারের অনুমতি এবং নির্দেশ থাকার সাথে সাথে অপব্যয় করার নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। আয়াতে কে হারাম করেছে বলে সীমালঘন করা বুঝানো হয়েছে। সীমালঘন কয়েক প্রকারের হতে পারে। যথা- এক. হালালকে অতিক্রম করে হারাম পর্যন্ত পৌঁছা এবং হারাম বস্তু পানাহার করতে থাকা। এ সীমালঘন যে হারাম, তা বর্ণনা সাপেক্ষ নয়।

দুই. আল্লাহ্ তাআলার হালালকৃত বস্তু সমূহকে শরীয়ত সম্মত কারণ ছাড়াই হারাম মনে করে বর্জন করা। হারাম বস্তু ব্যবহার করা যেমন অপরাধ ও গোনাহ্, তেমনি হালালকে হারাম মনে করাও খোদায়ী আইনের বিরোধিতা এবং কঠোর গোনাহ্। (ইবনে কাসীর, মাযহারী, রূহুল মাআনী)।

ক্ষুধা ও প্রয়োজনের চেয়ে অধিক পানাহার করাও সীমা লঘনের মধ্যে গণ্য। তাই ফিক্বাহ্বিদগণ উদর পূর্তির অধিক ভক্ষণ করাকে নাজায়েয লিখেছেন। (আহকামুল কুরআন)। এমনিভাবে শক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কম খেয়ে দুর্বল হয়ে পড়া, ফলে ফরয কর্ম সম্পাদনের শক্তি না থাকা, এটাও সীমা লঘনের মধ্যে গণ্য। উল্লিখিত উভয় প্রকার ভ্রাšি তথা অপব্যয় নিষিদ্ধ কারার জন্যে কুরআন পাকের অন্যত্র বলা হয়েছে, আল্লাহ্ তাআলার বাণী, অপব্যয় কারীরা শয়তানের ভাই। আরো বলা হয়েছে, আল্লাহ্ তাআলার বাণী, আল্লাহ্ তাদেরকে পছন্দ করে, যারা ব্যয় করার ক্ষেত্রে মধ্যবর্তিতা  অবলম্বন করে। প্রয়োজনের চেয়ে বেশী ব্যয় করে না এবং কমও করে না।

হযরত ওমর (রাযি.) বলেন, বেশী পানাহার থেকে বেঁচে থাকার কারণ অধিক পানাহার দেহকে নষ্ট করে, রোগের জন্ম দেয় এবং কর্মে অলসতা সৃষ্টি করে। পানাহারের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা চাই। এটা দৈহিক সুস্থতার পক্ষে উপকারী এবং অপব্যয় থেকে দূরবর্তী। তিনি আরও বলেন, আল্লাহ্ তাআলা স্থুলদেহী আলেমকে পছন্দ করেন না। অর্থাৎ যে বেশী পানাহার করে, সে নিজের প্রচেষ্টায়ই স্থুলদেহী হয়। তিনি আরো বলেন, মানুষ ততক্ষণ ধ্বংস হয় না, যতক্ষণ না সে মানসিক প্রবৃত্তিকে ধর্মের উপর অগ্রাধিকার দান করে। (রূহুল মআনী)।

হযরত ইমাম বায়হাকী (রাহ.) বর্ণনা করেন, একবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আয়েশা (রাযি.)কে দিনে দু’বার খেতে দেখে বললেন, হে আয়েশা! তুমি কি পছন্দ কর যে, আহার করাই তোমার একমাত্র কাজ হোক।

বর্ণিত আয়াতে পানাহার সম্পর্কে যে মধ্যবর্তিতার নির্দেশ বর্ণিত হয়েছে, তা শুধু পানাহারের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং পরিধান ও বসবাসের প্রত্যেক কাজেই মধ্যপন্থা পছন্দনীয় ও কাম্য। হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রাযি.) বলেন, যা ইচ্ছা পানাহার কর এবং যা ইচ্ছা পরিধান কর। তবে শুধু দু’টি বিষয় থেকে বেঁচে থাক। এক. তাতে অপব্যয় অর্থাৎ প্রয়োজনের চেয়ে বেশী না হওয়া চাই এবং দুই. গর্ব ও অহংকার না থাকা চাই।

