Home শীর্ষ সংবাদ ঈদের আগে বেতন-বোনাস নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা: নজরদারিতে ৬০০ পোশাক কারখানা

ঈদের আগে বেতন-বোনাস নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা: নজরদারিতে ৬০০ পোশাক কারখানা

ডেস্ক রিপোর্ট: ঈদ-উল-ফিতরের উৎসবের আগে বেশ কিছু পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিতে পারে বলে সরকারকে আগাম সতর্ক করে দিয়েছে শ্রমসংক্রান্ত ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটি। তৈরি পোশাক কারখানার মালিক ও রপ্তানীকারকদের সংগঠন বিজিএমই-এর সভাপতি রুবানা হক বলেছেন, ‘অসম্ভব খারাপ অবস্থা অতিক্রম করতে হচ্ছে।’

গত (রোববার) শ্রমসংক্রান্ত ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটির ৪১তম সভায় এরকম অসন্তোষের অন্তত সাতটি কারণও চিহ্নিত করা হয়েছে।  

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কার্যপত্রে উল্লেখিত কারণগুলোর মধ্যে আছে- যথাসময়ে অর্থাৎ ঈদের অন্তত সাত-আটদিন আগে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাস পরিশোধ না করা; ঈদ উপলক্ষে যথাযথ সময় ও চাহিদা মোতাবেক ছুটি না পাওয়া; শ্রমিকদের বেতন-ভাতা না দিয়েই হঠাৎ ঈদের প্রাক্কালে শিল্প-কারখানা বন্ধ অথবা লে-অফ ঘোষণা করা এবং রমজানে শ্রমিকদের অতিরিক্ত  কার্যাদেশ প্রদান ও রমজানে শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা সঠিকভাবে নির্ধারণ না করা।  এছাড়া, শ্রমিক ছাঁটাই, নির্যাতন ও হয়রানির বিষয়তো রয়েছেই।    

এ অবস্থায়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঈদকে কেন্দ্রকরে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিতে পারে এরকম ৬৬০টি পোশাক কারখানার তালিকা পাঠানো হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে। এর মধ্যে অতি ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা ২৪টি। আর ঝুঁকিপূর্ণ কারখানার সংখ্যা ২৯।

ঈদ-উল ফিতরের আগে পোশাক খাতে শ্রম অসন্তোষের আশংকার কথা জানিয়ে  বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি আবুল হেসাইন রেডিও তেহরানকে জানিয়েছেন, এ সমস্যা নিয়ে শ্রমিক নেতারা বিজিএমই-এর নেতাদের সাথে আজ বিকেলে মিটিং করেছেন। সেখানে মালিকপক্ষ সংকট মোকাবেলায় শ্রমিক নেতাদের সহযোগিতা চেয়েছেন। তবে শ্রমিক নেতারা জানিয়ে দিয়েছেন, সরকার কর্তৃক বেধে দেয়া সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন, বকেয়া পাওনা এবং বোনাস পরিশোধ করতে হবে।

অবুল হোসাইন আরো জানিয়েছেন, বিজিএসই এখন থেকেই পরিস্থিতি মনিটরিং করবে যাতে পরিস্থিতি সংকটজনক না হয়। আর শ্রমিক নেতারা বলেছেন, শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে তারা মালিকদের সাথে সহযোগিতা করবে; কিন্তু মালিকদেরও এ ব্যাপারে আন্তরিক হতে হবে। 

এর আগে গত ৬ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে শিল্প, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়ে বলা হয়, নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে সময়মতো শ্রমিকদের বেতন-ভাতাদি পরিশোধ না করায় সংশ্লিষ্ট কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের সৃষ্টি হচ্ছে। এ চিঠিতে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে মার্চের বেতন পরিশোধ করার জন্য বলা হয়েছে।

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঢাকা মহানগরী, সাভার, আশুলিয়া, টঙ্গী, নারায়ণগঞ্জে মোট ২ হাজার ৩৯৪টি কারখানার মধ্যে ১১৮টির বেতন-ভাতাদি পরিশোধ করা হয়নি। এর মধ্যে ৩৬টি কারখানা শ্রমিকদের বেতন-ভাতাদি এপ্রিলের মধ্যে পরিশোধ করতে সক্ষম হলেও অবশিষ্ট ৮২টির বেতন-ভাতাদি পরিশোধ করার সম্ভাবনা নেই বলে জানা যায়। ফলে এসব কারখানায় যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

বিজিএমইএর সূত্র মতে, সংগঠনের নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ১৭ দিনে ২১টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। এসব কারখানায় কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা ১৩ হাজার ৬৮৫।

কার্যাদেশ সংকট ও বেতন পরিশোধে নগদ অর্থের ঘাটতির কারণে কারখানা সচল রাখতে পারছেন না মালিকরা। কারখানা মালিকরা বলছেন, নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। অনেকেই কারখানা বন্ধের পদক্ষেপ বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। নগদ অর্থের সংকটে বাংলাদেশ ব্যাংকেও তদবির করতে হচ্ছে শিল্প মালিকদের। সূত্র- পার্সটুডে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার ঋণের বোঝা আরও বেড়ে গেল: দেশে ফিরে বললেন ওবায়দুল কাদের