Home আন্তর্জাতিক কাশ্মীরে সরকারি নিষেধাজ্ঞায় হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করল সুপ্রিম কোর্ট

কাশ্মীরে সরকারি নিষেধাজ্ঞায় হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করল সুপ্রিম কোর্ট

1
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। ছবি- সংগৃহীত।

উম্মাহ অনলাইন: ভারত অধিকৃত কাশ্মীরে সরকারি নিষেধাজ্ঞায় হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করল সুপ্রিম কোর্ট। আজ (মঙ্গলবার) বিচারপতি অরুণ মিশ্রর নেতৃত্বাধীন বিচারপতি এমআর শাহ ও বিচারপতি অজয় রাস্তোগির সমন্বিত বেঞ্চ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কোনও নির্দেশ দেননি।

সমাজকর্মী তেহসিন পুনাওয়ালা কাশ্মীর উপত্যকায় অবিলম্বে কারফিউ প্রত্যাহার করতে, টেলিফোন সংযোগ ফিরিয়ে আনতে এবং ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন। আজ ওই আবেদনের শুনানি হয়। আগামী দু’সপ্তাহ পরে পুনরায় ওই আবেদনের শুনানি হবে।

আজ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা বলেন, ‘এটা অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। আমরাও চাই উপত্যকা ফের স্বাভাবিক হয়ে যাক। কিন্তু রাতারাতি কিছু হওয়া সম্ভব নয়। এই মুহূর্তে ওখানে কী হচ্ছে কেউ তা জানে না। সেজন্য সরকারের উপরে ভরসা করা ছাড়া উপায় নেই।’

সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রীয় সরকারের হয়ে সাফাইতে অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপাল বলেন, ‘হিজবুল মুজাহিদীন কমান্ডার বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পরে ২০১৬ সালের জুলাইয়ে উপত্যকা জুড়ে অশান্তি মাথাচাড়া দিয়েছিল। আরও একবার যাতে সেই পরিস্থিতি না সৃষ্টি হয় সেজন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।’ 

কেন্দ্রীয় সরকার সারাক্ষণ উপত্যকার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়া হবে বলেও তিনি আদালতে  জানান।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার কাশ্মীর উপত্যকা থেকে সংবিধান প্রদত্ত বিশেষ অধিকার ৩৭০ ধারা বাতিলসহ রাজ্যটিকে কেন্দ্রশাসিত দু’টি প্রদেশে পরিণত করায় সেখানে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। কেন্দ্রীয় মোদি সরকারের ওই ঘোষণার আগে  থেকেই কঠোর নিরাপত্তাবলয়ে মুড়ে ফেলা হয় গোটা রাজ্যকে। বিভিন্ন বিধিনিষেধের পাশাপাশি জারি রয়েছে কারফিউ।

গত ৪ আগস্ট থেকে সেখানে বড় কোনো জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে টেলিফোন ও ইন্টারনেট পরিসেবা বন্ধ থাকায় সেখানে মানুষজন ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েছেন। এমনকী সেনাবাহিনীর জওয়ানরাও তাদের পরিবারের সঙ্গে ঠিকমত যোগাযোগ করতে পারছেন না। এসব বিষয়ের উপরে ভিত্তি করে কাশ্মীরে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হয়।উপত্যকায় এখনও  মোবাইল ফোন, মোবাইল ইন্টারনেট, কেবল টিভিতে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। প্রকাশিত হচ্ছে না কোনও সংবাদপত্রও। সূত্র-পার্সটুডে।