Home আঞ্চলিক হাটহাজারীতে ‘স্মৃতি-বিস্মৃতির দোলাচলে শাপলার চেতনা, উত্তরণে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভা সম্পন্ন

হাটহাজারীতে ‘স্মৃতি-বিস্মৃতির দোলাচলে শাপলার চেতনা, উত্তরণে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভা সম্পন্ন

গতকাল (৬ মে) সোমবার ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে ঢাকার শাপলা চত্বর ও চট্টগ্রামের হাটহাজারীসহ সারাদেশে শাহাদাতবরণকারীদের স্মরণে “স্মৃতি-বিস্মৃতির দোলাচলে শাপলার চেতনা, উত্তরণে করণীয়” শীর্ষক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। হাটহাজারীর স্থানীয় বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠন ‘মুঈনী কাফেলা’র ব্যবস্থাপনায় ও ৫ মে ২০১৩ সালে কালোরাতে স্বশরীরে শাপলা চত্বরে উপস্থিত থাকা হেফাজত নেতৃবৃন্দদের উদ্যোগে এই আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন, হেফাজতে ইসলামের নাস্তিকবিরোধী আন্দোলনে প্রিয়নবীর ইজ্জৎ রক্ষায় এবং একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে যে যতটুকু শ্রম, মেধা, অর্থ ও সময় দেওয়ার মাধ্যমে আন্দোলন-সংগ্রামে সহযোগিতা করেছে, আল্লাহ্‌তায়ালা প্রত্যেককে ইতিমধ্যে দুনিয়াতেও তার উত্তম প্রতিদান দিচ্ছেন। পাশাপাশি ঐ ত্যাগী নেতাকর্মীরা আজ তৌহিদীজনতার কাছে প্রশংসিত, সমাদৃত এবং বরণীয়। আর বিপরীতদিকে যারা হেফাজত নেতাকর্মীদের সরাসরি ঘাতক বা কিলিং মিশনে অংশ নিয়েছেন ঐ নরপিশাচদের মধ্যে অনেকের হতাহতের নিউজ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সচিত্র প্রতিবেদনকারে এসেছে। বাকিদের ধ্বংসও অনিবার্য ইনশাআল্লাহ। সাথে সাথে ঐ সকল কুশীলব যাদের কারণে এমন হত্যাযজ্ঞের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছিল, তাদেরকে আজকের সমাজ চরমভাবে ধিক্কার দিচ্ছে! স্বাভাবিক জীবন-যাপন তাদের জন্য আজ কঠিন হয়ে পড়েছে! অস্থিরতা আর অনুশোচনায় দিনাপাত করতে হচ্ছে।

প্রধাব অতিথির বক্তব্যে হেফাজত শু’রা পরিষদ সদস্য, সদ্যবিদায়ী হাটহাজারী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনীর বলেন, আজকে পরিবেশ-পরিস্থির কারণে অনেক কিছু চাপিয়ে যেতে হচ্ছে। তবে ইতিহাস কিন্তু আপনগতিতে পৃষ্ঠা উলটাচ্ছে। ইতিহাসের তূলিতে আঁকা ছবিতে চিত্রায়িত হবে কারা শাপলার নায়ক আর খলনায়ক। হেফাজত আন্দোলন বাংলাদেশের ইসলামী ইতিহাসে একটি প্রধান মাইলফলক। সেই ইতিহাসের অংশ হতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনেকরি।

শাপলা ট্রাজেডির বিভীষিকাময় রাতের সর্বশেষ অবস্থার স্মৃতিচারণ করে মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনীর বলেন, মাথার উপর দিয়ে যখন শো’ শো’ করে গুলি চলে যাচ্ছিল, সাউন্ড গ্রেনেডের বিকট আওয়াজ আর টিয়ারগ্যাসের ঝাঁজালো গন্ধে মৃত্যকে খুব কাছে থেকে দেখেছিলাম।

তিনি বলেন, রাত ২টার কিছুক্ষণ পর আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী আমাকে বললেন, আশেপাশের কোনো অফিসারকে একথা বলো যে, আমরা কেবল ফজরের নামাজ পর্যন্ত অবস্থান করবো। আমাদের তিনজনের প্রতিনিধি দলটি একটি পয়েন্ট থেকে আরেকটি পয়েন্টে যেতে না যেতেই মূল স্টেইজ ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরের ইতিহাস আপনাদের সকলের জানা।

