Home শীর্ষ সংবাদ গত ৯ মাসে দেশে ২৪ জন গুমের শিকার হয়েছেন: অধিকার

গত ৯ মাসে দেশে ২৪ জন গুমের শিকার হয়েছেন: অধিকার

0

গত ৯ মাসে দেশে ২৪ জন গুমের শিকার হয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

অধিকার তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বাংলাদেশে গুমের অভিযোগগুলো নিয়মিতভাবে আসতে থাকে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে তা ব্যাপক আকার ধারণ করে।

অধিকার বলেছে, গুমের ঘটনাগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোর জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে। বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদন থেকে গুমের ঘটনা প্রমাণিত হলেও সরকারের উ”চমহল থেকে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিনিয়ত অস্বীকার করা হচ্ছে। জাতিসংঘের নির্যাতন বিরোধী কমিটি বাংলাদেশের ওপর প্রতিবেদন পর্যলোচনার সময় সরকার গুমের বিষয়টি অস্বীকার করে। নির্যাতন বিরোধী কমিটি তাদের চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণে অঘোষিত আটক ও গুমের ঘটনাগুলোর বিষয়ে সরকারের তথ্য প্রকাশের ব্যর্থতায় উদ্বেগ জানায়।

গুম হয়ে যাওয়া সাতক্ষীরার মোখলেছুর রহমান জনির স্ত্রী জেসমিন নাহার রেশমা ২০১৭ সালের ২ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে তার স্বামীকে ফিরে পাওয়ার জন্য একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। এই রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ মে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ মোখলেছুর রহমান জনির ব্যাপারে ৩ জুলাইয়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেন।

সাতক্ষীরা জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুল্লাহ মাহমুদ ৪ জুলাই ২০১৭ একটি তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করেন যেখানে বলা হয়েছে যে, সাতক্ষীরা পুলিশের এসপি মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন এবং সাতক্ষীরা সদর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমদাদুল হক শেখ ও সাবেক এসআই হিমেল হোসেন মোখলেছুর রহমান জনি নামে একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসককে গ্রেফতার করার পর তাঁকে গুম করার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তদন্ত প্রতিবেদনে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমদাদুল হক শেখ ও এসআই হিমেল হোসেন সরাসরি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন বলে উল্লেখ আছে। আরেকটি ঘটনার ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জে ৭ ব্যক্তিকে গুম করার পর হত্যা করার অপরাধে ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন এক রায়ে র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লে.কর্নেল (অব.) তারেক সাইদসহ ১৬ জন র‌্যাব কর্মকর্তা ও সদস্যসহ ২৬ জন অভিযুক্তকে ফাঁসির আদেশ দেন।

ঢাকার মিরপুরের কাঠ ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন বাতেন এর স্ত্রী নাসরিন জাহান স্মৃতি বলেন, তাঁর স্বামী ইসমাইল গত ১৯ জুন আনুমানিক ২:৩০ মিনিটে দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য তাঁর কর্মস্থল ‘দাদা স’মিল’ থেকে বাসায় ফেরার সময় নিখোঁজ হন। এই ব্যাপারে শাহআলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ এখনও তাঁর কোন সন্ধান দিতে পারে নাই। গত ২০ জুলাই ইসমাইলের স্ত্রী এই ব্যাপারে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বশত্রুতার জের ধরে তাঁর স্বামী ইসমাইল হোসেনকে উঠিয়ে নিয়ে গেছে র‌্যাবের কমিউনিকেশনস অ্যান্ড সিগনাল শাখার পরিচালক রাসেল আহমেদ কবির।

অধিকার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে জুলাই-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এইসময়ে ৫ জনকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তাঁদের গুম হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঁদের মধ্যে ৩ জনের লাশ পাওয়া গেছে, ১ জনকে গুম করার পর পরবর্তীতে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং ১ জনকে পরবর্তীতে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.