Home সোশ্যাল মিডিয়া গার্মেন্টসকর্মীদের দুঃখ, যন্ত্রণা আর হাহাকার আর কতকাল চাপা পড়ে থাকবে?

গার্মেন্টসকর্মীদের দুঃখ, যন্ত্রণা আর হাহাকার আর কতকাল চাপা পড়ে থাকবে?

- প্রতিকী ছবি।

কি একটা অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে যে এই পোষ্টটা লিখতে বসেছি সেটা শুধু আমিই জানি। ইফতার এর অল্প কিছুক্ষণ আগে একটু নিচে নেমেছিলাম একটা গ্রাফ পেপার কিনতে। লাইব্রেরিটা বেশি দূরে নয় বাসার সামনেই তাই ভাবলাম ইফতার করার পর অলসতা লাগে তাই এখনি নিয়ে আসি। একটু সামনে যেতেই দেখলাম পরিচিত এক আন্টি খুব দ্রুত গতিতে বাসার দিকে হাঁটছে।

কিছু হয়েছে কিনা সেটা জানার জন্যই আমি জিজ্ঞেস করলাম, “আন্টি এভাবে দৌঁড়ের মত করে হাঁটছেন কেন?”
উনি বললেন- “ইফতার এর সময় হয়ে যাইতাছে মা,আজ অফিস ছয়টা বাজে ছুটি দিছে,বাসায় ইফতার রেডি করে রাখনেরো কেউ নাই ইফতার করে আবার ডিউটিতে যাইতে হবে”।

আমি আর লাইব্রেরিতে না গিয়ে আন্টিকে জোর করে আমাদের বাসায় নিয়ে আসলাম ইফতার করার জন্য।আমি জানি ইফতার কম পড়বেনা আমাদের বাসায় প্রতিদিনই পরিমানের তুলনায় একটু বেশিই বানানো হয় সবকিছু।আব্বুও-আম্মুও খুশিই হলেন।

আম্মু বললেন- “ভাল করেছিস নিয়ে এসে,সারাদিন না খেয়ে কাজকর্ম করে ইফতার এর সময়ও যদি এই অবস্থা হয় তাহলে মানুষ বাঁচবে কিভাবে!”

আন্টি খাওয়া শেষে ফ্যানের নিচে বসে আছেন একটু পরেই বের হবেন।
আমি পাশের চেয়ারটা টেনে বসলাম। আন্টিকে জিজ্ঞেস করলাম,
-আন্টি অফিস তো ছুটি হল ইফতার এর আধা ঘন্টা আগে। এই সময়ে তো বাসায় যাবারও টাইম পায় না অনেকেই। তারপর খেয়ে না খেয়ে আবার ডিউটি? কেমন অফিস এটা?

-মারে গার্মেন্টস এর চাকুরি এমনই। সকাল ৬টা, সাড়ে ৬টায় বের হই। সারাদিন গাধার মত খাটায়া নেয়, তারপরও যা গালিগালাজ করে মুখে নেওয়ান যায় না।

-অতিরিক্ত কাজটা তো ওভার টাইম। আপনি বাসায় চলে যান রেস্ট করেন গিয়ে। কাল যেয়েন।

-সেই সুযোগ নাই, জোর করে ওভার টাইম করাইতাছে। কার্ড নিয়ে রাখছে এখন না গেলে কাল সকালে ঢুকতে দিবে না।

এরপর আন্টি ‘পরে কথা হবে’ সেই আশ্বাস দিয়ে চলে গেলেন।
আমি আর কিছু লিখতে পারছি না। বুক ফেটে যাচ্ছে। চোখে জল টলমল করছে, শুধু গড়িয়ে পড়াটাই এখনো বাকি আছে। আমি তাকিয়ে আছি উনার যাওয়ার দিকে, মৃত্যু ছাড়া হয়তো আর কোন বাঁধাই উনার যাওয়া রোধ করতে পারবে না।

আন্টিটা টঙ্গীর, গাজীপুর এর বিসিক এলাকায় ‘Tangon’ নামের একটি অফিসে কাজ করে। জানি সব গার্মেন্টস-ই একইরকম। তবে তার কথায় মনে হচ্ছিল, নরক যন্ত্রনা দেওয়ার মধ্যে টঙ্গীর বিসিক এলাকার এই ‘Tangon’ গার্মেন্টসটা অন্যতম।

প্রতিটা গার্মেন্টস এর ভিতরেই এইরকম অমানবিক কাজকর্মগুলো চলছে। আমি, আপনি, আপনারা বাইরে থেকে কেউই বুঝতে পারছি না ভিতরে কি রকম নরক যন্ত্রণায় ভুগতেছে তারা! কখনো বুঝার চেষ্টাও করি না। অথচ আমাদের সভ্যতা নির্মাণের কারিগর তারাই।

রমজাম মাস বলে সরকারি চাকুরিজীবীদের টাইম সকাল নয়টা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত করা হয়েছে। কারণ তারা মানুষ।আর গার্মেন্টসকর্মীরা একেকটা অমানুষ, জানোয়ার, ছোটলোক।তাই এদের দিকে দৃষ্টিপাত না করলেও চলবে কি হচ্ছে সেখানে, কীভাবে তাদের দিন যাচ্ছে, খেয়ে না খেয়ে কি অসহনীয় অত্যাচার আর যন্ত্রণা সহ্য করে তারা মুখ বুজে কাজ করে যাচ্ছে সেদিকে খেয়াল নাই কারোর।

আমার এত কিছু বলার উদ্দেশ্য একটাই, যেহেতু তারা সারাটা দিন না খেয়ে কাজ করে তাই তাদের কাজের সময় কি আরেকটু কমানো যায় না? এই একটা মাস কি জোর করে ওভার না করালে হয় না? শুধু এই দাবিটা জানাচ্ছি।

কিন্তু কে করবে এই আবেদন? কে করবে এই অভিযোগ? কিভাবে পৌঁছাবে এই তথ্যগুলো সবার কাছে? নাকি সারাজীবন ধরেই মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকবে গার্মেন্টসকর্মীদের দুঃখ, যন্ত্রণা আর হাহাকার?

– শামিমা আক্তার
ফেসবুক পোস্ট, ১১ মে, ২০১৯

আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী (হাফি.)এর মাহে রমযান যেভাবে কাটে!

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.