Home সাক্ষাৎকার সনদের স্বীকৃতিতে নতুন বিতর্ক ও অতি উচ্ছ্বাস কোনটাই কাম্য নয়: মাওলানা আব্দুর...

সনদের স্বীকৃতিতে নতুন বিতর্ক ও অতি উচ্ছ্বাস কোনটাই কাম্য নয়: মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী

0
জমিয়ত সহসভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী।

উম্মাহ প্রতিবেদক: গত ১৯ সেপ্টেম্বর বুধবার জাতীয় সংসদে কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ সনদকে সাধারণ শিক্ষার স্নাতকোত্তর ডিগ্রির স্বীকৃতি দিতে বিল পাস হয়েছে। কওমি সনদের বিল পাস হওয়ায় বেফাকের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে শোকরিয়া মিছিল করা হয়। হেফাজত আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফীও পৃথক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রীকে এ জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

কওমী সনদের স্বীকৃতি নিয়ে কওমি অঙ্গনের কারা কারা কাজ করেছেন এবং কে কোন ভূমিকা পালন করেছে, জাতীয় সংসদে সনদের বিল পাস হওয়ার পর নতুন করে অনেকেই এই নিয়ে অনেকে মতামত ব্যক্ত করেছেন।

উম্মাহ ২৪ ডটকম এর পক্ষ থেকে এই নিয়ে কথা হয় জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহসভাপতি বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফীর সাথে।

শুরুতেই তিনি বলেন,  গত দুই সপ্তাহ ধরে জমিয়তের সাংবাদিক সম্মেলন, প্রেসক্লাবে বহু দলীয় মতবিনিময় সভা ও কেন্দ্রীয় আমেলায় আগামী তিন বৎসরের পরিকল্পনা পেশসহ এ নিয়ে বেশ ব্যস্ত ছিলাম। আজ একটু নিঃশ্বাস ফেলার সুযুগ পেয়েছি।

কওমী সনদের স্বীকৃতি দাবী প্রসঙ্গে পেছনের ইতিহাস টেনে তিনি বলেন, বেফাকুল মাদারিসসহ বাংলাদেশের সকল কওমী বোর্ড কওমী সনদের স্বীকৃতির দাবিতে একমত ছিল। এর বাইরে শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক (রাহ.)এর নেতৃত্বে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আলাদা আন্দোলন করে। আমি যখন মহাসচিব ছিলাম, তখন মজলিসে আমেলার কয়েকটি বৈঠকে এ নিয়ে আলাপ আলোচনা হয়।

আপনাদের বৈঠকে কী আলোচনা হতো- এমন প্রশ্নের উত্তরে মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী বলেন, সনদের স্বীকৃতি দাবী নিয়ে একটা পর্যায়ে শায়খুল হাদীস (রাহ.)এর মধ্যে দ্বিধাদ্বন্ধ কাজ করছি। কারণ, তাঁর এ ব্যাপারে শরহে সদর হচ্ছিল না। সনদের স্বীকৃতির বিষয়টি দুনিয়া হাসিলের কারণ হয়ে” لم يجد عرف الجنة ” এর মিসদাক হয়ে যায় কি না, এ নিয়ে শায়খুল হাদীস খুবই চিন্তিত ছিলেন। পরে আমরা ঐক্যমতের ভিত্তিতে আন্দোলনে নামি। সভা- সমাবেশ, মিছিল, মুক্তাঙ্গনে পাঁচ দিন অবস্হান সব কিছুই আমরা করেছি।

কওমি সনদের দাবী নিয়ে তখন আপনাদের সাথে আর কারা ছিল? মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী বলেন, সরাসরি কওমি সনদের স্বীকৃতির দাবি প্রসঙ্গে এটা বললে অত্যুক্তি হবে না যে, খেলাফত মজলিসর বাইরে এই নিয়ে অন্য কোন রাজনৈতিক পার্টি দলীয়ভাবে এ জন্য আন্দোলন করেনি।

এর সাথে মাওলানা ইউসুফী যোগ করেন, “তবে স্বীকৃতির পর পরিণতি কি হয়, তা নিয়ে সন্দেহ, সংশং ও ভাবনার মতো আলেমের কমতি ছিল না”।

মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী আরো বলেন, একটা পর্যায়ে কওমি সনদের স্বীকৃতির প্রয়োজনীয়তার উপর সামগ্রিক ভাবে সবাই একমত হয়েছিলন। কিন্তু যেহেতু বিষয়টি স্পর্শকাতর এবং ইজতেহাদী, তাই কেউ কেউ আবার নিজেদেরকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে কিংবা তাক্ওয়া ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে গিয়ে স্বীকৃতি বিষয়ে নানান নেতিবাচক মন্তব্যও করেছেন- এমনও দেখা গেছে।

সনদের স্বীকৃতি বিল পাস হওয়ার পরও কওমি অঙ্গনের কোন কোন মহল থেকে এই নিয়ে সন্দেহ ও নেতিবাচক মন্তব্য করতেও দেখা যাচ্ছে। আবার অনেকে স্বীকৃতির বিল পাসকে ঐতিহাসিক অর্জন বলেও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন এবং এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নানা পর্যায়ে নতুন নতুন বিতর্কেও অনেককে জড়িয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফীর মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি মনে করি, একটা সর্বসম্মত বিষয়ের ব্যাপারে নেতিবাচক বক্তব্য বা ভূমিকা না রেখে কওমী শিক্ষা সনদের উপর প্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিকে কীভাবে সঠিক ধারায় রাখা যায়, কীভাবে এই স্বীকৃতি থেকে নতুন প্রজন্মের কওমী আলেমদের রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে কাজের পরিধি বাড়ানো যায় এবং যেসব স্তরে এতদিন স্বীকৃতি না থাকার কারণে আলেমদের কাজ করতে বাধা ছিল, সেসব জায়গায় প্রাপ্য এই স্বীকৃতিকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে পৌঁছানো যায়, তার প্রতি বিজ্ঞজনদের দৃষ্টি দেয়া উচিত। পাশাপাশি সনদের স্বীকৃতি বিল পাস নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি যেমন কাম্য নয়, তেমনি মাত্রাতিরিক্ত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা থেকেও সকলের বিরত থাকা উচিত। কারণ, দুইটাই আলেম সমাজের ভাবগাম্ভির্যতা ও বিচক্ষণতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.