Home শীর্ষ সংবাদ কাঁচা তরল দুধের ৯৬ নমুনার ৯৩টিতে ক্ষতিকর মাত্রার উপাদান

কাঁচা তরল দুধের ৯৬ নমুনার ৯৩টিতে ক্ষতিকর মাত্রার উপাদান

ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বাজার থেকে সংগ্রহ করা কাঁচা তরল দুধের ৯৬টি নমুনা পরীক্ষা করে ৯৩টিতেই ক্ষতিকর মাত্রার অনুজীবানু উপাদান পেয়েছে। সংস্থাটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, নমুনাগুলোর অনুজৈবিক বিশ্লেষণ করে ৯৩টি নমুনাতে ক্ষতিকর মাত্রায় টিপিসি (টোটাল প্লেট কাউন্ট) ও কলিফরম পাওয়া গেছে এবং একটি নমুনায় সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে।

আদালতের দেয়া পূর্বের এক নির্দশ পালন করে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ দুধের নমুনা পরীক্ষা করে সে সম্পর্কিত প্রতিবেদনটি গতকাল (বুধবার) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি এ কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে দাখিল করে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের হয়ে আদালতে এই প্রতিবেদন দাখিল করেন আইনজীবী ফরিদুল আলম। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

দুধের রাসায়নিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৫টি নমুনাতে সিসা, ৩টিতে আফলাটক্সিন, ১০টিতে টেট্রাসাইক্লিন, একটিতে সিপ্রোফ্লক্সাসিন এবং ৯টিতে পেস্টিসাইট (অ্যান্ডোসালফান) ক্ষতিকর মাত্রায় পাওয়া যায়। 

তাছাড়া, প্যাকেটজাত তরল দুধের ৩১টি নমুনার (দেশি ২১টি এবং আমদানি করা ১০টি) মধ্যে ১৭টি দেশি দুধের নমুনাতে ক্ষতিকর মাত্রার টিপিসি ও কলিফরম কাউন্ট পাওয়া গেছে। রাসায়নিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশি দুধের একটি নমুনাতে আফলাটক্সিন, ৬টিতে টেট্রাসাইক্লিং এবং আমদানি দুধের তিনটিতে টেট্রাসাইক্লিং ক্ষতিকর মাত্রায় রয়েছে।

অনুরূপভাবে, দইয়ের ৩৩টি নমুনার ১৭টিতে পাওয়া গেছে ক্ষতিকর মাত্রায় টিপিসি, ৬টিতে পলিফরম কাউন্ট, ১৭টিতে ইস্ট/মোল্ড এবং একটিতে সিসা ।

ওদিকে, পশু খাদ্যের ৩০টি নমুনার মধ্যে ১৬টিতে ক্রোমিয়াম, ৪টিতে আফলাটক্সিন, ২২টিতে টেট্রাসাইক্লং, ২৬টিতে এনরোফ্লক্সাসিন, ৩০টিতে সিফরোফ্লক্সাসিন এবং ২টিতে পেস্টিসাইট (এন্ডসালফান) ক্ষতিকর মাত্রায় পাওয়া গেছে। এগুলো গরু-ছাগলের তরল দুধে ও মাংসের মাধ্যমে মানবদেহে সংক্রমিত হচ্ছে।

এর আগে গত ১১ ফেব্রুয়ারি কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে তরল দুধে ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে ভোক্তাদের মধ্যে একরকম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সরকারের জাতীয় নিরাপদ খাদ্য গবেষণাগারে পরীক্ষালব্ধ এ তথ্য নিয়ে প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘দেশে পুষ্টির অন্যতম প্রধান জোগান হিসেবে বিবেচিত গরুর দুধ বা দুগ্ধজাত খাদ্যে এবার মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর নানা উপাদান পাওয়া গেছে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ অন্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। পত্রিকায় প্রকাশিত ঐ প্রতিবেদনটি হাইকোর্টের নজরে আনেন আইনজীবী মামুন মাহবুব।

এরপর আদালত দুধে সিসা মিশ্রণকারীদের শাস্তির আওতায় আনার ব্যর্থতা কেন বেআইনি হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন। এছাড়াও রুলে দুগ্ধজাত খাবারে ভেজাল প্রতিরোধে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি খাদ্যে ভেজালের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির (মৃত্যুদণ্ড) কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

এ প্রেক্ষিতে আদালত ঢাকাসহ সারাদেশের বাজারে কোন কোন কোম্পানির দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য পণ্যে কী পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া, কীটনাশক এবং সিসা মেশানো রয়েছে, তা নিরূপণ করে একটি  প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশ দেন। সে প্রক্ষিতে আজ আদালতে এ বিষয়ক প্রতিবেদনটি  দাখিল করা হয়।