Home ওপেনিয়ন কৌশলগত যুদ্ধে হেরে গেছে ভারত

কৌশলগত যুদ্ধে হেরে গেছে ভারত

0

।। সৈয়দ শামছুল হুদা ।।

যুদ্ধ উম্মাদনা সৃষ্টিতে ভারতীয় মিডিয়ার কোন জুড়ি নেই। মিডিয়ায় তাদের অঙ্গ-ভঙ্গি দেখলে মনে হয় তারা বিশ্বজয়ী কোন শক্তি। কিন্তু বাস্তব জগতে এরা কতটা ভীতু তা যুদ্ধ শুরু হতে না হতেই প্রকাশ হতে শুরু করেছে। যুদ্ধ কারোই পছন্দ না। কোন সুস্থ্য মানুষ যুদ্ধ চায় না। গুজরাটের কুখ্যাত খুনি নরেন্দ্র মোদী যেহেতু সুস্থ্য মানুষ না, তাই তিনি মাঝে মাঝেই যুদ্ধ যুদ্ধ খেলার মহড়া দেন। কিন্তু প্রতিবেশি দেশটি যে পাকিস্তান তা ভুলে যান। এরা মনে করে সেই দেশের সাথেই খেলছি, যেদেশের সাথে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বিদ্যমান। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কী লজ্জাস্কর কূটনৈতিক ভাষা!!

হামলা হয়েছে কাশ্মীরে। গোটা কাশ্মীরকে ভারত অবৈধ বাহিনী দিয়ে ঘেরাও করে রেখেছে। বছরের পর বছর সেখানে মুসলিম মা-বোনদের ওপর জুলুম-নির্যাতন করে যাচ্ছে। তরুনদের জীবনকে বিষিয়ে তোলা হয়েছে। তারই প্রতিক্রিয়ায় জনৈক কাশ্মীরি তরুন প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ওপর আক্রমন চালায়।

এর জের ধরে গোটা ভারতে এমন একটি উম্মাদনা সৃষ্টি করা হয় যা ভাবলেও গা শিউরে উঠে। গোটা ভারতে কাশ্মীরিদের ওপর হামলা শুরু হয়। ভারত কতটা হিংসাত্মক জাতি তা বুঝতে শুধূ এতটুকু সংবাদই যথেষ্ট যে, ভারতের কারাগারে বন্দী এক পাকিস্তানীকে অন্য বন্দীরা পিটিয়ে মেরে ফেলে। এরপর থেকেই ভারতের একের পর এক পরাজয় লক্ষণ স্পষ্ট হতে থাকে। প্রথমে সংবাদ আসে, তাদেরই অভ্যন্তরীণ মহড়ার সময় দুই বিমান ধ্বংস হয়। এক বিমান কমান্ডার আত্মহত্যা করে। সবশেষে পাকিস্তানে দুটি জঙ্গীবিমান ও একটি হেলিকপ্টার ভুপাতিত করার মাধ্যমে পাকিস্তান যে সামরিক দক্ষতা দেখায় তা এক কথায় অকল্পনীয়।

পাকিস্তান বারবার বলছে, তারা যুদ্ধে জড়াবে না। কিন্তু কেউ গায়ে পড়ে ঝগড়া করলে পাল্টা আক্রমনের কোন চিন্তা করার সুযোগ থাকবে না। হামলা হবেই। সুনিশ্চিতভাবেই হবে। পাকিস্তান তার কথা রেখেছে। ভারত যখন প্রকাশ করলো যে, সে পাকিস্তানে হামলা করেছে এবং সেখানে ৩০০জনকে হত্যা করেছে, এর প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তান যা করেছে তাতে গোটা ভারতই হতভম্ব। সুষমা স্বরাজ এখন বলছে, ভারত আর যুদ্ধ যুদ্ধ খেলাকে এগিয়ে নিতে চায় না।

পাকিস্তানী আর্মি দু জন পাইলটকে গ্রেফতার করে, তাদের সাথে যে আচরণ করে তা দেখে সকলেই হতবাক। ভারত যেখানে একজন পাকিস্তানী কয়েদীকে পিটিয়ে মেরে ফেলে, সেখানে পাকিস্তান একজন সীমান্ত অতিক্রমকারী পাইলট যে কী না পাকিস্তানের জনগণকে পিষে মেরে ফেলার জন্য বোমা নিক্ষেপ করছিল, তাকে গ্রেফতারের পর এমনই সুন্দর ব্যবহার করে যার দ্বারা সেই অফিসারও তার হিংসার কথা ভুলে যায়। আজ এর বিপরীতটা হতো, র্অথাৎ কোন পাকিস্তানী পাইলটকে ভারতীয় জনতা গ্রেফতার করতো, তাহলে মনে হয় আগুনে পুড়িয়ে মেরে ফেলতো। কিন্তু পাকিস্তান সেটা করেনি। ৎ

মহড়ায় বিমান ধ্বংস, বৈমানিকের আত্মহত্যা, হেলিকপ্টার হারানো, জঙ্গিবিমান ধ্বংস, পাইলট গ্রেফতার ইত্যাদি মিলে ভারত শুরুতেই যুদ্ধে হেরে গেছে এটা বলা যায়। অবশ্য বাংলাদেশের অতিতোষামোদী পত্রিকা প্রথম অন্ধকার পড়লে মনে হয়, ভারত বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে। চামচামিরও একটা সীমা থাকা দরকার।

ভারত ছোট মনের এক বিশাল দেশ। কিন্তু তারা জাতি হিসেবে ভীত। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক যারা সীমান্তে যুদ্ধের নিউজ কভার করতে গিয়েছিল পাকিস্তানী সেনাদের হামলার প্রেক্ষিতে তাদের আর্তচিৎকার আর ভয়ার্থ চেহারা দেখে আমরাই লজ্জিত।

ভারতের ব্রাম্ম্যন্যবাদী শক্তির বাড়াবাড়ির কারণেই আজ ভারত পাকিস্তান। সুবিদাবাদী ব্রাম্মন্য শক্তি ভারতের সাধারণ মানুষের সকল প্রকার নৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে। ভারতের বড়ভাই সুলভ আচরণের কারণে দেশ ভাগ হযেছে। পার্শ্ববর্তি কোন দেশের সাথেই ভারতের সুসম্পর্ক নেই। অবশ্য স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কটা ছাড়া।

ভারত পাকিস্তান যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্থ আমরাও হবো। পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী দুটি প্রতিবেশি সবসময়ই এমন উত্তেজনায় থাকলে এর প্রভাব আমাদের অর্থনীতির ওপরও পড়বে। সুতরাং আমরাও কেউ যুদ্ধ চাই না। কিন্তু ভারত যেভাবে একপক্ষীয় সিনেমাটিক বিজয় অর্জন করতে চায়, এবং আর সেটা পারবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.