Home আন্তর্জাতিক তিন তালাক বিল পাস করে মোদী সরকার ইসলামের উপর হস্তক্ষেপ করেছে: দেওবন্দের...

তিন তালাক বিল পাস করে মোদী সরকার ইসলামের উপর হস্তক্ষেপ করেছে: দেওবন্দের মুহতামিম

2
- দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম আল্লামা আবুল কাসেম নোমানী।

উম্মাহ অনলাইন: নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ইসলামী শরীয়তের উপর হস্তক্ষেপ করেছে উল্লেখ করেছে বলে গুরুতর অভিযোগ করেছেন ভারতের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলূম দেওবন্দের মুহতামিম মুফতি আবুল কাসেম নুমানী।

গত ২৫ জুলাই সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে লোকসভায় তিন তালাক বিল পাস হওয়ার পর ভারতীয় গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে মুসলিমদের শরীয়াহ আইনের হস্তক্ষেপের অভিযোগ ও প্রতিবাদ করেন মুফতি আবুল কাসেম নুমানী।

দারুল উলূম দেওবন্দের মুহতামিম এ বিলের উপর প্রশ্ন রেখে বলেন, মোদি সরকার তিন তালাক বিলকে পাশ করে মুসলিম পার্সোনাল ল’বোর্ডের অধিকার হরণ করেছে। তিনি বলেন, তিন তালাক বিল মোদি সরকারের সরাসরি শরিয়তের উপর হস্তক্ষেপের শামিল। দেশের আইনে সকল ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা আছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় বিজেপী সরকার মুসলিম পার্সোনাল ল’বোর্ডের উপর বারবার আক্রমণ করে যাচ্ছে।

পাশকৃত তিন তালাক বিলের ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করে মুফতি আবুল কাসেম নুমানী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার মুসলমানদের ধর্মীয় ব্যাপারে এভাবে হস্তক্ষেপ না করে ভারতের উলামায়ে কোরামের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে মীমাংসা করতে পারতো।

প্রসঙ্গত, রাজ্যসভাতেও বিতর্কিত তিন তালাক বিল পাস করাতে সফল হয়েছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন নরেন্দ্র মোদির সরকার। গত মঙ্গলবার ভারতীয় পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বিলটি উঠলে পক্ষে ৯৯ জন এবং বিপক্ষে ৮৪ জন সাংসদ ভোট দেন।

কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার বিলটি রাজ্যসভায় উঠলে পুনর্বিবেচনার জন্য সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর দাবি ওঠে। তা নিয়ে ভোটাভুটি শুরু হলে, বিলটি পুনর্বিবেচনার পক্ষে ভোট দেন ৮৪ জন আর তার বিপক্ষে ছিলেন ৯৯ জন সাংসদ। তাই বিনা বাধায় বিলটি পাস হয়।

রাজ্যসভায় পাস হওয়ার পর এখন তিন তালাক বিলটি পাঠানো হবে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছে। তিনি তাতে স্বাক্ষর করলেই সেটি আইনে পরিণত হবে। এর মাধ্যমে তিন তালাক প্রথা ফৌজদারি অপরাধ বলে গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে স্ত্রীকে তিন তালাক দিলে তিন বছরের কারাদণ্ড হবে স্বামীর।

ভারতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ হলো ২৪১ সদস্য বিশিষ্ট। কোনও বিল পাশ করাতে ১২১ সাংসদের সমর্থনের প্রয়োজন হয়। সেখানে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের সদস্য সংখ্যা ১১৩। কিন্তু দুটি দল মঙ্গলবার সভা ত্যাগ (ওয়াক আউট) করলে বিলটি পাসে কোনো সমস্যাই হয় না।

সংসদ থেকে ওয়াক আউট করা দল দুটি হলো নীতীশ কুমারের সংযুক্ত জনতা দল (জেডিইউ) এবং অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাঝগম বা এআইএডিএমকে। দল দুটি সভা ত্যাগ করলে বিলটি পাসে ১০৯ সাংসদের সমর্থনের প্রয়োজন পড়ে।

এমন পরিস্থিতিতে বিজু জনতা দল ক্ষমতাসীন জোট এনডিএ-র শরিক না হওয়া সত্ত্বেও বিলটির সপক্ষে মত দেয়। অন্য দিকে সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টি এবং তেলঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতির মতো বিরোধী দলও সভা ত্যাগ করলে বিলটি পাস করাতে সমস্যা হয়নি বিজেপির।

দেশব্যাপী ছাত্র জমিয়তের সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু