Home জাতীয় চালের মূল্যের সাথে সমন্বয় করে কৃষকদের ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করুন: আল্লামা...

চালের মূল্যের সাথে সমন্বয় করে কৃষকদের ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করুন: আল্লামা কাসেমী

জমিয়ত মহাসচিব শায়খুল হাদীস আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী।

কৃষকরা ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’র মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী। তিনি বলেন, দেশের ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ মানুষ গ্রামে বসবাস করেন। আর গ্রামের বড় অংশ মানুষ কৃষি পেশার সাথে জড়িত। এই বিশাল জনগোষ্ঠির আয়ের একমাত্র অবলম্বন কৃষি উৎপাদিত পণ্যের উপর নির্ভরশীল। অথচ এই বিশাল জনগোষ্ঠী বছরের পর বছর ধরে অর্থনৈতিক বৈষম্য ও রাষ্ট্রীয় অবহেলার শিকার। সারা বছর বাজারে চালের উচ্চ মূল্য বিরাজমান থাকলেও এই কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল পাচ্ছে না। কৃষিকাজ করে দিনগুজরান তো দূরের কথা, কৃষকরা লোকসান গুনতে গুনতে পথে বসার অবস্থায় ঠেকেছে।

আজ (১৭ মে) শুক্রবার এক বিবৃতিতে আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী আরো বলেন, সরকারের অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার সুযোগে মধ্যস্বত্বভোগী অসৎ ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে উৎপাদন পর্যায়ে ধানের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। ধানের মূল্য যে জায়গায় নেমেছে, তাতে ৪ মণ ধান বিক্রি করেও এক কেজী ইলিশ মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। যে কারণে কৃষকদের জীবনে মারাত্মক অর্থনৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। ধানের বিক্রয়মূল্য উৎপাদন খরচের চেয়ে কম হয়ে পড়ায় কোটি কোটি কৃষক মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

তিনি বলেন, এভাবে কৃষকরা লাগাতার লোকসান গুনতে থাকলে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। কৃষক বিপন্ন হলে কৃষি ও কৃষি ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে দেশের সকল জনগণ ও দেশ মহাসংকটে পড়বে। তাই, যেকোনও উপায়ে ধানের মূল্য পতন রোধে ধান কল মালিক ও ফাঁড়িয়ারিদের কারসাজি রোধ করে কৃষক ও কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা রক্ষা করতে হবে।

জমিয়ত মহাসচিব সরকারের প্রতি চালের বাজার মূল্যের সাথে সমন্বয় রেখে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে মাঠ পর্যায়ে ধান কিনে দেশের কোটি কোটি কৃষককে রক্ষার দাবি জানান। তিনি বলেন, চালের বাজার মূল্য মণ ১৮ শত থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। এমনকি ধান থেকে যে কুঁড়া বের হয়, সেটার মণও ৪০০ টাকার কম নয়। অথচ ধানের বাজার মূল্য এখন সাড়ে ৪ শত টাকা। বাজার কারসাজি ছাড়া ধানের এমন মূল্য পতন হওয়ার কোন কারণ নেই।

তিনি আরো বলেন, দুর্ভাগ্যজনক ভাবে শত অনিয়ম দুর্নীতির মধ্যেও সরকারী পর্যায়ে যেসব উন্নয়নমূলক কর্মসূচী চলছে, তার প্রায় সবই নগর কেন্দ্রিক ও ব্যবসাবান্ধব হিসেবে যোগাযোগ ব্যবস্থা নির্ভর। অথচ গত এক যুগ ধরে সরকার কৃষকদের জন্য কার্যত: কিছুই করছে না। কৃষকরা এখন অনেকটাই অভিভাবকহীন ও অসহায় জীবন যাপন করছে। কৃষি কাজ করে তারা ধানের মূল্য পায় না। তরিতরকারির দাম পায় না। বাজারে এককেজী কাঁচা মরিচ ৫০ টাকা, কিন্তু ক্ষেতে কৃষকরা ১০ টাকাও পায় না। অথচ নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল পণ্যের দাম অনেক উচ্চ। একদিকে কৃষক ধানের দাম পায় না, অন্যদিকে তাদের বাজার-সদাইসহ সব খরচ নির্বাহ করতে হয় অনেক উচ্চ মূল্যে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের ৮০-৮৫ ভাগ মানুষের দিনগুজরানের খবর না নিয়ে সরকার কার উন্নয়ন করছে? আমাদের উন্নয়নের গল্প শোনানো হয়। জিডিপি বৃদ্ধির গল্প শোনানো হয়। গড় মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির কথা শোনানো হয়। অথচ দেশের ধনী বিত্তশালী ১০-১৫ ভাগ মানুষের সম্পদকে আলাদা করলে অবশিষ্ট জনগণের গড় মাথাপিছু আয় ৫০০ ডলারও দেখাতে পারবে না।

জমিয়ত মহাসচিব বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থা পরিকল্পিতভাবে ভেঙ্গে দেওয়ায় সংসদ ও সরকার ব্যবসায়ীদের দখলে চলে গেছে। যে কারণে নতুন নতুন সরকারী আইন, বিধি, নীতিমালা যা কিছু জারি হয়ে থাকে, সবই ব্যবসা বান্ধব এবং ব্যবসায়ীদের চাহিদা মতো হচ্ছে। গণমাধ্যমও এখন সব এই ব্যবসায়ীদের মালিকানায়। যে কারণে সংসদে, সরকারে, গণমাধ্যমে দেশের কোটি কোটি কৃষক ও খেটে খাওয়া মানুষের স্বার্থ নিয়ে কোন কথা নেই। অর্থনৈতিক বৈষম্য ভয়ানক পর্যায়ে চলে গেছে। দিন দিন নতুন নতুন ধনী তৈরি হচ্ছে এবং ধনীরা আরো ধনী হচ্ছে। অথচ দেশের কৃষক ও খেটে খাওয়া বড় অংশের মানুষ দিন দিন নিঃস্ব হচ্ছে।

জমিয়ত মহাসচিব হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন বলেন, এই ভয়াবহ অর্থনৈতিক বৈষম্যের সমাধান না হলে, দেশের সকল স্তরে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা না গেলে গণঅসন্তোষ একদিন বিস্ফোরিত হয়ে সকল জালেমদের মসনদ ও পাহাড়সম সম্পদকে ছারখার করে ছাড়বে। -বিজ্ঞপ্তি।

রমযান মু’মিনের জন্য কী প্রতিফল বয়ে আনে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.