Home আন্তর্জাতিক জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে সরকার জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে: অম্বিকা সোনি

জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে সরকার জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে: অম্বিকা সোনি

0

উম্মাহ অনলাইন: জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বিলোপ করে তাকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বানিয়ে সরকার সেখানকার জনগণকে প্রতারণা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং দলের জম্মু-কাশ্মীর বিষয়ক দায়িত্বশীল অম্বিকা সোনি। গতকাল (বুধবার) তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ওই মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন, ‘জম্মু-কাশ্মীর থেকে রাজ্যের মর্যাদা প্রত্যাহার করে তাকে দুটি অংশে বিভক্ত করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসাবে পরিণত করা হয়েছে। কিন্তু এতবড় পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বিজেপি সরকার এমনকী এখানকার  জনগণের আস্থাও নেয়নি। এখানকার জনগণের সাথে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা ওই পদক্ষেপ গ্রহণের দ্বারা পূরণ হয়েছে কী? জম্মু-কাশ্মীরের জনগণ কেন্দ্রকে এই প্রশ্নের জবাব দিতে বলবে।’

অম্বিকা সোনি বলেন, ‘কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি জোট সরকারের দিশাহীন নীতিমালার ফলে দেশে বেকারত্ব এবং অর্থনৈতিক সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। কংগ্রেস এর বিরুদ্ধে দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু করেছে। বাস্তবতা হলো সরকারী নীতিমালা কৃষকবিরোধী। কেন্দ্রীয় সরকার অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবেলায়ও ব্যর্থ হয়েছে। পরিস্থিতি এমনই যে দেশে বেকারত্ব দিন দিন বাড়ছে।’ তাঁদের আন্দোলনকে সফল করতে অন্যান্য বিরোধী দলগুলোকে সঙ্গে নেওয়া হবে বলেও কংগ্রেস নেত্রী অম্বিকা সোনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘জম্মু-কাশ্মীরে এই আন্দোলন জেলা পর্যায়ে চলবে। আজ থেকে এই আন্দোলন শুরু হয়েছে এবং এটি ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে।’ জম্মু-কাশ্মীরের বর্তমান অবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয়  সরকার এখানে সবকিছু স্বাভাবিক হওয়ার কথা বলছে। যদি এটি হয় তাহলে  বিরোধী দলের নেতারা কেন এখনও আটক অবস্থায় রয়েছেন? কেন তাদেরকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না?’

‘জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বিলোপ ও একে বিভক্ত করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করা এক বিস্ময়কর সিদ্ধান্ত! সরকার রাজ্যের মর্যাদা কেড়ে নিয়ে এখানকার জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে’বলেও অম্বিকা সোনি মন্তব্য করেন।

এ প্রসঙ্গে আজ (বুধবার) পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার কালিয়াচক কলেজের প্রিন্সিপ্যাল ড. নাজিবর রহমান রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘আমরা মনে করি যে ওনার মন্তব্য যুক্তিযুক্ত এজন্য যে, তাঁদের ৩৭০ ধারা নির্ধারিত হয়েছিল মূলত তাদের একীভূত হওয়ার সময়ে। সেই সময় থেকে তারা বিশেষ সুবিধা ভোগ করে আসছিল যেমন উত্তর-পূর্বের বিভিন্ন রাজ্যে ৩৭১ ধারা মাধ্যমে তাদের কিছু সুবিধা প্রদান করা হয়েছিল। ফলে, কাশ্মীরের জনগণ সরকারের ৩৭০ ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি। এবং কাশ্মীরের যে নাগরিক সুবিধা একটা গণতান্ত্রিক দেশে একটা অঙ্গ রাজ্য হিসেবে যা প্রাপ্য তা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছে গত ৫ আগস্ট থেকে। ফলে, দেশের নাগরিক হিসেবে তাদের সঙ্গে সুবিচার করা হয়নি এটা বলা যেতে পারে।’

গত ৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মীর থেকে সেরাজ্যের বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ সুবিধা সম্বলিত  ৩৭০ ধারা বিলোপ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।#

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.