Home জাতীয় ভারতের গবেষণাগারে পরীক্ষা: বাংলাদেশে উৎপাদিত দুধে স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই

ভারতের গবেষণাগারে পরীক্ষা: বাংলাদেশে উৎপাদিত দুধে স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই

1
কৃষিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে গবেষণা ফলাফল প্রকাশ। ছবি- সংগৃহীত।

ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশে উৎপাদিত পাস্তুরিত ও অপাস্তুরিত দুধে কোনো প্রকার স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি)। গতকাল (বুধবার) সচিবালয়ে দুধ নিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক, সালফা ড্রাগ ও ভারী ধাতুর উপস্থিতি বিশ্লেষণ ফলাফল প্রকাশ করে একথা জানিয়েছে বিএআরসির পুষ্টি ইউনিট।

সম্প্রতি পাস্তুরিত ও অপাস্তুরিত দুধ উৎপাদন করা চৌদ্দ কোম্পানির পণ্যে অ্যান্টিবায়োটিক, ভারী ধাতু, সালফার ড্রাগ রয়েছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওইসব কোম্পানির দুধ পরীক্ষা নীরিক্ষার উদ্যোগ নেয় পুষ্টি ইউনিট, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল।

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের উপস্থিতিতে বিএআরসির পুষ্টি ইউনিটের পরিচালক ড. মো. মনিরুল ইসলাম গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন করেন।

তিনি বলেন, পাস্তরিত ও অপাস্তরিত দুধে কোনো প্রকার ভারী ধাতু ও সালফা ড্রাগ পাওয়া যায়নি। দেশে উৎপাদিত দুধে কোনো প্রকার স্বাস্থ্য ঝুঁকি নেই। এ নিয়ে উদ্বেগ বা কোনো উৎকণ্ঠা নেই।

অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী জানান, মিল্ক ভিটা, আড়ং, ফার্ম ফ্রেশ, ইগলু, আরডি, সাভার ডেইরি ও প্রাণ এবং অপাস্তুরিত (কাঁচা তরল দুধ) দুধের ১৬টি নমুনা সংগ্রহ করে ভারতের চেন্নাইয়ের এসজিএস গবেষণাগারে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় ক্ষতিকারক কোনো পদার্থ পাওয়া যায়নি, এই দুধ নিরাপদ। এমনকি আইসিডিডিআরবির পরীক্ষায়ও এমন কোনো ক্ষতিকারক কেমিক্যালের উপস্থিতি নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তবে দেশে বড় ধরনের কোনো ল্যবরোটরি না থাকাকে সীমাবদ্ধতা হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সে কারণে অনেকেই দায়সারা ভাবে প্রতিবেদন তৈরি করে, এতে মানুষ বিভ্রান্ত হয়। জনগণের বিভ্রান্তি দূর করতেই সরকার দুধ পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে।

বিশ্লেষণকৃত ফলাফল:

বিশ্লেষণ ফলাফলে পাস্তুরিত ও অপাস্তুরিত দুধে কোনো প্রকার ভারী ধাতু যেমন- লিড ও ক্রোমিয়ামের রেসিডিউ (অবশিষ্টাংশ) পাওয়া যায়নি। ফলাফলে পাস্তুরিত ও অপাস্তুরিত দুধে কোনো প্রকার সালফা ড্রাগের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যায়নি। মোট ১৬টি নমুনায় মধ্যে শুধু একটি নমুনায় (মিল্কভিটা) অ্যান্টিবায়োটিক স্ট্রেপটোমাইসিন (streptomycin) এর উপস্থিতি প্রতি কেজিতে ১০ মাইক্রোগ্রামের নিচে পাওয়া গেছে; তবে তা মানবদেহের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ সহনীয় মাত্রার অনেক নিচে (সর্বোচ্চ সহনীয় মাত্রা ২০০/মাইক্রোগ্রাম/কেজি)।

প্রাণের একটি নমুনায় ক্লোরাফেনিকলের (choloramphenicol) উপস্থিতি প্রতি কেজিতে ০.০৬ মাইক্রোগ্রাম পাওয়া গেছে, দুধের ক্ষেত্রে এটির কোনো নির্ধারিত মাত্রা পাওয়া যায়নি, তবে কারও কারও মতে ০.১ পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য। এছাড়া বিশ্লেষণ করা (১০টি) নমুনায় অন্য কোনো প্রকার অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি বা অবশিষ্টাংশের অস্তিত্ব মেলেনি।

গত ২৫ জুন ঢাবির ফার্মেসি অনুষদের শিক্ষকরা একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। মিল্কভিটাসহ সাতটি ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত (পাস্তুরিত) দুধের নমুনা পরীক্ষা করে সেগুলোতে মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। পরে সংবাদ সম্মেলনে বায়োমেডিক্যাল রিচার্স সেন্টারের পরিচালক ও ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলেন, পরীক্ষায় পাস্তুরিত দুধের সাতটি নমুনার সবগুলোতেই লেভোফ্লক্সাসিন ও সিপ্রোফ্লক্সাসিন ও ছয়টি নমুনায় এজিথ্রোমাইসিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। -পার্সটুডে।

ভারতে মায়ের কোল থেকে ৩ বছরের শিশুকে অপহরণ, গণধর্ষণ ও শিরশ্ছেদ

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.