Home শিক্ষা ও সাহিত্য ছাত্রদের প্রতি জরুরী ৮টি উপদেশ

ছাত্রদের প্রতি জরুরী ৮টি উপদেশ

0

।। হাফেজ মাওলানা নাজমুল হাসান ।।

(১) হযরত ফকীহুল উম্মত হযরত মুফতী মাহমূদ হাসান গাঙ্গুহী (রাহ.) বলতেন- ছাত্রদের জন্য সংক্ষিপ্ত অযিফা আছে। ঐ অযিফাসমূহের উপর গুরুত্বারোপ কর দরকার, যা তাদের ইলম অর্জনে সহজ রাস্তা দেখাবে। ক) ক্লাসের পূর্বে নিজে মুতালা’আ করে দরসে বসবে। ইহাকে নিজের উপর আবশ্যক করে নিবে। কেননা মুতালা’আ ব্যতীত ছাত্রদের যোগ্যসম্পন্ন হওয়া অসম্ভব। খ) নিয়মিত দরসে উপস্থিত হওয়ার পাবন্দী করবে। গ) দরসে উস্তাদের কথা মনোযোগ সহকারে শোনবে। বুঝে আসলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবে। এবং যা বুঝে আসবে না আদব সহকারে দ্বিতীয়বার জিজ্ঞেস করবে। ঘ) দরসের পর তাকরার এবং মুতালা’আর প্রতি গুরুত্ব প্রদান করবে। এর দ্বারা কিতাব বুঝা সহজ হয়ে যায়। ঙ) অবসর সময়ে আকাবিরদের বই পড়বে। এর মাধ্যমে ছাত্রদের জীবন কামিয়াব হয়ে যাবে এবং ভবিষ্যতে সে সফলভাবে ইলমে দ্বীনের প্রচার করতে পারবে।

(২) শিক্ষকদের সীমাহীন সম্মান ও আদব করবে। মাদরাসায় থাকাকালীন যদি উস্তাদদের আদব করার অনুশীলন কর, তাহলে ঘরে গিয়ে পিতা-মাতার প্রতি আদব করা সহজ হয়ে যাবে। এভাবেই মাদরাসায় সহপাঠিদেরও সম্মান করার মেযাজ তৈরী করবে। তাহলে ঘরে গিয়ে ভাই-বোন এবং প্রতিবেশিদের সম্মান করা সহজ হয়ে যাবে। মাদরাসায় উত্তম চরিত্র অবলম্বন করবে তাহলে পরবর্তীতে তার উপর পাবন্দী করা সহজ হয়ে যাবে।

(৩) ছাত্রদের মাদরাসার নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলার অভ্যাস তৈরী করতে হবে। এখানে মাদরাসায় থাকতেই পাবন্দীর অভ্যাস গড়ে তুলবে তাহলে ফারেগ হওয়ার পরও পাবন্দী থাকবে এবং সব জায়গায় সফল হবে। দ্বীনি খিদমতে কখনো পেরেশান হবে না। সকল ক্ষেত্রে আস্থা ও মহব্বতের পরিবেশ তৈরী হবে। আর যদি এখন পাবন্দীর মেযাজ না বানাও তাহলে ফারেগ হওয়ার পর বড় পেরেশানিতে পড়বে।

(৪) মাদরাসায় থেকে যা কিছু শিখেছ তার উপর নিজে আমল করার চেষ্টা করবে এবং ছুটিতে যখন ঘরে যাবে, তখন ঐ কথাগুলো ঘরেও বলবে যেন ঘরের সকলেও আমল করে এবং ঘর জান্নাতের একটি নমুনা হয়ে যায়।

(৫) নিজ নিজ ঘরে কিতাবী তা’লীমের ব্যবস্থা করবে এবং ফাযায়েলের কিতাবগুলোর সাথে মাসায়েলের কিতাবগুলোর প্রতিও সমান গুরুত্ব রাখবে। যেন ঘরের প্রত্যেকটি মানুষ মাসায়েল সম্পর্কে অবগত থাকে। এবং এর উপর আমল করার আগ্রহ যেন পরিবারের সকল সদস্যদের ভিতর সদা জাগ্রত থাকে। এবং শুধুমাত্র ছাত্রই (তালিবে ইলম) নয়, বরং সকল ইসলামী পরিবার এমনকি সাধারণ মুসলমানরাও যেন নিজ নিজ ঘরে কিতাবী তা’লীমের ব্যবস্থা করে। যেন ঘর সমূহের মাঝে দ্বীনি পরিবেশ সৃষ্টি হয়ে যায়।

