Home রাজনীতি রাশেদ খান মেননকে প্রকাশ্যে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে: জমিয়তের প্রতিবাদ সভায়...

রাশেদ খান মেননকে প্রকাশ্যে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে: জমিয়তের প্রতিবাদ সভায় বক্তারা

1
প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ইসলামী নেতৃবৃন্দের একাংশকে দেখা যাচ্ছে। ছবি- উম্মাহ।

উম্মাহ রিপোর্ট: গত ৩ মার্চ রবিবার বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের জাতীয় সংসদে দেয়া  উদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এর উদ্যোগে আজ (৭ মার্চ) বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১১টায় পল্টনস্থ জমিয়তের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় সমমনা ইসলামী দলসমূহের নেতৃবৃন্দও শরীক হন।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ-এর সহসভাপতি আল্লামা আব্দুর রব ইউসুফী’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বক্তারা বলেন, রাশেদ খান মেনন হেফাজত আমীর সর্বজন মান্য শ্রদ্ধেয় আলেম আল্লামা শাহ আহমদ শফী, ঈমান আক্বীদা ভিত্তিক অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম, উলামা-মাশায়েখ ও কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে অত্যন্ত জঘন্য ভাষায় মিথ্যাচার ও উদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি খতমে নবুওয়াতের অস্বীকারকারী ও মিথ্যা নবুওয়াতের দাবিদার মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর অনুসারী আহমদিয়া জামাতের পক্ষে ও খতমে নবুওয়াত আন্দোলনের বিরুদ্ধে জঘন্য কথা বলেছেন। এছাড়াও তিনি স্কুল-কলেজের শিক্ষায় অসাম্প্রদায়িক চেতনার নামে মূলত: নাস্তিক্যবাদি ধ্যান-ধারণার পাঠ যুক্ত করতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন। তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়েও কটূক্তি ও অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছেন।

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা রাশেদ খান মেননকে অনতিবিলম্বে তার বক্তব্য প্রত্যাহারপূর্বক জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি এবং সংসদের কার্যবিরণী থেকে তার বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার জন্য স্পীকারের প্রতি আহ্বান জানান। অন্যথায় তৌহিদী জনতা এসব কটূক্তি, অপপ্রচার ও ধর্মবিদ্বেষী বক্তব্যের সমুচিত জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারী ব্যক্ত করেন। সভায় ইসলামী দলসমূহের নেতৃবৃন্দ সরকারের প্রতি কাদিয়ানীদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিও পুণর্ব্যক্ত করেন। বক্তারা আগামী কাল ঢাকা বায়তুল মুকাররমের উত্তর গেট থেকে হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ মিছিলে শরীক হওয়ার জন্য ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী জেলার সর্বস্তরের তৌহিদী জনতার প্রতি আহ্বান জানান।

সভায় বক্তব্য রাখেন, মুসলীম লীগের মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব অধ্যাপক হেকিম আব্দুল করীম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্মমহাসচি মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, খেলাফত মজলিশের যুগ্মমহাসচিব শেখ গোলাম আসগর, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মাওলানা নাজমুল হাসান, যুগ্মমহাসচিব মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মুফতী মনির হোসাইন কাসেমী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা এনামুল হক মূসা, ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহকারী মহাসচিব মাওলানা শোয়াইব আহমদ, মাওলানা সানা উল্লাহ মাহমূদী, সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মতিউর রহমান গাজীপুরী, অর্থসম্পাদক মুফতি জাকির হোসাইন হোসাইন কাসেমী, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব মুস্তফা মুঈনুদ্দীন খান, খেলাফত মজলিসের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল জলীল, জমিয়তের দপ্তর সম্পাদক মাওলানা আব্দুল গাফফার ছয়গরী, জমিয়ত ঢাকা মহানগরের যুগ্মসম্পাদক মাওলানা বশিরুল হাসান খাদিমানী প্রমুখ। প্রতিবাদ সভা পরিচালনা করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’র প্রচার সম্পাদক মাওলানা জয়নুল আবেদীন।

সভাপতির বক্তব্যে আল্লামা আব্দুর রব ইউসুফী বলেন, হেফাজতে ইসলাম একটি বৃহৎ অরাজনৈতিক সংগঠন। দেশের শীর্ষ আলেম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে এই সংগঠনটি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ঈমান-আক্বীদা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে আসছে। এই সংগঠনের ব্যানারে দেশের আলেম সমাজ ও কোটি কোটি তৌহিদী জনতা ঐক্যবদ্ধ। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নেও এই সংগঠনটির সরব ভূমিকা সর্বমহলে অত্যন্ত প্রশংসিত। অথচ কমিউনিস্ট নেতা রাশেদ খান মেনন সংসদে দাঁড়িয়ে জনপ্রিয় এই বৃহৎ সংগঠন এবং এর আমীর সর্বজনমান্য প্রবীণ আলেম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর বিরুদ্ধেও জঘন্য কটূক্তি করেছেন। সেদিন রাশেদ খান মেননের বক্তব্য উদ্ধত্যের সকল সীমা ছাড়িয়ে গেছে। রাশেদ খান মেননকে অনতিবিলম্বে বক্তব্য প্রত্যাহারপূর্বক জাতির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে এবং সংসদের কার্যবিরণী থেকে তার বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করতে হবে। অন্যথায় তৌহিদী জনতা এসব কটূক্তি, অপপ্রচার ও ধর্মবিদ্বেষী বক্তব্যের সমুচিত জবাব দেবে, ইনশাআল্লাহ।

পুরান ঢাকায় কোনও রাসায়নিক দাহ্য পদার্থের গুদাম থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী