Home অন্যান্য খবর কাশ্মীরে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ

কাশ্মীরে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ

বেঙ্গল রিপোর্ট ডেস্ক: কাশ্মীর আমাদের ছিল, আমাদের আছে, আমাদের থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানী।

তিনি বলেন, যেখানে ভারত থাকবে, সেখানেই আমরা থাকব। কাশ্মীরের মানুষদের রক্ষাকবচ হিসাবে ব্যবহার করে পাকিস্তান এই উপত্যকাকে ধ্বংস করে দিতে চাইছে। কিন্তু আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস যে, ভারতের সঙ্গে সার্বিক ঐক্যের (৩৭০ ধারা রদের মধ্য দিয়ে) মধ্যেই কাশ্মীরিদের উন্নতি লুকিয়ে রয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে জমিয়তে উলামা হিন্দ-এর বার্ষিক সভায় এসব কথা বলেন মাওলানা মাহমুদ মাদানী।

৩৭০ ধারা রদ এবং এনআরসি নিয়ে কংগ্রেস-সহ সমস্ত বিরোধী দল যখন ক্রমাগত ভারত সরকার নরেন্দ্র মোদীর সমালোচনা করে চলেছে, কেন্দ্রের এই দুই পদক্ষেপকেই ‘মানবিকতা বিরোধী’ অ্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে, সে সময় সমর্থন উড়ে এল ভারতের সর্ববৃহৎ মুসলিম সংগঠন জমিয়তে উলামা হিন্দ-এর কাছ থেকে। মোদীর পাশে দাঁড়িয়ে তাদের দাবি, ভারতের সঙ্গে সার্বিক ঐক্যের মধ্যেই যেমন কাশ্মীরীদের উন্নতি লুকিয়ে রয়েছে, তেমনই দেশের সুরক্ষায় এনআরসির মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করাটাও জরুরি।

জমিয়তে উলামা হিন্দ যে সব সময়ই কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করে, তা বার্ষিক সভায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন জমিয়তে উলামা হিন্দের সেক্রেটারি। পাশাপাশি তিনি এটাও জানিয়েছেন, কাশ্মীরে মানবাধিকার রক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন তাঁরা। কারণ, ‘আমাদের প্রতিবেশী দেশ কাশ্মীরকে ধ্বংস করতে চায়, তারা কাশ্মীরকে রাজনীতির প্ল্যাটফর্ম করে তুলেছে এবং সে জন্য কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ আসলে কী চান তা আমাদের কানে এসে পৌঁছয় না।’

৩৭০ রদ নিয়ে কেন্দ্রকে পুরোপুরি সমর্থন জানানোর পরই এনআরসি প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি। মাহমুদ মাদানী মনে করেন, কত অনুপ্রবেশকারী রয়েছেন তা চিহ্নিত করতে শুধু অসমেই নয়, সারা দেশে এনআরসি চালু করা দরকার। তাঁর সংযোজন, ‘যাঁরা ভারতীয় নাগরিক অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের দিকেও আঙুল তোলা হয়। তাই এটা হওয়া জরুরি। এনআরসি নিয়ে আমার কোনও সমস্যা নেই।’

উল্লেখ, দেশে যে হিন্দু-মুসলিম দ্বন্দ্ব রয়েছে তা দূর করতে অভিনব ভাবনার আশ্রয় নিতে চলেছে জমিয়তে উলামা হিন্দ। তার জন্য ‘সদ্ভাবনা মঞ্চ’ গড়ে তুলতে চায় এই সংগঠন। এতদিন সংগঠনের যাবতীয় বৈঠক, সভায় শুধুমাত্র মুসলিমরাই অংশ নিতেন। হিন্দুদের প্রতি বা দেশের বিভিন্ন রীতি-নীতির প্রতি তাঁদের সংগঠনের কী ধারণা, তা বাকিরা জানতে পারতেন না। এই বিভেদ দূর করার জন্যই এই নয়া মঞ্চের ভাবনা। যেখানে হিন্দু-মুসলিম দু’জনেই বিভিন্ন আলোচনায় অংশ নিতে পারবেন।

নয়াদিল্লিতে জমিয়তে উলামা হিন্দ-এর বার্ষিক সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, জমিয়তে উলামা হিন্দের প্রেসিডন্ট মাওলানা উসমান মানসুরপুরি, মাওলানা মতিনুল হক উসামা, মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী, মুফতি সালমান মানসুপুরি, মাওলানা নিয়াজ আহমদ ফারুকি, মাওলানা কামাল ফারুকি, মাওলানা সালমান নুজাইরি, মাওলানা আব্দুল কাদের উসামা প্রমুখ। সূত্র- বেঙ্গল রিপোর্ট।