Home রাজনীতি নারীদের পর্দা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য মুসলমানদের জন্য অবমাননাকর: জমিয়ত

নারীদের পর্দা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য মুসলমানদের জন্য অবমাননাকর: জমিয়ত

বাম দিক থেকে- জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ-এর সভাপতি আল্লামা আব্দুল মুমিন এবং মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী। -ফাইল ফটো।

উম্মাহ রিপোর্ট: ধর্মপ্রাণ মুসলিম নারীদের বাইরে চলাচলের সময় শরয়ী পর্দার অংশ হিসেবে বোরকা, হাত-পা মোজা পরা ও চেহারা ঢাকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যের সমালোচনা করে অবিলম্বে এই বক্তব্য প্রত্যাহার ও আল্লাহর কাছে তাওবা করার আহ্বান জানিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।

আজ (১২ জুন) বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে দলটির সভাপতি আল্লামা আব্দুল মুমিন শায়েখে ইমামবাড়ি ও মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেছেন, গত (৯ জুন) রবিবার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে মুসলিম নারীদের পর্দার প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “হাত মোজা পা মোজা নাক-চোখ ডাইকা একেবারে এটা কি? জীবন্ত টেন্ট (তাঁবু) হয়ে ঘুরে বেড়ানো, এটার তো কোন মানে হয় না”।

জমিয়ত সভাপতি ও মহাসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত অবমাননাকর হয়েছে। এই বক্তব্যে ইসলামের অপরিহার্য বিধান পর্দাকে খুব বাজেভাবে কটাক্ষ ও ব্যঙ্গ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে এমন বক্তব্যে দেশের ৯২ ভাগ মুসলমান মানসিকভাবে আহতবোধ ও হতাশ হয়েছেন। এই বক্তব্যের ফলে পর্দা নিয়ে ইসলামবিদ্বেষীরা ধর্মপ্রাণ মুসলিম নারীদেরকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য ও হেয়প্রতিপন্ন করতে নতুনভাবে উৎসাহিত এবং পর্দানশীন নারীদের চলাচলে হয়রানী ও হেনস্থা বেড়ে যাওয়ার আশংকা তৈরি হয়েছে।

বিবৃতিতে জমিয়ত নেতৃদ্বয় আরো বলেন, জনসমক্ষে চলাচলের ক্ষেত্রে শরীর আবৃত রাখা মুসলিম নারীদের জন্য ইসলামের অপরিহার্য বিধান তথা ফরয। পবিত্র কুরআনের স্পষ্ট আয়াতের আলোকেই মুসলিম নারীগণ বোরকা, নেকাব ও হাত-পা মোজা পরে শরীর ও চেহারা ঢেকে বাইরের প্রয়োজনীয় কাজ সারেন।

তাঁরা বলেন, পর্দা ও হিজাবকে নিয়ে এমন কটাক্ষপূর্ণ বক্তব্য একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। ধর্মীয় প্রশ্ন ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী দেশের নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনাচার নিয়েও কোনরকম কটাক্ষ ও তুচ্ছতাচ্ছিল্যপূর্ণ বক্তব্য দিতে পারেন না। তাঁর এই বক্তব্য সংবিধান, মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকারবিরোধী হয়েছে।

জমিয়ত সভাপতি ও মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে দেশের প্রতিটি নাগরিককে পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। একজন মুসলিম নারী ধর্মীয় স্বাধীনতার এই অধিকার বলেও স্বাচ্ছন্দে পর্দা করে চলাচলের অধিকার রাখেন। এটাকে কটাক্ষ করার আইনী অধিকার কারোর নেই।

জমিয়ত নেতৃদ্বয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি পবিত্র কুরআনের পর্দার বিধানের প্রতি অবমাননাকর তাঁর এই বক্তব্য প্রত্যাহারপূর্বক মহান আল্লাহর দরবারে তাওবা এবং দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।

১৯ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগের আদেশ জারি

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.