Home শীর্ষ সংবাদ টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে ২য় মেঘনা ও গোমতী সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে ২য় মেঘনা ও গোমতী সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন বলেছেন, ঢাকায় যানজটে জনগণ কষ্ট পাচ্ছে। ভালোকিছু পেতে হলে একটু কষ্ট স্বীকার করতে হবে, মেট্রোরেল নির্মাণকাজ শেষ হলে যানজট কমে যাবে।

আজ (শনিবার) গণভবনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ২য় মেঘনা ও ২য় গোমতী সেতু জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়কে ২টি ফ্লাইওভার, ৪টি আন্ডারপাস গণভবন থেকে টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মেট্রোরেলের কারণে যে জনদুর্ভোগ তার জন্য একটু কষ্ট হবেই। কিন্তু এর সুফল পরে পাওয়া যাবে। এখানে ১৬টা স্টেশন থাকবে। এর মাধ্যমে প্রায় ৬০ হাজার জনগণ চলাচল করতে পারবে। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য কাজের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষের উন্নতি করা। আর এ লক্ষ্যেই আমরা কাজ কাজ করছি। জাতির পিতার দেখানো সেই নীতি সকলের সাথে বন্ধুত্ব কারো সাথে বৈরীতা নয়, সেই পথেই আমরা হাঁটছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ যে সেতুগুলো উদ্বোধন করতে যাচ্ছি সেগুলো আর্থ সামাজিক উন্নয়নসহ আঞ্চলিক সহযোগিতায় বিরাট অবদান রাখবে। যার কাছ থেকে আমরা উন্নয়ন সহযোগিতা পাচ্ছি তার কাছ থেকে আমরা তা গ্রহণ করছি। এর মাধ্যমে সাউথ এশিয়ান ও সাইথ ইস্ট দেশগুলোর সাথে আমরা যোগাযোগ করতে পারছি। এখন যে সেতুগুলির উন্নয়ন করছি আশাকরি ভবিষ্যতে আরও উন্নতি করতে পারব। আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি সুষ্ঠুভাবে। সড়ক, নৌ, রেল, বিমান সবদিক থেকে যাতে মানুষের যোগাযোগ সহজ হয় সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন: চালকদের বিশ্রামের জন্য মহাসড়কের পাশে আলাদা ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। যাতে করে তারা একটা নির্দিষ্ট সময় পর বিশ্রাম নিতে পারে।

আরও পড়ুন- বিজেপির জয়ের পরই গোরক্ষকদের তাণ্ডবের শিকার নারীসহ তিন মুসলিম (ভিডিও)

প্রধানমন্ত্রী আজ যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করেন সেগুলো হচ্ছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় মেঘনা সেতু এবং দ্বিতীয় গোমতী সেতু। একইসঙ্গে কোনাবাড়ি ও চন্দ্রা ফ্লাইওভার, কালিয়াকৈর, দেওহাটা, মির্জাপুর ও ঘারিন্দা আন্ডারপাস এবং কাড্ডা-১, সাসেক সংযোগ সড়ক প্রকল্পের আওতায় জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়কে বিমাইল সেতু।

বাংলাদেশ সরকার ও জাইকার অর্থায়নে ২০১৬ সালের শুরুতে গোমতী দ্বিতীয় ও মেঘনা দ্বিতীয় সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সেতুগুলোর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে, নির্ধারিত সময়ের প্রায় সাত মাস আগেই সেতু দুটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত হলেও এ পথে থেকে যায় দুই লেনের গোমতী ও মেঘনা সেতু। ফলে সেতু দুটিতে ওঠার সময় এর দুই পাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। মেঘনা ও গোমতীতে দ্বিতীয় সেতু চালু হলে নির্বিঘ্নে যানবাহন চলাচল করতে পারবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের। ঈদের আগেই সেতু দুটি খুলে দেওয়ায় দীর্ঘদিনের যানজটের ভোগান্তি লাঘব হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

দ্বিতীয় মেঘনা সেতুর দৈর্ঘ্য হচ্ছে ৯৫০ মিটার বা প্রায় এক কিলোমিটার। এই সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতী সেতুর দৈর্ঘ্য হচ্ছে ১ হাজার ৪১০ মিটার বা প্রায় দেড় কিলোমিটার। এই সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা।