Home অর্থনীতি ইউরোপে বাংলাদেশের ওষুধ রফতানির ট্রানজিট পয়েন্ট হতে পারে তুরস্ক

ইউরোপে বাংলাদেশের ওষুধ রফতানির ট্রানজিট পয়েন্ট হতে পারে তুরস্ক

0
- ফাইল ছবি।

ডেস্ক রির্পোট: টার্কিস মেডিসিনস অ্যান্ড মেডিক্যাল ডিভাইস এজেন্সিজের (টিএমএমডিএ) প্রেসিডেন্ট ড. হাক্ক গুসরজের নেতৃত্বে একটি ডেলিগেশন গতকাল রোববার বাংলাদেশ ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরে মতবিনিময় করেন। তিনি জানান, ইউরোপিয়ান মার্কেটে বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি করতে চাইলে বাংলাদেশে তুরস্ককে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। এ বিষয়ে তুরস্ক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

ড. হাক্ক গুসরজ তুরস্কের ১৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে বাংলাদেশ সফর করছেন। গতকাল সকালে তিনি মহাখালীর ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালকের সাথে এ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় উপরোক্ত বক্তব্য দেন।

এতে ওষুধ প্রশাসনের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো: মোস্তাফিজুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। ওষুধ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের ওষুধ, ওষুধশিল্পবিষয়ক প্রেজেন্টেশন দেন মো: সালাহ উদ্দিন। বক্তব্য রাখেনÑ পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো: রুহুল আমীন, উপস্থিত ছিলেন পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) নায়ার সুলতানা।

ড. হাক্ক গুসরজ বলেন, আমরা তুরস্কে কিছু ওষুধ তৈরি করি যা বিশ্বমানের। এখানে আমরা ওষুধের কারখানা নির্মাণ করে তুরস্কের বিশ্বমানের বায়োটেক ওষুধ উৎপাদন করতে চাই। তুরস্ক এপিআই আমদানি নির্ভর দেশ হলেও দেশটি বায়োটেক টেকনোলজি সমৃদ্ধ ওষুধ উৎপাদন করে। তুরস্ক তার ওষুধের বেশির ভাগ কাঁচামাল (এপিআই) আমদানি করে।

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে একটি এপিআই পার্ক স্থাপনে এগিয়ে চলেছে। এই সেক্টরে তুরস্কের সাথে বাংলাদেশের সহযোগিতা হতে পারে বলে ড. হাক্ক আগ্রহ প্রকাশ করেন। তুরস্ক বায়োইকুইভ্যালেন্ট প্রযুক্তির উন্নয়ন করেছে। এ সেক্টরেও বাংলাদেশের সাথে তুরস্কের সহযোগিতা হতে পারে বলে তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন। ওষুধ সেক্টরে গবেষকপর্যায়েও দুই দেশের সহযোগিতা হতে পারে ড. হাক্ক উল্লেখ করেন। তুরস্কে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো অ্যান্টিবায়োটিকের উচ্চ ব্যবহার রয়েছে এবং প্রচুর অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স দেশের তালিকায় তুরস্কের নাম রয়েছে।

ড. হাক্ক বলেন, তুরস্ক উন্নতমানের মেডিক্যাল ডিভাইস তৈরি করে থাকে এবং ২০১৮ সালে ২৩০ কোটি ডলারের মেডিক্যাল ডিভাইসের মার্কেট ছিল। তিনি জানান, তুরস্কে ২৬ হাজার ফার্মাসিস্ট রয়েছে। সেখানে ওষুধ উৎপাদন থেকে ধরে ওষুধ বিক্রিও হয় ফার্মাসিস্টের মাধ্যমে।

এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, তুরস্কে রোগীর জন্য কোনো কাগুজি প্রেসক্রিপশন নেই। শুধুমাত্র রোগীকে একটি কোড দেয়া হয়। সেই কোড নিয়ে কোনো ফার্মেসিতে কর্মরত ফার্মাসিস্টকে দেখালে তিনি রোগীর কোড ব্যবহার ইন্টারনেট থেকে প্রেসক্রিপশনটি বের করে রোগীকে ওষুধ দিয়ে দেন। তুরস্কে বছরে ৪০ কোটি ইলেকট্রনিক ড্যাটা প্রেসকিপশন হয়ে থাকে। বাংলাদশের মতো তুরস্কের শিশু ভ্যাক্সিনেশনের হার ৯৭ শতাংশ।

টিএমএমডিএর প্রেসিডেন্টের সাথে ওষুধ ও মেডিক্যাল ডিভাইস উৎপাদনকারী বিভিন্ন এজেন্সির ১৭ জন প্রতিনিধি এসেছেন। এদের একজন জানান, শুরুতে বাংলাদেশের ওষুধের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও ওষুধ কারখানা পরিদর্শন করার পর তা নিয়ে আর সন্দেহ নেই।

উল্লেখ এ প্রিতিনিধি দলটি ইতোমধ্যে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস পরিদর্শন করেছেন বলে জানিয়েছেন। একজন জানিয়েছেন, বাংলাদশের মার্কেট দেখে মনে হয়েছে এখানে অনেক কিছু করার আছে। তুরস্কে মেডিক্যাল ডিভাইস উৎপাদন কারখানা রয়েছে এমন একজন প্রতিনিধি জানিয়েছেন, যেসব ডিভাইস তিনি তুরস্কে উৎপাদন করেন এখানে তিনি এসব উৎপাদন করতে চান। তাহলে এখানে মেডিক্যাল ডিভাইসের দাম কমে যাবে।

তিনি জানান, বছরে তারা ৩৫ লাখ মেডিক্যাল ডিভাইস উৎপাদন করেন তুরস্কে। ওষুধ প্রসঙ্গে একজন জানিয়েছেন, বাংলাদেশে এখনো প্রথম প্রজন্মের ওষুধ উৎপাদন হচ্ছে। তারা এখানে সর্বশেষ প্রযুক্তির ওষুধ উৎপাদন করতে চান। তাহলে এ দেশ থেকে আরো বেশি ওষুধ রফতানি করা যাবে। একজন এ প্রসঙ্গে বলেন, এখানকার ওষুধের দাম অনেক কম। সে কারণে তুরস্কের ওষুধ এখানে বিক্রি করা সম্ভব নয়।

উত্তরে ওষুধ প্রশাসনের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা আমাদের চাহিদার ৯৭ শতাংশ ওষুধ উৎপাদন করলেও ৯৫ শতাংশ মেডিক্যাল ডিভাইস আমদানি করি। আমরা এ বিষয়ে উভয় দেশ পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করতে পারি। পরিচালক মো: রুহুল আমিন বলেন, বাংলাদেশ গুণগত মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদন করে থাকে। আমরা এ বিষয়ে তুরস্কের সাথে যৌথ সহযোগিতায় কাজ করতে পারি।

মাত্র ১০০ দিনে ৮ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.