বর্ণিত প্রথম আয়াতে “খাও ও পান কর” বাক্য থেকে মোট আটটি মাসআলার উদ্ভব হয়। সেগুলো হচ্ছে নিু রূপ- ১. যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু পানাহার করা ফরয। ২. শরীয়তের কোন প্রমাণ দ্বারা কোন বস্তুর অবৈধতা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সব বস্তুই হালাল। ৩.আল্লাহ্ তাআলা এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক নিষিদ্ধ বস্তু সমূহ ব্যবহার করা অপব্যয় ও অবৈধ। ৪. যে সব বস্তু আল্লাহ্ তাআলা হালাল করেছেন, সেগুলোকে হারাম মনে করাও অপব্যয় এবং মহাপাপ। ৫. পেট ভরে খাওয়ার পরও আহার করা নাজায়েয। ৬. এতটুকু কম খাওয়াও অবৈধ, যদ্দরুন দূর্বল হয়ে ফরয কর্ম সম্পাদন করতে অক্ষম হয়ে পড়ে। ৭. সর্বদা পানাহারের চিন্তায় মগ্ন থাকাও অপব্যয় এবং ৮.মনে কিছু চাইলেই তা অবশ্যই খাওয়া অপব্যয়।

আলোচ্য আয়াতে সে সব লোককে হুঁশিয়ার করা হয়েছে, যারা ইবাদতে বাড়াবাড়ি করে এবং স্বল্পতা সংকীর্ণতা সৃষ্টি করে আল্লাহ্ তাআলা কর্তৃক হালালকৃত বস্তু সমূহ থেকে বিরত থাকা এবং হারাম মনে করাকে ইবাদত জ্ঞান করে। যেমন- মক্কার মুশরিকরা তৎকালীন সময়ে হজ্বের দিনগুলোতে তাওয়াফ করার সময় পোশাক পরিধানকেই বৈধ মনে করত না এবং আল্লাহ্ তাআলা কর্তৃক হালালকৃত ও উপাদেয় খাদ্যসমূহ বর্জন করাকে ইবাদত মনে করত।

এহেন লোকদেরকে শাসানোর ভঙ্গিতে হুঁশিয়ার করে বলা হয়েছে যে, বান্দাদের জন্য সৃজিত আল্লাহ্ তাআলার উত্তম পোষাক এবং আল্লাহ্ তাআলা প্রদত্ত সুস্বাদু ও উপাদেয় খাদ্যকে হারাম করেছে?

উৎকৃষ্ট পোশাক ও সুস্বাদু খাদ্য বর্জন করা ইসলামের শিক্ষা নয়। উদ্দেশ্য এই যে, কোন বস্তু হালাল অথবা হারাম করা একমাত্র সে সত্তারই কাজ যিনি এ সব বস্তু সৃষ্টি করেছেন। এতে অন্যের হস্তক্ষেপ বৈধ নয়। কাজেই সে সব লোক দণ্ডনীয়, যারা আল্লাহর হালালকৃত উৎকৃষ্ট পোষাক অথবা পবিত্র ও সুস্বাদু খাদ্যকে হারাম মনে করে। সংগতি থাকা সত্ত্বেও জীর্ণাবস্থায় থাকা ইসলামের শিক্ষা নয় এবং ইসলামের দৃষ্টিতে পছন্দনীয়ও নয়, যেমন অনেক অজ্ঞ লোক মনে করে।

