Home অন্যান্য কাশ্মীরে ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদে আরব বিশ্বের নীরবতা হতাশাজনক: আল্লামা বাবুনগরী

কাশ্মীরে ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদে আরব বিশ্বের নীরবতা হতাশাজনক: আল্লামা বাবুনগরী

0
হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। ফাইল ছবি- উম্মাহ।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসার সহযোগী পরিচালক শাইখুল হাদীস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী আজ (১৬ আগস্ট) শুক্রবার সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে বলেছেন, রাসুলে পাক (সা.) ইরশাদ করেছেন, সমগ্রঃ বিশ্বমুসলিম এক দেহের বিভিন্ন অঙ্গের মতো। চোখে ব্যথা হলে পুরো শরীরে ব্যথা অনুভূত হয়। মাথায় আঘাত হলে পুরো শরীর জর্জরিত হয়। সুতরাং এই সহি হাদিসের আলোকে কাশ্মীরের মজলুম স্বাধীনতাকামী মুসলমানদেরকে জালিম মোদি সরকারের অমানবিক জুলুম, নির্যাতন থেকে রক্ষা করার জন্য সকল মুসলমানকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জোরালো প্রতিবাদি ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, কাশ্মীরে ভারতীয় সেনা কর্তৃক সেখানকার মুসলমানদের উপর অব্যাহত সামরিক আগ্রাসন, নিপীড়ন, মানবাধিকার হরণ রোধ এবং কাশ্মীরীদের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার জন্য বিশ্বের সমস্ত মুসলমান, বিশেষত: আরব বিশ্বকে শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে হলেও সর্বাত্মক সমর্থন, সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে।

তিনি বলেন, জালিম মোদি সরকার কাশ্মীরের হাজার হাজার মুসলমানদের হত্যা করছে এবং তাদের জান – মাল ইজ্জত -আব্রু লুন্ঠন করছে। কাশ্মীরের একেক বালি কণা ফরিয়াদ করতেছে আরব বিশ্বের কাছে, যেনো আরব বিশ্বের নেতৃত্বে এই অমানবিক আচরণ এবং নিষ্পেষণ ও নির্যাতন থেকে তাদের রক্ষায় এগিয়ে আসে এবং কাশ্মীরের মাটিতে স্বাধীনতার পতাকা উত্তলন করে। কিন্তু কাশ্মীর প্রশ্নে আরব দেশসমূহের ধারাবাহিক নীরবতা হতাশাজনক, রহস্যজনক।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, কোন অবস্থায় কাশ্মীরের মুসলমানদেরকে জঙ্গী বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বলা যবে না। কারণ, কোনো মজলুম জাতি অধিকারের জন্যে লড়াই-সংগ্রাম করে, যদি স্বাধীনতা কামনা করে এবং স্বাধীনতা পেতে সংগ্রাম করে, সেটা কখনোই জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসবাদ হয় না। বরং আত্মমর্যাদা ও আত্মঅধিকার ফিরে পাওয়ার এই সংগ্রাম প্রশংসনীয় হয়ে থাকে।

আল্লামা বাবুনগরী অভিযোগ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, নিকট অতীতে ইন্দোনেশিয়া থেকে পূর্ব তীমুর এবং বৃহত্তর সুদান থেকে দক্ষিণ সুদানকে আলাদা করে স্বাধীন করে দিতে ইউরোপ-আমেরিকা ও পশ্চিমা বিশ্বসহ জাতিসংঘ যে সরব ভূমিকা পালন করছে, প্রায় ৭০ বছরের পুরনো কাশ্মীরিদের ন্যায্য অধিকার ও স্বাধীনতার রক্তস্নাত সংগ্রামে তারা না দেখার ভান ধরে সম্পূর্ণ নীরবতা পালন করে যাচ্ছে। এটা দ্বিমুখী নীতি, দ্বিমুখী আচরণ। কাশ্মীরি জনতা মুসলিম অধ্যুষিত বলেই কি বিশ্ব সম্প্রদায়ের এই নীরবতা? মুসলমান বলে কি কাশ্মীরিদের মানবাধিকার ও আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার স্বীকৃতি পাবে না? সভ্যদাবিদার পশ্চিমা বিশ্বের এ কি আচরণ? দক্ষিণ সুদান ও পূর্ব তীমুরের স্বাধীনতা নিয়ে সরব জাতিসংঘ ও পশ্চিমা দুনিয়া কাশ্মীরিদের বেলায় তাহলে নীরব কেন?

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, মূলত: পশ্চিমাদের মুখে মানবাধিকার বুলি স্রেফ ভন্ডামি ছাড়া কিছু নয়। তাদের মানবাধিকার শুধু নিজেদের বেলায় এবং অমুসলিমদের বেলায়। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য জাতিসংঘসহ পশ্চিমা বিশ্বের এমন একচোখা নীতিই মূলত: বড় বাধা।

হেফাজত মহাসচিব জাতিসংঘসহ বিশ্বসম্প্রদায়ের প্রতি মানবাধিকার ও স্বাধীনতার প্রশ্নে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে আল্লামা বাবুনগরী আক্ষেপ করে বলন, কাশ্মীরে হিন্দুত্ববাদি ভারত যে নিপীড়ন, ষড়যন্ত্র ও অত্যাচার চালাচ্ছে, সে ব্যাপারে আরববিশ্বসহ ওআইসির ভূমিকা খুবই হতাশাজনক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.