আরও পড়ুন- আল্লাহ সুযোগ দিলেই শাপলা ট্র্যাজেডি কওমী পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করা হবে: আল্লামা ইউসুফী

বিশেষ অথিতির বক্তব্যে শাপলার ঐরাতে হেফাজত মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরীর সার্বক্ষণিক সঙ্গী বাংলাদেশ নূরানি তালিমুল কুরআন বোর্ড -এর চেয়ারম্যান মাওলানা মাহমুদ হোসাইন বলেন, হাটহাজারীর মাটিতে আর ফিরতে পারবো না প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলাম! আল্লাহ আমাদেরকে রক্ষা করেছেন।

তিনি বলেন, সেদিন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে যেই কষ্ট অনুভব করেছিলাম তারচেয়ে হাজারোগুন মারাত্মক কষ্ট পেয়েছি। যখন শোকরানা মাহফিলের মঞ্চে দাঁড়িয়ে সরকারের একজন সামরিক সচিব একটি মহাসত্যকে অবলীলায় নির্জলা মিথ্যাচারে পর্যবসিত করলেন। মঞ্চে উপবিষ্ট থাকা আমাদের নেতৃবৃন্দের নীরবতা আর নিস্তব্ধতা দেখে আমার মত হেফাজতপ্রেমী সকল তৌহিদীজনতার অন্তর ভেঙ্গেচুরে খানখান হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, আজ আমি এই দোয়া মাহফিল থেকে ধিক্কার দিচ্ছি ঐ সকল আলোচক/উপস্থাপকদের যারা এমন জগন্য মিথ্যা ঘোষণার পর স্পিকারে যাওয়ার সুযোগ পেয়েও নুন্যতম ভাষায় প্রতিবাদ করতে পারেনি। তারা অন্তত একথাটি বলতে পারতো যে “আমরা তার কথার সাথে একমত নই”।

মাওলানা কামরুল কাসেমীর সঞ্চালনা এবং সংগঠনটির মুখপাত্র মাওলানা তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আলোচকদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা হাফেজ আমিনুল হক, মাওলানা আব্দুর রহিম, মাওলানা এনায়েত হুছাইন, মাওলানা জুনায়েদ বিন ইয়াহইয়া, জনাব মো. আলাউদ্দিন, জনাব আতিকুর রহমান, মাওলানা ইকবাল মাদানী, হাফেজ সানাউল্লাহ ও মো. আবু সায়েম প্রমুখ।

আলোচনা সভার শেষের দিকে সঞ্চালক প্রত্যেক বক্তাদের কাছ থেকে জানতে চেয়েছেন “পরিস্থিতি উত্তরণে করণীয় কী হতে পারে”? আলোচকবৃন্দ যেসব বিষয়ে ঐক্যমত হয়েছে-

১. মর্চিয়া ক্রন্দনে সফলতা নেই, বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুনসৌধ নির্মাণের প্রয়াস নিতে হবে।
২. শহীদদের যেই তালিকা রয়েছে তাতে শহীদ পরিবারগুলো হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করার পাশাপাশি সারা দেশের আহতদেরও একটি তালিকা তৈরি করা।
৩. হেফাজতকেন্দ্রিক মামলা-মোকাদ্দমাগুলোর সর্বশেষ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা।
৪. শাপলাচত্বরে স্বশরীরে উপস্থিত থাকা নেতাকর্মীদের উদ্যোগে আহত-নিহতদের সাহায্যার্থে একটি কল্যাণ তহবিল গঠন করা। এবং
৫. কাজের ক্ষেত্রে যাদেরকে নুন্যতম পর্যায়ে মুখলিস পাওয়া যায় তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নেয়া।

আলোচনা সভা শেষে হেফাজতে ইসলাম হাটহাজারী শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ও অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম মেহেদীর নেতৃত্বে শোহাদায়ে কেরামের দারাজাত বুলন্দি এবং আহতদের জন্য বিশেষ করে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর হাফি. এর সুস্থতা কামনায় মুনাজাত করা হয়। -বিজ্ঞপ্তি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.