Home অর্থনীতি আংশিক বেতন-বোনাস দিয়ে শ্রমিকদের শান্ত রাখার চেষ্টা করছেন মালিক পক্ষ

আংশিক বেতন-বোনাস দিয়ে শ্রমিকদের শান্ত রাখার চেষ্টা করছেন মালিক পক্ষ

- ফাইল ছবি।

বড় কারখানা ছাড়া অধিকাংশ পোশাক কারখানাই ঈদের আগে মে মাসে শ্রমিকদের আংশিক বেতন দিয়েছেন। পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা শ্রমিকদেরকে চলতি মাসের আংশিক বেতন পরিশোধ করছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও কারখানার মালিকরা খুব সতর্কের সঙ্গে শ্রমিকদের সন্তুষ্টির বিষয়টি বিবেচনায় রাখছেন।

সূত্র মতে, গত ২৪ মে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভায় মালিক-শ্রমিক ও সরকারের ত্রিপক্ষীয় ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কোর কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের চলতি মাসের ২০ দিনের বেতন পরিশোধের বিষয়টি সরকারকে অবহিত করেন। পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা শ্রমিকদেরকে চলতি মাসের আংশিক বেতন পরিশোধ করছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল শিল্প পুলিশের কাছে তথ্য পাওয়া গেছে ১ জুন রাত ৮টা পর্যন্ত। শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী আশুলিয়া, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়নগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও খুলনায় পোশাক কারখানা আছে ৩ হাজার ৫৩৬টি। এরমধ্যে বেতন পরিশোধ হয়েছে ৩৬৮ টি কারখানায়।

শিল্প পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, বড় কারখানাগুলোর মধ্যে যাদের আর্থিক সক্ষমতা ভালো তারা সবাই মে মাসের পূর্ণাঙ্গ বেতন পরিশোধ করেছে। মাঝারি ও ছোট কারখানাগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ২০ দিনের বেতন পরিশোধ করছে। এছাড়া ১৫ দিনের বেতন পরিশোধের তথ্যও আছে। যদিও বেতন-বোনাস পরিশোধে শ্রমিকদের সন্তুষ্টির বিষয়টি মালিকপক্ষ খুব সতর্কের সঙ্গে বিবেচনায় নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে সূত্র।

শ্রমিকদের আংশিক বেতন পরিশোধের তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ পরিচালনা পরিষদের পক্ষ হতেও। পরিষদ সদস্যরা বলছেন, অন্যান্য অনেক বারের তুলনায় এ বছর কাছে পোশাক খাতের সংকট অনেক প্রকট। অনেক সমস্যা মোকাবেলা করে হলেও শ্রমিকদেরকে সন্তুষ্ট রাখতে পারছেন মালিকপক্ষ। আর এ কারনেই বড় ধরণের কোন সমস্যা এখনো মোকাবেলা করতে হয়নি শ্রমিক ও মালিকপক্ষকে।

আরও পড়ুন- যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে সন্ত্রাসী হামলায় ১২ জন নিহত

বিজিএমইএ সহ-সভাপতি এস এম মান্নান বলেন, শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ চলছে। ২০ দিনের বেতন পরিশোধ করা হচ্ছে শ্রমিকদের। ১৫ দিনের দিতে চাইলেও শ্রমিকরা তা মানছেন না। এখন পর্যন্ত বড় কোন সমস্যা মোকাবেলা করতে না হলেও অন্যান্য অনেক বারের তুলনায় এবার পোশাক খাতের সংকট অনেক বেশি। মধ্যস্ততার মাধ্যমে খুব দ্রুততার সঙ্গে একের পর এক সমস্যা সমাধান করে যেতে হচ্ছে।

শিল্প পুলিশ ১ বা আশুলিয়া অঞ্চলে পোশাক কারখানা আছে ৭৯১টি। এরমধ্যে বেতন পরিশোধ হয়েছে ২৫টি কারখানায়। গাজীপুর বা শিল্প পুলিশ ২ পোশাক কারখানা আছে ১ হাজার ৩৪৫টি। এরমধ্যে বেতন পরিশোধ হয়েছে ১৫টি কারখানায়।

শিল্প পুলিশ ৩ বা চট্টগ্রামে পোশাক কারখানা আছে ৬৯৭টি। এরমধ্যে বেতন পরিশোধ হয়েছে ১৭৯টিতে। নারায়নগঞ্জ বা শিল্প পুলিশ ৪ এ পোশাক কারখানা আছে মোট ৬৪২টি। এরমধ্যে বেতন পরিশোধ হয়েছে ১৩৯টিতে।

শিল্প পুলিশ ৫ বা ময়মনসিংহে পোশাক কারখানা আছে ৫৬টি। এরমধ্যে বেতন পরিশোধ হয়েছে ৫টিতে। খুলনা বা শিল্প পুলিশ ৬ এ পোশাক কারখানা আছে ৫টি। সবগুলোতেই বেতন পরিশোধ হয়েছে। এদিকে বোনাস পরিশোধের শেষ সময় ছিল গত ৩০ মে, মালিকপক্ষের এমন প্রতিশ্রুতি থাকলেও গতকাল ১ জুন রাত ৮টা পর্যন্ত দেশের শিল্প অধ্যুষিত ছয়টি এলাকার সব কারখানায় বোনাস পরিশোধ হয়নি। শিল্প পুলিশ ১ বা আশুলিয়া অঞ্চলে পোশাক কারখানা আছে ৭৯১টি। এরমধ্যে বোনাস পরিশোধ হয়েছে ৭৭১টি কারখানায়।

গাজীপুর বা শিল্প পুলিশ ২ পোশাক কারখানা আছে ১ হাজার ৩৪৫টি। এরমধ্যে বোনাস পরিশোধ হয়েছে ৫২১টি কারখানায়। শিল্প পুলিশ ৩ বা চট্টগ্রামে পোশাক কারখানা আছে ৬৯৭টি। এরমধ্যে বোনাস পরিশোধ হয়েছে ৪২৩টিতে। নারায়নগঞ্জ বা শিল্প পুলিশ ৪ এ পোশাক কারখানা আছে মোট ৬৪২টি। এরমধ্যে বোনাস পরিশোধ হয়েছে ৫১৮টিতে।

শিল্প পুলিশ ৫ বা ময়মনসিংহে পোশাক কারখানা আছে ৫৬টি। এরমধ্যে বোনাস পরিশোধ হয়েছে ৪৪টিতে। খুলনা বা শিল্প পুলিশ ৬ এ পোশাক কারখানা আছে ৫টি। সবগুলোতেই বেতন ও বোনাস পরিশোধ হয়েছে।