Home শীর্ষ সংবাদ ব্যাংকে টাকা আছে, তবে লুটে খাওয়ার মতো টাকা নেই: প্রধানমন্ত্রী

ব্যাংকে টাকা আছে, তবে লুটে খাওয়ার মতো টাকা নেই: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ব্যাংকে কোনো তারল্য সংকট নেই। ব্যাংকে টাকা আছে তবে লুটে খাওয়ার মতো টাকা নেই। আর যারা লুটে নিয়েছে তাদের আমরা চিনি।’ গতকাল (সোমবার) সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের পক্ষে সম্পূরক বাজেটের উপর সমাপনী ভাষণে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘সম্পূরক বাজেটের আলোচনায় অংশ নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলেছেন। কেউ কেউ বলেছেন, ব্যাংকে টাকা নেই। আমি বলছি টাকা থাকবে না কেন, টাকা আছে, তবে লুটে খাওয়ার মতো টাকা নেই।’

শেখ হাসিনা বলেন, আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ এখন যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে বলেই উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনে বিশ্বে অনেক দেশের সাথে তাল মিলিয়ে আমরা চলতে পারছি। সারা বিশ্ব আজ অবাক হচ্ছে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের বিস্ময়।

চলতি অর্থবছরের বাজেটের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজেট যদি সঠিকই না হবে তাহলে মাত্র ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ এতো উন্নয়ন করল কিভাবে? কেউ কেউ বলছেন বাজেট দিয়েছেন কিন্তু বাস্তবায়ন করতে পারেননি। যদি বাস্তবায়ন করতেই না পারতাম তাহলে, ২০০৮ সালে আমরা ৬১ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেয়েছিলাম, এবার বাজেট ৫ লাখ কোটি টাকা  ছাড়িয়েছে। দক্ষতা অর্জন করতে পেরেছি বলেই এটা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতি বাজেটেই সরকারের উন্নয়নের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন, জিডিপির প্রবৃদ্ধি, জনগণের চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে সরকারের রাজস্ব আদায় ও ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়। এই প্রাক্কলন সঙ্গত কারণেই একটু বেশি করা হয়। রাজস্ব হার প্রাক্কলনে অনেকটা উচ্চাভিলাসী হওয়ার প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে। এটা সমৃদ্ধি আগামীর পথে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রেরণা যোগায়। গত এক দশকে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অসম্ভবকে সম্ভব করার গল্প। কোনো মানুষের যদি উচ্চাভিলাষ না থাকে, সে কিছু অর্জন করতে পারে না। বিগত বছরগুলোতে বাজেট বাস্তবায়নের পরিসংখ্যান এই কথাই প্রমাণ করে, আমাদের লক্ষ্যসমূহ সব সময়ই বাস্তবভিত্তিক ছিল। যা পরবর্তীতে বাজেট আলোচনায় বিস্তারিত বলার সুযোগ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবৃদ্ধি যখন বৃদ্ধি পায় তখন মূল্যস্ফীতিও বৃদ্ধি পাওয়ার কথা, যেহেতু আমরা বাজেট পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে অত্যন্ত সতর্ক তাই সবসময় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছি।

শেখ হাসিনা বলেন, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রথম ৯ মাসে ১ লাখ ৮৬ হাজর ৩০৫ কোটি টাকা রাজস্ব সংগৃহীত হয়েছে, যা সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৫৯ শতাংশ। মূলত ভ্যাট আইন বাস্তায়ন বিলম্বিত হওয়া এবং আমদানি কিছুটা কম হওয়ায় রাজস্ব আদায় কিছুটা কম হয়েছে। অর্থবছরের শেষে রাজস্ব সংগ্রহের গতিধারা বিবেচনায় নিয়েই মূলত রাজস্ব সংগ্রহের সংশোধিত লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আগামী বছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজেট প্রাক্কলনের সময় মোট বাজেট ঘাটতি সবসময় জিডিপি ৫ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখার চেষ্টা করা হয়। অনেক দেশে বাজেট ঘাটতি এরচেয়ে অনেক বেশি ধরা হলেও ধারাবাহিকভাবে আমরা ৫ শতাংশে ধরে রাখছি। তবে বাজেট বাস্তবায়নে প্রকৃত আয় ও ব্যয় হ্রাস পাওয়ার ফলে ঘাটতি কিছুটা কম হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.