Home ওপেনিয়ন ‘আমার প্রিয় খোকা ভাই’

‘আমার প্রিয় খোকা ভাই’

0

।। আল্লামা আব্দুর রব ইউসুফী ।।

এরশাদ সরকারের পতনের পর ৯১ এর সংসদ নির্বাচনে পুরান ঢাকা থেকে শেখ হাসিনাকে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হয়ে আলোচনায় আসা বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা ভাই আর নেই। পরবর্তীতে চার দলীয় জোট গঠিত হলে ঢাকা মহানগর বিএনপির সভাপতি হিসাবে তিনিই জোটের মহানগর কমিটির সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। সে সময়কার জাতীয় পার্টির মহানগর সভাপতি সাইফুর রহমান ভাই অনেক পূর্বেই পরপারে চল গেছেন।

আজ চলে গেলেন খোকা ভাই। তদানিন্তন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম ভাই ফাঁসির প্রহর গুনছেন। আর তদানিন্তন ইসলামী ঐক্যজোটের সভাপতি আমি আবদুর রব ইউসুফী দুই ডজন মামলা নিয়ে আজও বেঁচে আছি। অথচ আমরা সবাইকে আওয়ামী লীগ সরকারে বিরুদ্ধে চার দলীয় জোটের আন্দোলনে কত কত কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। গুলি, রামদা তাড়িয়ে বেড়িয়েছে। কিন্তু জীবন-মৃত্যুর মালিকের ফয়সালা ছাড়া কিছুই যে হয় না।

২০০১ এর সংসদ নির্বাচনে খোকা ভাই এমপি হলেন, মন্ত্রী হলেন। সিটি কর্পোরেশনের মেয়রও হয়ে গেলেন। এত পদের মালিক। ভিতরে বাইরে কানাঘুষা হওয়াই স্বাভাবিক। মিডিয়াতো আছেই। পরে বেগম জিয়ার পরামর্শে মন্ত্রীত্ব ছেড়ে দিলেন।

সব স্মৃতি মনে না পড়লেও অনেকটাই মনে পড়ছে। ঢাকা বিমান বন্দর বাবুস্ সালাম মাদরাসা সংলগ্ন কিছু জঙ্গলময় দেয়াল ঘেরা জমি ছিল। আজ সেটা রাস্তার অন্তর্ভূক্ত। সেখানে একটা টিনসেড ছোট ঘর ছিল। বিএনপির স্হানীয় ছেলেরা ক্লাব নামে সেটা ব্যবহার করত। পূর্বে আওয়ামী লীগের ছেলেদের দখলে ছিল। মাদরাসার পরিবেশের জন্য বিব্রতকর ছিল। একদিন খোকা ভাইকে বিষয়টি হালকা ভাবে বললাম। সাথে সাথে আঃ সালাম ভাইকে বললেন, ওদেরকে বল আজকের মধ্যে এটা খালি করে দিতে। তাই হল। সকাল বেলা কিছুই নেই। সব মাদরাসার দখলে চলে আসল।

গুলিস্তান গোলাপ শাহ্ মাজার জামে মসজিদে মাওলানা আবদুল কাইয়ূম জামী খতীব। কিছু সমস্যা হচ্ছিল। খোকা ভাইকে জানালাম। কমিশনার চৌধুরী আলমকে বলে দিলেন এটা ঠিক করে দিও। সব দুরুস্ত।

একদিন সাইফুর ভাই বললেন, এখন প্রায় প্রতিদিন হরতাল-অবরোধ-মিছিল হচ্ছে। আমরা টাকা-পয়সা খরচ করে লোকজন নিয়ে আসি। জামাতেরও টাকা-পয়সার অভাব নেই।

ইসলামী ঐক্যজোটের লোকেরা হুযূর মানুষ। তাঁরা এত টাকা-পয়সা পাবে কোথায়? খোকা ভাই ইচ্ছা করলে ইউসুফী ভাইকে একটু সহযোগিতা করতে পারেন। খোকা ভাই বললেন, ইউসুফী ভাই কিছু বলেন না কেন? আমি বললাম, এ বিষয়ে দলে আলোচনা না করে কিছু বলতে পারব না। দুইদিন পর আবার জিজ্ঞাসা করলে বললাম, চলছে তো। প্রয়োজন হলে দেখা যাবে।

এ সব কিছুই সাদামাটা ভাবে চলত। কোন রাখ-ঢাক করে তাঁর সাথে কিছু আলোচনা করতে হত না।

রাত ১১টায় খোকা ভাইয়ের টিকাটুলির বাসা থেকে বের হয়েছি। বিএনপির দুই-আড়াই শত ঘাট শ্রমিক এসে হাজির। আমাকে দেখেই সবাই জড়িয়ে ধরলেন। ইউসুফী ভাই! আমরা কয়দিন যাবত এই সমস্যা নিয়ে খোকা ভাইয়ের কাছে আসছি। কিন্তু কোন কথা বলতে পারছি না। আপনি একটু সহযোগিতা করলে আমরা গরিবদের একটু উপকার হত। আমি বললাম, আমি তো উনার বেড রুম থেকে কথা বলে এসেছি। এখন আবার কি করে যাই। তাঁকে বেশ অসুস্হ বলেই মনে হল। সাথে বাসায় অবস্হানরত অন্যরাও বললেন, উনি অসুস্হ, এখন আর সম্ভব নয়। আগামী কাল সকালে আসুন।

কিন্ত তারা নাছোড় বান্দা। পুনরায় উপরে গেলাম। তিনি আর নিচে নামলেন না। তবে তাদের সমস্যা আগামী কালই সমাধা করে দিবেন বলে আমাকে আশ্বস্ত করলেন এবং বললেন, তারা যেন সকালে নগর ভবনে আসেন।

আমি নিজের মধ্যে একটা তৃপ্তি পেলাম। এত সহজে বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে ভাবতেও পারিনি। তারাও আনন্দে খোকা ভাই ইউসুফী ভাই যিন্দাবাদ দিয়ে চলে গেল।

কিছু কথা বলে ফেললাম। দুর্দিনের সাথী, তাই। যদিও তাঁরা অনেক সুখও ভোগ করেছেন। কষ্ট-দূর্ভোগও কম করেননি।

আজ খোকা ভাই চলে গেলেন। আল্লাহ্ গাফুরুর রাহীম তাঁকে ক্ষমা করুন। জান্নাত নসীব করুন। পরিবার পরিজনকে আল্লাহ্ তাআলার সিদ্ধান্তের উপর ধৈর্য ধারন করার তাওফীক দান করুন। আমীন।।

– আল্লামা আব্দুর রব ইউসুফী, সহসভাপতি- জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, নায়েবে আমীর- হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.