Home রাজনীতি শপথ নেওয়ার পেছনে সরকারের চাপের চেয়েও তাঁদের লোভ বেশি ছিল: গয়েশ্বর রায়

শপথ নেওয়ার পেছনে সরকারের চাপের চেয়েও তাঁদের লোভ বেশি ছিল: গয়েশ্বর রায়

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। -ফাইল ছবি।

ডেস্ক রিপোর্ট: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, তাঁর দলের পাঁচ সাংসদের শপথ নেওয়ার পেছনে সরকারের যতটা না চাপ ছিল, তার চেয়ে বেশি ছিল তাঁদের (পাঁচজনের) লোভ।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী তাঁতী দল আয়োজিত আলোচনা সভায় এ কথা বলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৮তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে সভায় বিএনপির নেতা খায়রুল কবির খোকন, সেলিম ভূঁইয়া, ২০-দলীয় জোট নেতা সাইফুদ্দিন আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল সংসদে যাব না। কিন্তু সংসদে গেলাম। এখানেই তো বুঝতে হবে, আমাদের প্রতিশ্রুতির অভাব আছে। আমরা অবাধ্যকে বাধ্য করতে পারি না। কারণ, ওই পাঁচজনের দলের প্রতি, রাজনীতির প্রতি অঙ্গীকার নেই। এই পাঁচজন অবাধ্যকে যদি আমরা বাধ্য করতে পারতাম, তাহলে আজকে আমাদের দুঃখ থাকত না।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘এই বিষয়গুলো আপনাদের বুঝতে হবে। এখন এই পাঁচজন যদি দল ছেড়ে চলে যেতেন! তাঁরা যেতেনই। সেই কারণে আপনাকে প্রেক্ষাপটটা বুঝতে হবে। এঁদের লোভ আছে, এঁদের ওপর চাপ আছে। তবে চাপের চেয়ে লোভ বেশি। এঁরা একটা দিনের জন্য বলেছেন যে “বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্ত না হলে সংসদে যাব না”? এই পাঁচজনের কেউ বলেছেন? এক দিন? কেউ বলছেন? বলেন নাই। তাহলে তাঁদের সংসদে যাওয়াটা জরুরি। বেগম জিয়ার মুক্তিটা কিন্তু জরুরি না।’

বিএনপির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমরা বেশি কাজে ফাঁকি দিই। আমরা কমিটি করি। কিন্তু কেউ সংগঠন করি না। একটি কমিটি মানেই সংগঠন না। আর নেতৃত্বের যেখানে দুর্বলতা হয়, সেখানে বহুজনের কমিটি হয়। কমিটিতে যখন যুগ্ম আহ্বায়কের সংখ্যা বেশি, সদস্যসচিব থাকেন, তখনই বুঝতে হবে, কেউ কাউকে মানেন না। তার মানে অঙ্গীকারের অভাব। সংগঠনের চেয়ে নিজেকে সবাই বড় মাপের দেখতে চান।’

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘জিয়াউর রহমানকে কি আমরা অনুসরণ করেছি? তাঁকে যদি আমরা অনুসরণ করি, তাহলে আমাদের ভাগ্যের চাকা ঘোরে না। আমরা গাড়ি-বাড়ির মালিক হতে পারি না। কারণ, ওনার রাজনৈতিক জীবনে গাড়ি-বাড়ি ও বিত্তশালী হওয়ার কোনো অনুপ্রেরণা ছিল না। ওনার রাজনীতি ছিল দেশপ্রেম ও দেশের মানুষকে জাগিয়ে তোলা।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘যাঁরা উপদেশ দেন, তাঁরা নিজের বেলায় সেটা কতটুকু বাস্তবায়ন করেন, তা একটু ভেবে দেখবেন। আর দলের উপদেষ্টা-সম্পাদক বেশি, কর্ম সম্পাদকটা একটু কম। বলা হয়, ঘরে বসে মিটিং করব না। কিন্তু ঘরেই ডাকা হয়। আর আজকে ঘরে না ডেকে যদি বাইরে ডাকা হতো, তাহলে খুব বেশি ভালো লাগত।’

মুসলিম নির্যাতনে কথা বলায় গৌতম গম্ভীরকে সাবধান করলেন অনুপম