সুফী বুযুর্গগণ শিষ্যদেরকে প্রথম পর্যায়ে উৎকৃষ্ট খাদ্য ভক্ষণ করতে নিষেধ করেন। এর উদ্দেশ্য এরূপ নয় যে, এসব বস্তু স্থায়ীভাবে বর্জন করা সাওয়াবের কাজ, বরং প্রবৃত্তিকে বশে আনার জন্যে প্রথম পর্যায়ে চিকিৎসা ও প্রতিকারার্থে এ ধরনের সাধনার ব্যবস্থা করা হয়। যখন সে প্রবৃত্তিকে বশীভূত করে ফেলে এবং এমন স্তরে পৌঁছে যায় যে, প্রবৃত্তি তাকে হারাম ও নাজায়েযের প্রতি আকৃষ্ট করতে পারে না, তখন সব সুফী বুযুর্গই পূর্ববর্তী সাধক মনীষীদের ন্যায় উত্তম ও সুস্বাদু খাদ্য ব্যবহার করেন। তখন এ সর্ব উৎকৃষ্ট খাদ্য তাদের জন্য আধ্যাত্মিক পথে বিঘ্ন সৃষ্টির পরিবর্তে অধিক নৈকট্য লাভের উপায় হয়ে যায়।

পানাহার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবী (রাযি.) ও তাবেয়ী (রাহ.)গণের সুন্নাতের সারকথা এই যে, এসব ব্যাপারে লৌকিকতা পরিহার করতে হবে। যেরূপ পানাহার সহজলভ্য, তাই কৃতজ্ঞ সহকারে ব্যবহার করতে হবে। মোটা ভাত জুটলে যে কোন উপায়ে এমনকি কর্জ করে হলেও উৎকৃষ্টটি অর্জনের জন্য চেষ্টিত হবে না।

এমনিভাবে উৎকৃষ্ট ও সুস্বাদু খাদ্য জুটলে তাকে জেনেশুনে খারাপ মনে করবে না অথবা তার ব্যবহার থেকে বিরত থাকবে না। উৎকৃষ্ট ও সুস্বাদু খাদ্যের পিছনে লাগা যেমন লৌকিকতা, তেমনি উৎকৃষ্টকে নিকৃষ্ট করা কিংবা তা বাদ দিয়ে নিকৃষ্ট বস্তু ব্যবহার করাও নিন্দনীয় লৌকিকতা।

বর্ণিত আয়াতের মধ্যবর্তী বাক্যে একটি বিশেষ তাৎপর্য বর্ণনা করা হয়েছে যে, দুনিয়ার সব নিয়ামত, উৎকৃষ্ট পোশাক ও সুস্বাদু খাদ্য প্রকৃতপক্ষে আনুগত্যশীল মুমিনদের জন্যেই সৃষ্টি করা হয়েছে এবং তাদের কল্যাণেই অন্যেরা ভোগ করতে পারছে। কেননা, এ দুনিয়া হচ্ছে কর্মক্ষেত্র প্রতিদানক্ষেত্র নয়। এখানে পার্থিব নিয়ামতের মধ্যে আসল নকল ও ভালমন্দের পৃথক করা যায় না। করুণাময় আল্লাহ্ পাকের দস্তরখান সবার জন্যে সমভাবে বিছানো রয়েছে, বরং এখানে আল্লাহ্ পাকের রীতি এই যে, মুমিন ও অনুগত বান্দাদের আনুগত্যে কিছু ত্রুটি হয়ে গেলে অন্যেরা তাদের উপর প্রবল হয়ে পার্থিব নিয়ামতের ভান্ডার অধিকার করে বসে এবং তারা (মুমিন ও অনুগত বান্দারা) দারিদ্র ও উপবাসের করাল গ্রাসে নিপতিত হয়।

কিন্তু এই আইনে শুধু এ দুনিয়ারূপী কর্মক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ। পরকালে সমস্ত নিয়ামত ও সুখ কেবলমাত্র আল্লাহ্ পাকের অনুগত বান্দাদের জন্য নির্দিষ্ট থাকবে। তাই তো বর্ণিত আয়াতে বলা হয়েছে, সব পার্থিব নিয়ামত প্রকৃতপক্ষে পার্থিব জীবনেও মুমিনদেরই প্রাপ্য এবং কিয়ামতের দিন তো এককভাবে তাদের জন্যেই নির্দিষ্ট হবে।

হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রাযি.)এর মতে উপরোক্ত বাখ্যাটির অর্থ এই যে, পার্থিব সব নিয়ামত ও সুখ স্বাচ্ছন্দ্য পরকালে শাস্তির কারণ হবে না, এ বিশেষ অবস্থাসহ তা একমাত্র অনুগত মুমিন বান্দাদেরই প্রাপ্য। কাফির ও পাপাচারীদের অবস্থা এরূপ নয়। পার্থিব নিয়ামত তারাও পায় বরং আরও বেশী পায়; কিন্তু এ সব নিয়ামত পরকালে তাদের জন্য শাস্তি ও স্থায়ী আযাবের কারণ হবে। কাজেই পরিণামের দিক দিয়ে এসব নিয়ামত তাদের জন্য সম্মান ও সুখের বস্তু নয়।

কোন কোন তফসীরবিদের মতে আয়াতের অর্থ এই যে, পার্থিব সব নিয়ামতের সাথে পরিশ্রম, কষ্ট, হস্তচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা ও নানারকম দুঃখ কষ্ট লেগে থাকে। নির্ভেজাল নিয়ামত ও অনাবিল সুখের অস্তিত্ব দুনিয়াতে নেই। তবে ক্বিয়ামতে যারা এসব নিয়ামত লাভ করবে, তারা নির্ভেজাল অবস্থায় লাভ করবে। এগুলোর সাথে কোনরূপ পরিশ্রম, কষ্ট, হস্তচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা এবং কোন চিন্তা ভাবনাও থাকবে না। উপরোক্ত তিন প্রকার অর্থই বর্ণিত আয়াতের বাক্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। তাই সাহাবী (রাযি.) তাফসীরবিদগণ এসব অর্থই গ্রহণ করেছেন।

আলোচ্য আয়াতের শেষে বলা হয়েছে, আল্লাহ্ তাআলা স্বীয় অসীম শক্তির নিদর্শনাবলী জ্ঞানবানদের জন্যে এমনিভাবে খুলে খুলে বর্ণনা করেন, যাতে পন্ডিত মূর্খ নির্বিশেষে সবাই বুঝে নেয়। ভাল পোশাক ও ভাল খাদ্য বর্জন করলে আল্লাহ্ তাআলা সন্তুষ্ট হন, মানুষের এরূপ বাড়াবাড়ি ও মূর্খতাসূলভ ধারণা খন্ডন করা হয়েছে উক্ত আয়াতের মাধ্যমে। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ্ তাআলা প্রদত্ত সকল নিয়ামত মুমিনদের জন্য উপহার বৈ অন্য কিছু নয়। পক্ষান্তরে কাফির বেদ্বীনরা এসব নিয়ামত যথেচ্ছা ব্যবহার করার ফলশ্রুতিতে তারা আল্লাহ্ তাআলার কঠিন শাস্তির সম্মুখিন হবে, এটা সম্পূর্ণ নিশ্চিত। আল্লাহ্ তাআলা মেহেরবাণী করে আমাদের সকলকে আল্লাহ্ তাআলা প্রদত্ত নিয়ামতের যথাযথ ব্যবহার করার তৌফিক দান করুন। আমীন॥ ওয়ামা তাওফীকি ইল্লাবিল্লাহ্।

লেখক- ভাইস প্রিন্সিপাল ও সিনিয়র মুহাদ্দিস- জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা-ঢাকা, সাংগঠনিক সম্পাদক- জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক- উত্তরা রওজাতুস সালিহাত মহিলা মাদ্রাসা, খতীব-  উত্তরা ১২নং সেক্টর বায়তুন নূর জামে মসজিদ, উপদেষ্টা- উম্মাহ ২৪ডটকম।

এভাবে আর কতদিন লাশের মিছিল দেখে যেতে হবে: এই অবস্থা আর সহ্য হয় না

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.