 (৬) বর্তমানে নকলের অভ্যাস ব্যাপক হয়ে গেছে। যেদিকেই দৃষ্টিপাত করি দেখি অন্যের দেখা-দেখি জীবন যাপন করার প্রতিদ্বন্দ্বিতা লেগে রয়েছে। প্রত্যেক ব্যক্তিই নকলের মাঝে একে অন্যের আগে যাওয়ার চিন্তায় মাতোয়ারা। এবং বর্তমানে এই মহামারী এতটা প্রকট আকার ধারণ করেছে যে, মাদরাসার ভেতরের পবিত্র অবস্থাও এর থেকে নিরাপদ নয়। আমাদের ছাত্ররাও অন্যের নকল করছে।

পোশাকে-আশাকে, কৃষ্টি-কালচারে, চাল-চলনে, উঠা-বসায়, এক কথায় জীবন যাপনের সকল ক্ষেত্রে অন্যের অনুকরণের প্রবণতা এমন যে, মনে হয় সে যেন অন্যের নকল করতে মজা পায়। এটা ইসলামী অভ্যাস নয়। এটা না হওয়া উচিত। আমাদের তো এসব বিষয়ে নবী কারীম (সা.)এর পবিত্র শিক্ষার অনুকরণ করা উচিত। যা সাহাবায়ে কেরাম এবং উম্মতের কান্ডারীদের হাত ধরে আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেছে। এবং এর মাঝেই আমাদের দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতার উপর একীন রাখা উচিত। আমাদের সর্বদা স্বরণ রাখা উচিত যে, নবী কারীম (সা.) ইরশাদ করেন-

“যে ব্যাক্তি অন্য কোন জাতির কালচারকে গ্রহণ করে, সে যেন তাদের মধ্যে থেকেই একজন হয়ে যায়”। এর মাধ্যমে রাসূল (সা.) আমাদের অন্য কোন জাতির কালচারকে নকল কিংবা গ্রহণ করতে স্পষ্টভাবে নিষেধ করেছেন। এমনিভাবে এক হাদীসে এমন ছেলে-মেয়েদের উপর লা’নত করা হয়েছে, যারা একে অন্যের আকার-আকৃতি অনুসরণ করে। হযরত ইবনে আব্বাস (রাযি.) রেওয়ায়াত করেন-

“রাসূল (সা.) পুরুষের আকৃতি ধারণকারী মহিলাকে এবং মহিলার আকৃতি ধারণকারী পুরুষকে লা’নত করেছেন।

(৭) মোবাইল ফোন ব্যবহারের ভয়াবহতা: ছাত্রদের জন্য মোবাইল ফোন ব্যবহার করা ভয়ানক আশঙ্কাজনক। এর মাঝে ছাত্রদের উপকার কম ক্ষতি বেশি। মোবাইল তালিবে ইলমের ব্রেইনকে ইলমী কর্মকান্ড থেকে সরিয়ে অনর্থক কর্মকান্ডের মাঝে লাগিয়ে দেয়। এবং অত্যন্ত অহেতুক এবং খারাপ কর্মকান্ডে লিপ্ত করে দেয়। এই জন্য ছাত্রদের মোবাইল থেকে অত্যন্ত দূরে থাকা দরকার। মোবাইলের আসল উদ্দেশ্য এক স্থান থেকে আরেক স্থানে খবর পৌঁছানো। এই উদ্দেশ্যেই তা ব্যবহার করা চাই। অন্যথায় সময় নষ্ট ছাড়াও আরো অনেক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

(৮) আজ-কাল ছাত্রদের খারাপ প্রভাবে পান-জর্দা খাওয়ার বদ অভ্যাস রীতিমতো ব্যাপক হয়ে যাচ্ছে। অনেক ছাত্র তামাক চোষে, অথচ তা স্বাস্থের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। অভিজ্ঞদের বিশ্লেষণ যে, পান-জর্দা ও গুলের কারণে মুখের ক্যান্সার হয়। এমন লোকদের আল্লাহ্ প্রদত্ত বচন প্রক্রিয়ার স্বাভাবিকতাও নষ্ট হয়ে যায়। টাকাও নষ্ট এবং স্বাস্থও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছাত্রদের এ সমস্ত খারাপ অভ্যাস থেকে যতদূর সম্ভব বেঁচে থাকা দরকার।

লেখক: ভাইস প্রিন্সিপাল ও মুহাদ্দিস, জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা-ঢাকা, প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল- ঢাকা উত্তরা রওজাতুস সালিহাত মহিলা মাদ্রাসা, খতীব-  উত্তরা ১২নং সেক্টর বায়তুন নূর জামে মসজিদের এবং সাংগঠনিক সম্পাদক- জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.