Home ইসলাম রাসূলুল্লাহ্ (সা.)এর স্বদেশপ্রেম

রাসূলুল্লাহ্ (সা.)এর স্বদেশপ্রেম

0

।। মুফতী মনির হোসাইন কাসেমী ।।

নিজের দেশকে ভালবাসা, নিজ দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণ মূলক কাজ করা এবং অপরের নিকট নিজ সম্প্রদায়কে ঊর্ধ্বে তুলে ধরা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। আল্লাহর সৃষ্টিগত বিধানে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, যেমনিভাবে মানুষের রক্তে মাংসে, অস্থি মজ্জা, শিরা-উপশিরায় মিশে আছে পিতা-মাতার ভালবাসা, সন্তান-সন্তুতির স্নেহ, প্রেম, ভালবাসা। প্রকৃতগত ভাবেই এরা একে অপরকে কাছে টেনে নেয়। তেমনি ভাবে মানুষ যে ভূখন্ডে জন্ম গ্রহণ করে, সে ভূখন্ডের আলো-বাতাস পেয়ে লালিত পালিত হয়। সে ভূখণ্ডের কথা ভুলতে পারে না, মন থেকে মুছে ফেলতে পারে না কোন দিন। সত্যিকারের দেশ প্রেমিক কখনো নিজের ভূখণ্ডকে অবহেলা বা ঘৃণা করতে পারে না।

রাসূলুল্লাহ্ (সা.) এমন এক সন্ধিক্ষণে আরবের মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন, যখন পৃথিবী অজ্ঞতার অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। সে সময়কে বলা হয়েছে আইয়্যামে জাহিলিয়াতের যুগ। কোথাও শান্তি ছিল না, স্বস্তি ছিল না। নৈরাজ্য আর নৈরাজ্যের মধ্য দিয়ে পৃথিবী নামক গ্রহটির অধিবাসীরা দিনাতিপাত করছিল। বিশেষ করে আরবের অবস্থা ছিল আরো করুণ। সর্বত্রই চলছিল দুর্বলের উপর সবলের জুলুম-অত্যাচার, শোষণ নিপীড়ন, নির্যাতন। তিনি সমাজের এমন কার্যকলাপ দেখে ব্যথিত হতেন। সবল যেন দুর্বলের উপর জুলুম করতে না পারে, প্রবাসীরা যেন নিরাপত্তা লাভ করতে পারে, মানুষ যেন শাস্তি শৃংখলার মধ্য দিয়ে জীবন যাপন করতে পারে, সেই লক্ষ্যে তিনি কিশোর বয়সে হিলফুল ফুজুল নামে একটি শান্তির সংগঠন গড়ে তোলেন। জাহিলিয়াতের গভীর অন্ধকারের মধ্যে এই মহৎ উদ্যোগ মানুষকে আলোর পথ দেখিয়েছিল।

রাসূলুল্লাহ্ (সা.) জন্মের পর থেকে একাধারে তিপ্পান্ন বছর যাবত মক্কা মুয়াজ্জমায় জীবন যাপন করেন। শৈশব কাল থেকেই তাঁর চারিত্রিক মাধুর্য পরিস্ফুট হতে থাকে।

ছল্লিশ বছর বয়সে রাসূলুল্লাহ্ (সা.)এর উপর প্রথম ওহী নাযিল হয়। হেরাগুহায় ধ্যানমগ্ন থাকা কালে অকস্মাৎ হযরত জিবরাঈল (আ.) আল্লাহর প্রত্যাদেশ নিয়ে হাজির হন এবং রাসূলুল্লাহ্ (সা.)এর মুখ থেকে বেরিয়ে আসে, আমি তো পড়তে জানি না। এরপর জিব্রাঈল (আ.) তাঁকে চাপ দিয়ে তিনবার আলিঙ্ঘন করেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সা.) “ইকরা বিসমি রাব্বিকাল্লাজি খালাক…” থেকে ধারাবাহিক পাঁচটি আয়াত পাঠ করেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর দেহের মধ্যে কম্পন শুরু হয়। তিনি আর স্থির থাকতে পারেননি। বাড়ি ফিরে এসে স্ত্রী হযরত খাদীজা (রাযি.)এর নিকট হেরাগুহার সংঘটিত সকল ঘটনা খুলে বলেন। হযরত খাদীজা (রাযি.) একজন ধীশক্তির অধিকারী ছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সা.)কে আশ্বাস দিয়ে বলেন, কখনই না। আল্লাহ্ তাআলা আপনাকে কখনই অপমানিত করবেন না। আপনি তো আত্মীয়তার সম্পর্ক অব্যাহত রাখেন, অভাবীর সঙ্কটের সময়ে আগত অতিথির আপ্যায়ন করেন, বোঝা বহন করেন, নিঃস্বকে উপার্জনক্ষম করে তুলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানবতার সাহায্য সহযোগিতা করেন।

