Home অন্যান্য খবর স্বাধীন জাতি হিসাবে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে: সর্বদলীয় কাশ্মীর সংহতি...

স্বাধীন জাতি হিসাবে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে: সর্বদলীয় কাশ্মীর সংহতি ফোরাম

0

সর্বদলীয় কাশ্মীর সংহতি ফোরামের নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা একটা হিংসুক, আগ্রাসী, অসম শক্তির বেষ্টনীতে বসবাস করছি। প্রতিনিয়ত সিমান্তে আমাদের নিরীহ নাগরিকদের তারা হত্যা করছে। আমাদের শেয়ার মার্কেট, চামড়া শিল্প, পাটজাত দ্রব্য, ব্যবসায়-বানিজ্য কোথায় তাদের দৌরাত্ম্য নেই। চাকুরী-বাকুরী, রাজনীতি, নিরাপত্তা সব কিছুতেই তারা ছলে বলে কৌশলে কিংবা রক্তচক্ষু দেখিয়ে দাপট খাটিয়ে চলছে। আমরা একটা স্বাধীন জাতি হিসাবে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় এগিয়ে না আসলে একটা বিপন্ন জাতিতে পরিণত হব। তাই সর্বাগ্রে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্যের। এতে সরকার কোন বাধ্য-বাধকতার কারনে এগিয়ে আসতে না পারলেও জনগনের এগিয়ে আসা উচিত এবং এ ক্ষেত্রে সরকারের প্রতি সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে বাংলাদেশ বিশ্বের সব চাইতে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ অতি নগন্য। তাই ভবিস্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে হলে আগে থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।

গতকাল (৮ সেপ্টম্বর) পল্টনস্থ জমিয়ত কার্যালয়ে ফোরোমের এক পর্যালোচনা বৈঠকে জাতীয় নেতারা উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন।

শায়খুল হাদীস আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বক্তব্য রাখেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এর সহ সভাপতি আল্লামা আব্দুর রব ইউসূফী, ইসলামী ঐক্য আন্দেলনের আমীর মা্ওলানা ড. ঈসা্ শাহেদী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুর হক, খেলাফত মজলিসের যৃগ্ম মহাসচিব মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, জমিয়তের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, জমিয়তের প্রচার সম্পাদক মাওলানা জয়নুল আবেদীন, উসলামী ঐক্য আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক মা্ওলানা শাখাওয়াত হোছাইন, জমিয়তের দপ্তর সম্পাদক মাওলানা আব্দুল গফ্ফার ছয়ঘরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা নূর মোহাম্মদ আজিজী, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ এর সাধারণ সম্পাদক আলহাজ হুজাইফা ইবনে ওমর প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এর মহাসচিব ও কাশ্মীর সংহতি ফোরামের আহবায়ক আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্য জনমনে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে মায়ানমার ও ভারতের সাথে জাতিসংঘে উত্থাপিত অনিষ্পন্ন সমুদ্রসীমা, ভারত থেকে অস্ত্র ক্রয় এবং কাশ্মীর ও আসাম ইস্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব বিষয়ে যেমন জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়, তেমনি মানবাধিকার বিষয়েও আমাদের সাংবিধানিক দায়বদ্ধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। পাশাপাশি আগরতলা বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য বাংলাদেশের কাছে ভারতের ভূমি চাওয়ার প্রেক্ষিতে ভারতীয় দাবির অনুকূলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র সচিব-এর যুক্তি উপস্থাপন দেশবাসীকে উদ্বিগ্ন করেছে।

