Home নির্বাচিত সংবাদ রমযানের মূল শিক্ষা হল ‘তাকওয়া’ তথা আল্লাহ ভীতি অর্জন

রমযানের মূল শিক্ষা হল ‘তাকওয়া’ তথা আল্লাহ ভীতি অর্জন

।। মাওলানা সানাউল্লাহ মাহমূদী ।।

মাহে রমযানের মূল শিক্ষা হল তাকওয়া তথা আল্লাহ ভীতি অর্জন করা। আর এটা অর্জন করতে হলে বর্জন করতে হবে সকল গুনাহকে এবং যথাযথভাবে পালন ও মেনে চলতে হবে আল্লাহর প্রতিটি আদেশ ও নির্দেশকে। রোযাদার এই গুণ খুব সহজেই অর্জন করতে পারেন এবং রমযানের এক মাসের এই অনুশীলনের ফলে বাকী ১১ মাসও এই তাক্বওয়ার উপর নিজেদেরকে পরিচালিত করতে সচেষ্ট থাকেন। এই দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার এক প্রশিক্ষণ বান্দাহকে আল্লাহ পাক এর নৈকট্যশীল করে দেয়। আল্লাহ বান্দাহকে ভালবাসতে শিখায়, বান্দাহ আল্লাহকে ভালবাসে।

এই ভালবাসার দাবি হল প্রিয়র জন্য সব কিছু মেনে নেওয়া, তার জন্য সব কিছু ত্যাগ করা। প্রতি মুহূর্তে সতর্ক থাকা এবং প্রস্তুত থাকা যে, এই মুহূর্তে আমার প্রিয় কি চান, কি করলে তিনি খুশি হবেন, কি বললে তিনি খুশি হবেন, কি পরিধান করলে তিনি সন্তুষ্ট হবেন, কি পরিত্যাগ করলে তিনি সন্তুষ্ট হবেন, কি আহার করলে তিনি খুশি হবেন।

মোটকথা আল্লাহর মুহাব্বত পাওয়ার জন্য এই রমযান মাস বান্দাহ’র জন্য এক সুবর্ণ সুযোগ এনে দেয়। অন্তরে আল্লাহর মুহাব্বত পাওয়ার যে আকুলতা রোযা পালনের মাধ্যমে বান্দাহর অন্তরে সৃষ্টি হয়, এটাকেই তাকওয়ার সর্বোচ্চ অর্জন বলা যায়। আল্লাহর প্রতি মুহাব্বত, তাঁর রহমাতের আশা, তাঁর অসন্তুষ্টির ভয়; এই তিনটি গুণ যখন বান্দাহ অর্জন করতে চেষ্টা করে এবং যে পথে চললে এ গুণসমূহ অর্জিত হয়, সেই পথের নাম তাকওয়ার পথ।

এজন্য আল্লাহ রোযা ফরয করার আদেশের আয়াতের শুরুতেই উদ্দেশ্যটা এভাবে বর্ণনা করেছেন “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হয়েছে, যেমনি ভাবে ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতের উপর। যার মাধ্যমে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার। আমার ভালবাসা অর্জন করতে পার।

বলাই বাহুল্য, আল্লাহর ভালবাসা ছাড়া বান্দাহর আর কোন উদ্দোশ্যই থাকতে পারে না। রাহমাত, মাগফিরাত, চিরতরে জাহান্নামের শাস্তি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার যে বার্তা নিয়ে রমযানের আগমন, তা শুধুমাত্র আল্লাহ পাকের প্রিয় বান্দাহ হওয়ার এক মহাসুযোগ, সুবর্ণ সুযোগ।

ওহে পথহারা বান্দাহ, পথভোলা বান্দাহ, তুমি এগিয়ে আস। তুমি বিপথগামিতার যে পথে যাচ্ছ ও পথে আর যেও না, আমার দিকে আস, আমার রহমাতের দিকে আস। আমার দুয়ারে আস, তোমাকে ক্ষমা করে দিব। আমাকে ভালবাস আমি তোমাকে ভালবাসব। আর যাকে রহমতের কোলে তুলে নিব, যত ভুল সব ক্ষমা করে দিব এবং আমার প্রিয় বন্ধু করে নিব, তাকে কষ্মিনকালেও জাহান্নামে দিব না। তাকে আমার বানানো জান্নাত- যা এমন এমন নেয়ামাতে ভরপুর, যা তোমার চোখ কখনও দেখেনি, যা তোমার কান কোনদিন শোনেনি, তোমার হৃদয় যার চিত্রও কল্পনা করতে অক্ষম।

হে রোযাদারগণ, আপনাদের সামনে আর কটা দিন! একটু চিন্তা করুন, কত দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে এ সুবর্ণ সুযোগ! শেষ অর্ধেকের মহিমান্বিত রাতগুলো আমাদের থেকে দ্রুতই হারিয়ে যাবে। অবহেলা আর অলসতার চাদরকে ঝেড়ে ফেলে শেষ দশকের পরিপূর্ণ সুযোগ যেন আমরা গ্রহণ করতে পারি, এজন্য আমাদের পরিপূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়ার প্রতিজ্ঞা করি।

কদরের রজনী যেন আমাদের সৌভাগ্য হয়, আল্লাহ যেন আমাদেরকে সেই তৌফিক দান করেন। প্রতিটি আমল যেন রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাত মোতাবেক করতে পারি, মহান রাব্বুল আলামিন যেন সেই তৌফিক দান করেন। আমিন।।

লেখক: বিশিষ্ট আলেমে-দ্বীন, ইসলামী চিন্তাবিদ ও মুহাদ্দিস।

সন্ত্রাস ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকতে হবে

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.