এরপর হযরত খাদিজা (রাযি.) রাসূলুল্লাহ্ (সা.)কে নিয়ে তার চাচাতো ভাই ওয়ারাকা ইবনে নাওফেলের নিকট যান। ওয়ারাকা সব শুনে বললেন, উনি হযরত জিব্রাঈল (আ.), যাকে আল্লাহ্ মূসা (আ.)এর নিকট প্রেরণ করেছিলেন। শুধু তাই নয়, বরং উনি দুঃখ প্রকাশ করলেন, হায়! আমি যদি এই মুহূর্তে যুবক থাকতাম। হায়! আমি যদি জীবিত থাকতাম, যখন তোমার জাতি তোমাকে (জন্মভূমি মক্কা থেকে) বের করে দেবে।

একথা শুনে রাসূলুল্লাহ্ (সা.) রীতিমত উৎকণ্ঠিত কণ্ঠে জানতে চাইলেন, সত্যিই তারা কি আমাকে বের করে দেবে? প্রতুত্তরে ওয়ারাকা বললেন, হ্যাঁ, তারা সত্যিই তোমাকে বের করে দেবে। তুমি যে রিসালত নিয়ে পৃথিবীতে এসেছ, এরূপ কিছু নিয়ে ইতিপূর্বে যে বক্তিই এসেছিল তার সঙ্গে এরূপ আচরণ করা হয়েছে, তোমার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সময় পর্যন্ত আমি বেঁচে থাকলে আমি তোমাকে সাহায্য সহযোগীতা করবো। (সহীহ বুখারী১/২-৩ পৃষ্ঠা)।

বাড়ি ফেরার পর থেকে হযরত ওয়ারাকার পূর্বাভাস কেন জানি রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। সার্বক্ষণিকভাবে তাঁর মনে জাগরুক হচ্ছিল, সত্যিই কি তাঁকে মক্কা ছেড়ে চলে যেতে হবে? কিন্তু কোথায় যেতে হবে?

কালের বিবর্তনে একদিন সত্যি সত্যিই তাঁকে জন্মভূমি ছাড়তে হয়েছে। তাই বলে জন্মভূমিকে ভুলতে পারেননি কখনো। স্বদেশ প্রেম ও ভালবাসা বিস্মৃত হয়নি কোন দিন তাঁর মন থেকে। হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত, মহান আল্লাহর নির্দেশে যখন তিনি মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করেছিলেন, তখন তিনি মক্কাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তুমি কতই না উত্তম নগরী। হে মক্কা! তুমি কতই না প্রিয়। আমার ক্বওম যদি আমাকে তোমার কোল থেকে বের করে না দিত, তাহলে আমি তোমাকে ছেড়ে কখনোই অন্যত্র যেতাম না।

হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে সাদী ইবনে হামরা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এক দিন রাসূলুল্লাহ্ (সা.)কে খায়ওয়ারাহ্ নামক স্থানে দাঁড়ানো দেখতে পেলাম। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! হে মক্কা, তুমি আল্লাহর ভূ-খণ্ডগুলির মধ্যে সর্বোত্তম। তুমি আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয় অন্যান্য ভূখণ্ড থেকে। আমি যদি তোমার কোল থেকে বহিষ্কৃত না হতাম, আমি তোমার কোল থেকে বের হয়ে যেতাম না।

স্মর্তব্য, বারংবার মনে উদ্ভূত তার দেশপ্রেম মহান রাব্বুল আলামীনের অজানা ছিল না। তাই তিনি তাঁর প্রিয়নবীকে আশ্বাস বাণী শুনিয়ে দিলেন এই বলে, “নিশ্চয়ই তোমার প্রতি যিনি কুরআনকে বিধান হিসেবে দিয়েছেন, তিনি (আল্লাহ্) তোমাকে পুণরায় প্রত্যাবর্তন স্থলে (জন্মভূমি মক্কায়) ফিরিয়ে আনবেন”। (সূরা কাসাস-৮৫ আয়াত)।

রাসূলুল্লাহ্ (সা.)এর জন্মভূমি মক্কা। আর আল্লাহর নির্দেশেই তাঁকে যেতে হয় মদীনায়। মদীনা তার আবাস ভূমি। এই মদীনাকে কেন্দ্র করেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন একটি ইসলামী কল্যাণময় রাষ্ট্র। ফলশ্রুতিতে মক্কা ও মদীনা মিলে তাঁর ক্ষেত্র হয় সু-প্রসারিত। কাজেই তাঁর স্বদেশ প্রেম মানে মক্কা প্রেম। মক্কা মুকাররমার মাটি ও মানুষের প্রেম। তাঁর স্বদেশ মানে মদীনা প্রেম। মদীনার আলো-বাতাস পাহাড় পর্বত প্রভৃতির প্রেম।

স্বদেশ হিসেবে রাসূলুল্লাহ্ (সা.)এর মধ্যে গভীর মদীনা প্রেম যে ছিল, তার অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। স্বদেশ হিসেবে মদীনার অর্থনৈতিক উন্নয়নে তথা মদীনাবাসির সুখ-শান্তি সমৃদ্ধির জন্য তিনি সব সময় সচেষ্ট ছিলেন। তিনি মদীনা বাসীদের জন্য এই বলে দুআ করতেন, হে আল্লাহ্! তুমি আমাদের প্রবৃদ্ধিদান কর, আমাদের ফল-ফসলে প্রবৃদ্ধি দান কর, আমাদের তৈজষপাত্র ও পরিমাপ পাত্রে বরকত দান কর এবং আমাদের এই নগরীকে নিরাপদ ও প্রশান্তিময় কর। (মুসলিম শরীফ)।

তিনি আরো দুআ করতেন, হে আল্লাহ্! ইব্রাহীম (আ.) তোমার বান্দা, তোমার বন্ধু ও তোমার নবী। আর আমি হচ্ছি তোমার বান্দা ও তোমার নবী। তিনি তোমার কাছে মক্কার জন্য দুআ করেছেন, আমি তোমার কাছে মদীনার জন্য দুআ করছি।

প্রিয় নবী (সা.) মদীনাকে এত গুরুত্ব দিতেন যে, কেউ মদীনা ত্যাগ করে অন্যত্র গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করুক, তিনি তা পছন্দ করতেন না। মদীনা বাসিদের জন্য যে মদীনা কল্যাণকর, তা তিনি দ্ব্যার্থহীনভাবে প্রচার করতেন। কেননা, তিনি তা সম্যক অবহতি ছিলেন।

হযরত সুফইয়ান ইবনে আবু সুহায়ব (রাযি.) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)কে বলতে শুনেছি- এক দিন ইয়ামান বিজিত হবে এবং সেখানে (স্থায়ীভাবে বসবাস করার জন্য) মদীনার একদল লোক সঙ্গে নিয়ে যাবে তাদের পরিবার পরিজন ও অনুসারীদের। কিন্তু মদীনাই তাদের জন্য উত্তম, যদি তারা তা জানত। ইরাকও একদিন বিজয় হবে এবং সেখানে (বসবাসের জন্য) মদীনার একদল লোক ইরাকে যাবে এবং সঙ্গে নিয়ে যাবে তাদের পরিবার পরিজন ও অনুসারীদের। কিন্তু মদীনাই তাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তারা তা জানতো। (মুসলিম শরীফ ও বুখারী শরীফ)।

স্বদেশের প্রতি মানুষের সহজাত একটা টান থাকে। নিজেদের আবাস ভূমি ছেড়ে দীর্ঘকাল অন্যত্র অবস্থান করার পর একদিন যখন নিজেদের জায়গায় ফিরে আসে, তখন সে এক আনাবিল আনন্দে আপ্লুত হয় এবং মনপ্রাণ প্রশান্তিতে ভরে যায়। হযরত আনাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সা.) যখনই প্রবাস থেকে মদীনায় উপনিত হতেন, তিনি মদীনার প্রাচীরগুলোর দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে অবলোকন করতেন। এ সময়ে তিনি তার সাওয়ারী উটকে দ্রুত চলার জন্য তাড়া করতেন। যদি তিনি ঘোড়া কিংবা খচ্চর জাতীয় সাওয়ারীর পিঠে থাকতেন, তখন মদীনা প্রেমের উচ্ছাসে তিনি তাকে তড়িৎ চলতে তাড়া করতেন। (মুসলিম ও বুখারী শরীফ)।