তিনি বলেন, এতে করে দেশের স্বার্থ ক্ষুন্ন হওয়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আল্লামা কাসেমী আরো বলেন ভারত ও মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের গভীর সমুদ্র নিয়ে বিরোধ রয়েছে। দেশ দু’টি চলতি শতাব্দির শুরুর দিক থেকে ধাপে ধাপে বঙ্গোপসাগরে কনটিনেন্টাল শেলফ নিয়ে হঠাৎ আগ্রাসী নতুন নতুন বিরোধ তৈরি করে গভীর সমুদ্রে প্রবেশের পথ বিচ্ছিন্ন করে বহির্বিশ্বের সাথে বাংলাদেশের উন্মুক্ত যোগাযোগের পথকে অবরুদ্ধ করে দিতে চায়। সঙ্গত কারণেই দেশের স্বার্থকে রক্ষা করতে বাংলাদেশ কড়া প্রতিবাদ করে এবং এ বিষয়ে জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি উত্থাপন করে। যা এখনো অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়ে গেছে।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এর সহ সভাপতি আল্লামা আব্দুর রব ইউসূফী বলেন, ভারত সরকার সে দেশের প্রায় ২০ লক্ষ নাগরিককে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়ার চক্রান্ত করছে। যার মধ্যে ১১ লক্ষাধিক হিন্দু রয়েছে। এমনিতেই ১০ লক্ষাধিক ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে ওয়ার্ক পারমিট ছাড়াই অবৈধ ভাবে কাজে লিপ্ত আছে। এই ৩০ লক্ষ মানুষ যে কোন মূহুর্তে বাংলাদেশে বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। আর এমন পরিস্হিতির মোকাবেলা করা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন এখনই অবৈধ বসবাসকারীদের চিহ্নিত করা। তাদেরকে স্বল্প সময়ের নোটিশ দিয়ে বাংলাদেশ ত্যাগের নির্দেশ প্রদান করা এবং আমাদের বেকার যুবকদেরকে সেখানে পদায়ন করা। প্রয়োজনে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্হা করা। শক্তিশালী ভারতের মোকাবেলায় আমাদের সীমান্ত রক্ষা করা কেবলমাত্র নিয়মিত বাহিনীর পক্ষে সম্ভব হবে না। তাই আমাদের ১৭ কোটি মানুষের ৫ কোটি যুবককে সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়া। যাতে প্রয়োজনে আমাদের সামরিক ও আধা সামরিক বাহিনীর সহায়ক শক্তি হিসাবে ভূমিকা রাখতে পারে ।

আল্লামা ইউসূফী আরো বলেন, আমরা ভারতসহ বিশ্বের সকল দেশের প্রতি কোনরূপ বৈরিতা নয়, বরং সুসম্পর্ক চাই। তবে সেটা হতে হবে সমতা ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে পারস্পরিক স্বার্থ ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে। বন্ধুত্ব ও সুসম্পর্কের দোহাই দিয়ে কোন দেশের কাছে কেউ বাংলাদেশের মর্যাদা ও স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিবে এবং সার্বভৌমত্বকে অনিরাপদ করে তুলবে, এটা দেশের জনগণ মেনে নিব না। দেশবিরোধী যে কোন ষড়যন্ত্রকে উৎখাতে জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দ্বিধা করবে না।

বাংলাদেশ খেলঅফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, ভারত সে দেশের সংবিধান থেকে ৩৭০ ধারা তুলে নেয়ার পর কাশ্মীর এখন স্বাধীন। তারা এই ধারা প্রয়োগ করেও প্রমাণ করেছিল, কাশ্মীর স্বাধীন রাস্ট্র। এখন কাশ্মীরের মানুষ স্বাধীনতা চায়। কাশ্মীরীদের ন্যায্য স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতি আমরাও তাদেরকে পূর্ণ সমর্থন জানাবো। পাশাপাশি আমরা কাশ্মীরীদের বিরুদ্ধে ভারতের দমন-পীড়ন, মানবাধিকার হরণ এবং খুন-গুম-অপহরণের প্রতিবাদে সোচ্চার আন্দোলন চালিয়ে যাব। বিশ্বের যে কোন নিপীড়িত ও নির্যাতিত জনতার পক্ষে সোচ্চার কথা বলতে আমাদের সংবিধান সে অধিকার আমাদেরকে দিয়েছে। তবে আমরা সর্বাবস্থাবস্থায় শান্তিপুর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাব। কারণ, আমরা ভাংচুর ও বিশৃঙ্খলায় বিশ্বাসী না।

ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের আমীর মাওলানা ড. ঈসা শাহেদী বলেন, আসামে সামাজিক বিবাদের ব্যাপকতা কমিয়ে আনার পরিবর্তে এনআরসি আরও বাড়াল, শিগগির যার বিধ্বংসী রূপ টের পাওয়া যাবে। কেউ কারও কথায় বিশ্বাস রাখতে পারছে না এ মুহূর্তে। আসামে প্রধান রাজনীতিবিদেরা সবাই জনগণের কাছে অনেকখানি গুরুত্ব হারিয়ে ফেলেছেন। এ পরিস্তিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারকে প্রাক প্রস্তুতি নিতে হবে। অন্যথায় রোহিঙ্গা সমস্যার চেয়ে আরো প্রকট সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। -বিজ্ঞপ্তি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.