Home জাতীয় রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীনের মধ্যস্থতায় ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেন আল্লামা কাসেমী

রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীনের মধ্যস্থতায় ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেন আল্লামা কাসেমী

0
জমিয়ত মহাসচিব শায়খুল হাদীস আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী।

উম্মাহ প্রতিবেদক: জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’র মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেছেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে নিউইয়র্কে চীনের মধ্যস্থতায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠানের যে জোরালো সম্ভাবনার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে, আমরা তাকে স্বাগত জানাই। চীনের মধ্যস্ততায় রোহিঙ্গা সংকটের একটা ন্যায়ভিত্তিক গ্রহণযোগ্য সমাধান যদি এতে অর্জন করা যায়, সেটা হবে আমাদের জন্য অত্যন্ত স্বস্তির।

গতকাল (৯ সেপ্টেম্বর) সোমবার এক বিবৃতিতে জমিয়ত মহাসচিব আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার বিষয়ে দীর্ঘ দিন ধরে মিয়ানমার বিভিন্ন ছলচাতুরি, মিথ্যাচার ও প্রতারণা করে আসছে। রোহিঙ্গাদেরকে ফেরত নিবে বললেও তাদের নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোন সমাধানে আসতে দেশটি রাজি হচ্ছে না। যেই ভীতিকর ও নিরাপত্তাহীন পরিবেশ থেকে প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গারা বাড়ি-ঘর ও সহায়-সম্পদ ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, সেই ভীতিকর পরিস্থিতি দূর করার মতো বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি ছাড়া রোহিঙ্গারা ফিরে যেতে কী করে ভরসা পাবে?

তিনি বলেন, আমরা জানি অর্থনৈতিক ও সামরিকসহ নানাদিক থেকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সাথে চীনের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। যার ফলে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিবাদমান দেই দেশের কাছেই চীন আস্থাবান দেশ। তাই আমরা জোরালো আশাবাদি হতে চাই, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে এ পর্যন্ত ব্যর্থ হওয়া সকল উদ্যোগ ও পরিকল্পনা থেকে সব পক্ষ শিক্ষা নিয়ে যেভাবে ফলপ্রসূ ন্যায়ভিত্তিক সমাধান আসে, সে পথে আলোচনাকে এগিয়ে নিতে চীন তার সকল প্রভাবকে কাজে লাগাবে। সুতরাং সম্ভাব্য ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে সংকট সমাধানের যে কোন উদ্যোগ অবশ্যই সুপরিকল্পিত হতে হবে, যাতে সত্যিকার অর্থেই রোহিঙ্গা সংকটের জট খোলে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা, বাড়ি-ঘর ও সহায়-সম্পদ ফেরত পাওয়া এবং স্বাধীনভাবে রাখাইনে চলাচলের অধিকার দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েই মিয়ানমার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত নেওয়ার বিষয়টি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। পাশাপাশি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের মধ্যস্থতা ও উপস্থিতি এবং ফিরে যাওয়ার পরও রোহিঙ্গাদের সাথে কেমন আচরণ করা হচ্ছে, সেই তদারকিরও সুযোগ রাখতে হবে। এসব দাবি পুরণে মিয়ানমার যাতে আর কোন তালবাহানা, গড়িমসি ও দায় এড়ানোর সুযোগ না পায়, এ ব্যাপারে চীনকে কঠোরভাবে তার প্রভাব কাজে লাগাতে হবে।

আল্লামা কাসেমী বলেন, সকল পক্ষকে এটা সামনে রেখেই আলোচনা করতে হবে যে, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, নিরাপত্তাসহ মৌলিক অধিকার বিষয়ে ন্যায়ভিত্তিক সমাধান ছাড়া এই সংকটের ফলপ্রসূ সমাধান হবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.