Home সোশ্যাল মিডিয়া রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে এত ঘৃণার প্রকাশ বার্মায়ও বিরল!

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে এত ঘৃণার প্রকাশ বার্মায়ও বিরল!

১৯৭১-এ বাংলাদেশ ভূখন্ডের শান্তিপ্রিয় মানুষ জাতিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সশস্ত্র যুদ্ধে পর্যন্ত লিপ্ত হয়েছিল। একাত্তরের ডিসেম্বরে মনে হয়েছিল– আর যাই হোক এই দেশে জাতি বা বর্ণঘৃণার ঠাঁই হবে না কোনদিন। ওটাই ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে বড় অহঙ্কার।

কিন্তু সম্প্রতি বাংলাদেশের মূলধারার প্রচারমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের গায়ের রঙ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রজননস্বাস্থ্য, অভ্যাস, ঐতিহ্য, ধর্মসহ প্রতিটি বিষয়ে অতি-পরিকল্পিত এবং অতি-গোছানো যে পদ্ধতিগত প্রচারাভিযান শুরু হয়েছে তাতে স্পষ্ট– বাংলাদেশীরা বার্মার বামারদেরও ছাড়িয়ে যেতে চলেছে এ যুদ্ধে।

গত কয়েকদিনের ঢাকার বিখ্যাতসব দৈনিক দেখে বিমূঢ় হতে হয়– কারণ বার্মায় গত দশ বছরেও রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে এত ঘৃণার উদগীরণ দেখা যায়নি। সেখানে আক্রমণের ধরন ছিল প্রধানত প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিকীকরণ। কিন্তু বাংলাদেশে তারা আক্রান্ত হচ্ছে জাতিগত মর্যাদার জায়গায়।

বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের সাময়িকভাবে আশ্রয় দিয়ে বহির্বিশ্বে দেশের জন্য যে মর্যাদা নিশ্চিত করেছিল, দেশের কিছু মানুষ নিশ্চিতভাবেই তাকে কালিমালিপ্ত করছে এখন। যা পরোক্ষে রোহিঙ্গাদের ফেরত না নেয়ার ক্ষেত্রে বামারদের কৌশলকেই শক্তি যোগাচ্ছে।

আজকে বাংলাদেশের কিছু ‘মানুষ’ যখন ক্যাম্পবাসী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ঘৃণাযুদ্ধে লিপ্ত– তখন তারা এও ভুলে যাচ্ছেন, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে প্রায় এক কোটি বাংলাদেশী নানান উপায়ে জীবনযুদ্ধে নিয়োজিত রয়েছেন। আমরা কী চাইবো, তারাও সেসব দেশে একইরকম বর্ণঘৃণার শিকার হোক?

খেয়াল রাখা দরকার, পুরো পৃথিবী আমাদের দেখছে। বার্মার সঙ্গে কূটনীতিক যুদ্ধে হেরে যাওয়ার আগে বাংলাদেশ যেন তার মানবিক ও সাংস্কৃতিক গৌরবটুকুও হারিয়ে না ফেলে।

– আলতাফ পারভেজ, দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস বিষয়ে গবেষক।
৪ সেপ্টেম্বর, ০২:২৬টার ফেসবুক পোস্ট।
ইমেইল- [email protected]