Home শীর্ষ সংবাদ বাংলাদেশ কী ভারতের কাছে কূটনৈতিকভাবে ব্যর্থ হল: বিবিসি প্রতিবেদন

বাংলাদেশ কী ভারতের কাছে কূটনৈতিকভাবে ব্যর্থ হল: বিবিসি প্রতিবেদন

0
হায়দ্রাবাদ হাউজে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। ছবি- সংগৃহীত।

বিবিসি: এবার ভারতের সাথে যে ক’টি সমঝোতা স্বারক সাক্ষর হয়েছে তাতে ভারত বেশ ক’টি সুবিধা পেয়েছে বাংলাদেশের কাছ থেকে। চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে ভারত। নজরদারির জন্য বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বঙ্গোপসাগরে রেডার বসাবে দেশটি।

অভিন্ন ফেনী নদী থেকে ভারতকে পানি দিতে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ। ভারতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস রপ্তানিরও ঘোষণা দেয়া হয়েছে। বছর তিনেক হল বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে শুল্কমুক্ত ট্রানজিট সুবিধা পাচ্ছে ভারতের পণ্যবাহী যানবাহন। আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে কোলকাতা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনও বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে শিলিগুড়ি যাবে।

ভারতীয় ট্রেনের প্রতীকি ছবি।

কিন্তু ভারতের কাছে বাংলাদেশের যে প্রত্যাশা ছিল ছিল তা পূরণ হয়নি, বলছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির। তিনি বলছেন, “আমাদের প্রত্যাশিত যে বিষয়গুলো আমরা মনে করেছিলাম, সবগুলোই বেশ জটিল। বিষয়গুলো নিয়ে হয়ত আলোচনা হয়েছে। কিন্তু যে জয়েন্ট স্টেটমেন্ট এসেছে সেখানে এর খুব একটা প্রতিফলন আমরা দেখিনি।”

তিনি আরও বলছেন, “ভারতকে যখন আমরা মানবিক কারণে ফেনি নদীর পানি ব্যবহারের সুযোগ দেই, আমরাও একই ধরনের মানবিকতা ভারতের কাছ থেকেও আশা করি। অন্তত আমাদের যে বিষয়গুলি ঝুলে আছে সেগুলোর ব্যাপারেও আরও বেশি সক্রিয় হবে সেরকম প্রত্যাশাতো আমাদের থাকে।”

ভারত এবার যে সুবিধাগুলো নিশ্চিত করলো বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে তার বিপরীত চিত্র। ভারতের কাছে বাংলাদেশের দীর্ঘ দিনের চাওয়া তিস্তা নদীর পানি ভাগাভাগির ক্ষেত্রে চুক্তি নিয়ে কোন অগ্রগতি হয়নি। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের যে জোরালো সমর্থন বাংলাদেশ চায় সেটি মেলেনি। এমনকি ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটিই ব্যবহার করা যায়নি। বলা হয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে আসা ‘আশ্রয়চ্যুত’ মানুষজন।

দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউজে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। ছবি- সংগৃহীত।

ভারত ও বাংলাদেশ যৌথ বিবৃতিতে কোথাও বাংলাদেশের জন্য সাম্প্রতিক উদ্বেগের বিষয়, ভারতের বিতর্কিত জাতীয় নাগরিকপঞ্জী বা এনআরসি বিষয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী মোদীর মুখ থেকে কোন আশ্বাস আসেনি, যেমনটা বাংলাদেশে চেয়েছিল। এমনকি দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে এনআরসি শব্দটিই একবারও উল্লেখ হয়নি।

রাজনীতির অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলছেন, লেনদেনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভারতকে সবসময় শুধু দিয়েই গেছে। এবারো তার ব্যতিক্রম নয়। তিনি বলছেন, “বাংলাদেশের কূটনীতি সবসময় ভারতের কাছে নতজানু ছিল। ধরেন, বাণিজ্য ঘাটতি থেকে শুরু করে, তাদেরকে এককভাবে ট্রানজিট দিয়ে দেয়া, ফারাক্কার যে চুক্তি হয়েছে সেটাও কিন্তু সমতার ভিত্তিতে হয়নি। ভারত চাপের মুখে রেখে সব সময় সবকিছু আদায় করে নিয়েছে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.