উল্লিখিত বর্ণনায় সন্দেহাতীতভাবে প্রতিয়মান হয় যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা.) অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে স্বদেশকে ভাল বাসতেন। সনদের বিচারে নির্ভরযোগ্য না হলেও অর্থগতভাবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ কথিত একটি হাদীস আছে, “হুব্বুল ওয়াতানে মিনাল ঈমান”, অর্থাৎ- স্বদেশপ্রেম ঈমানের অংশ।

স্মর্তব্য, দেশের মাটি ও মানুষ, দেশের আকাশ, দেশের প্রকৃতি পরিবেশ প্রভৃতির সব কিছুতেই হৃদয়ের ভালবাসা সঞ্চারিত হতে পারে। দেশের নদ-নদী, পাহাড়-পর্বত, বৃক্ষরাজিও হতে পারে ভালবাসার পাত্র।

মদীনার ওহুদ পর্বত এক দুঃখজনক ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত পাহাড়। হযরত আনাস (রাযি.)এর এক বর্ণনায় জানা যায়, তিনি বলেন, ওহুদ পাহাড় রাসূলুল্লাহ্ (সা.)এর দৃষ্টি গোচর হলেই বলতেন, এই পাহাড় আমাদের ভাল বাসে, আমরাও ভালবাসি এই পাহাড়কে। হে আল্লাহ্! ইব্রাহীম (আ.) মক্কাকে হারাম (পবিত্র সম্মানিত) করেছেন, আমি হারাম ঘোষণা করছি মদীনাকে এবং মদীনার মধ্যবর্তী স্থলকে। (তিরমিযী শরীফ)।

রাসূলুল্লাহ্ (সা.) স্বদেশের মানুষের প্রতি কতখানি উদার ও ভালবাসা পরায়ণ ছিলেন, তাঁর স্বাক্ষর মেলে মক্কা বিজয়কে বিচার বিশ্লেষণ করলে। যে মক্কাবাসী দীর্ঘ বিশ একুশ বছর তাঁর প্রতি যে অমানুষিক আচরণ করেছিল, সর্বশক্তি প্রয়োগ করে তাঁর প্রতি ও তাঁর অনুসারীদের প্রতি জুলুম নির্যাতন চালিয়েছিল, সেই মক্কা বাসীদের উপর প্রতিশোধ নেবার সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও তিনি তাদেরকে নিঃশর্ত ক্ষমা করে দেন। আবু সুফিয়ান, হিন্দ, ওয়াহশীর মত পরম শত্রুকেও তিনি বুকে টেনে নেন। মক্কাবাসীরা যে মুহূর্তে জীবন নামের আশংকায় শংকিত, সেই মহূর্তে রাসূলুল্লাহ্ (সা.)এর কণ্ঠে উচ্চারিত হল, তোমাদের প্রতি আজ আমার কোন অভিযোগ নেই। নেই কোন প্রতিশোধের ইচ্ছে, যাও তোমরা স্বাধীন মুক্ত। কী বিস্ময়কর!

এই সংঘাতময় পৃথিবীতে যদি আজ আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সা.)কে অনুসরণ ও তাঁর সকল কিছুই অনুকরণ করতে পারি, তথা আমাদের জীবনে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের বিধানগুলো প্রতিফলিত হয়, তবে দেশের অভ্যন্তরীণ জাতিগত ঐক্য, সামাজিক সহনশীলতা, শান্তি, সম্প্রীতি ও সংহতিপূর্ণ পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় হতে বাধ্য।

কাজেই আসুন, আমরা প্রত্যেকেই দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হই। অতীত ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ তথা দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাই। আল্লাহ্ তাআলা প্রত্যেককেই খাঁটি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করার তাওফীক ইনায়েত করুন। আমীন॥

লেখকঃ ফাযেলে দারুল উলূম দেওবন্দ, মুহাদ্দিস- জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা এবং যুগ্মমহাসচিব- জামিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.